অতীতের ঘাঁটিতেও ‘ভোটশূন্য’ বিএনপি

রেজা করিম
 | প্রকাশিত : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:০০

নবম সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে বিপর্যয়ের মধ্যেও লক্ষ্মীপুরের চারটির সব কটি, নোয়াখালীর ছয়টির তিনটি আর ফেনীর তিনটির প্রতিটি আসনেই জেতে বিএনপি। ভোটের ব্যবধানও ছিল অনেক বেশি। কিন্তু এবার সব কটি আসনেই বিএনপির ভোট একেবারেই তলানিতে।

একই ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, বরিশালের বিভিন্ন আসনে, যেগুলোতে বিএনপিকে হারানোই কঠিন ছিল অথবা দলটি ছিল আওয়ামী লীগের সমানে সমান।

রবিবারের ভোটে দেশের ১৪৫টি আসনে বিএনপি ও তার জোটের প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশেরও কম। আর এই পরিমাণ ভোট না পেলে প্রার্থীদের জমা দেওয়া জামানত ফেরত পান না। টাকার অঙ্কে এই জামানত বেশি নয়। তবে এটি বিব্রতকর হয় প্রার্থীদের জন্য। এদের মধ্যে বিএনপির নিজের প্রার্থী ১১৯ জন আর শরিক দলের ২৬ জন।

রবিবারের ভোটে সারা দেশেই বলতে গেলে ভরাডুবি হয়েছে বিএনপির। ধানের শীষ নিয়ে জিতেছেন কেবল ছয়জন প্রার্থী। এর মধ্যে বগুড়া-৪ ও ৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ও ৩ এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জেতেন বিএনপির প্রার্থী। আর ধানের শীষ নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে জেতেন গণফোরামের প্রার্থী।

এর বাইরে সিলেট-২ আসনে বিএনপির সমর্থনে গণফোরাম আর বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির সমর্থনে জেতেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। বাকি আসনগুলোর মধ্যে ঠাকুরগাঁও-১, দিনাজপুর-৫, কুড়িগ্রাম-১, লালমনিরহাট-৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, রাজশাহী-২, গাজীপুর-২, কুমিল্লা-১ আসনেই কেবল বলার মতো লড়াই করতে পেরেছেন ধানের শীষের প্রার্থী।

দেড় শটির বেশি আসনে আওয়ামী লীগ অথবা তার শরিক এবং বিএনপি ও তার শরিকের মধ্যে ব্যবধান ছিল আকাশ-পাতাল। যারা জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনের রক্ষা হয়েছে সামান্য ভোটে।

বিএনপি অবশ্য দাবি করেছে, এই ভোট সুষ্ঠু হয়নি। তাদের প্রার্থীদের রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে হারানো হয়েছে।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তার আসনে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০ শতাংশ কম ভোট পাওয়ার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার আগের ভোট গেল কোথায়? আমি যে দীর্ঘ মিছিল করলাম, সেই ভোট কোথায়?’

রংপুর বিভাগে জামানত হারিয়েছেন যারা

এই বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার শরিকরা জামানত হারিয়েছে পাঁচটিতে। জিতেছে একটিতে। এদের দুজন শরিক দলের।

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জামায়াতের আব্দুল হাকিম, রংপুর-১ আসনে নাগরিক ঐক্যের শাহ রহমতউল্লাহ ভোট পেয়েছেন সাড়ে ১২ শতাংশের কম।

বিএনপির তিন নেতা হলেন: লালমনিরহাট-১ আসনের হাসান রাজীব প্রধান, রংপুর-৬ আসনে বিএনপির সাইফুল ইসলাম এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে বিএনপির ফারুক আলম সরকার।

রাজশাহী বিভাগে ১৫ জন

এই বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে বিএনপি জিতেছে চারটিতে। আর একটি আসনে বিএনপির সমর্থনে জিতেছেন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ১৫টিতে একেবারেই ভরাডুবি হয়েছে দল ও জোটের প্রার্থীদের। আর দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থীই ছিল না। এদের দুজন জামায়াতের এবং একজন গণফোরামের প্রার্থী।

জয়পুরহাট-২ আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত জয়ী আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান এবার ভোট পেয়েছেন ২৬ হাজার ১২০টি। এই ভোট জামানত রক্ষার মতো যথেষ্ট নয়।

২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো বগুড়া-১ আসন হারানো বিএনপি সেখানে ইতিহাসের সর্বনি¤œ ভোট পেয়েছে। ধানের শীষের কাজী রফিকুল ইসলামের পক্ষে পড়েছে কেবল ১৬ হাজার ৬১৩ ভোট।

১৯৯১-এর পর ২০০৮ সালে প্রথমবার হারা রাজশাহী-৪ আসনের আবু হেনা, নাটোর-১ আসনের কামরুন্নাহার, নাটোর-৩ আসনের দাউদার রহমান, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের আব্দুল মান্নান তালুকদার, পাবনা-৫ আসনের ইকবাল হোসাইন (জামায়াত), সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের এম এ মুহিতকে মনোনয়ন দিয়েও ভরাডুবি হয়েছে বিএনপির। এই প্রার্থীদের কেউও ফেরত পাবেন না জামানতের টাকা।

নাটোর-২ আসনের সাবিনা ইয়াসমিন, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের কনকচাঁপা, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের রুমানা মাহমুদ, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের রফিকুল ইসলাম খান (জামায়াত), সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের আমিরুল ইসলাম খান, পাবনা-১ আসনের আবু সাইয়িদ (ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী), পাবনা-২ আসনের এ কে এম সেলিম রেজা হাবিবও হারিয়েছেন জামানত। এই আসনগুলোর মধ্যে সিরাজগঞ্জ-১ ছাড়া বাকিগুলোতে বরাবর লড়াই হতো।

খুলনা বিভাগের ৩০টিই তলানিতে

এই বিভাগের ৩৬টি আসনের ৩০টিতেই জামানত হারিয়েছেন বিএনপি ও তার জোটের প্রার্থীরা। এদের ২০ জন বিএনপির। ১০ জন জোটের শরিক।

বাকি ছয়টির একটিতে জোটের কোনো প্রার্থী ছিল না। জামানত বেঁচেছে কেবল খুলনা-১, ২, ৩, সাতক্ষীরা-২ ও মাগুরা-২ আসনের প্রার্থীদের।

একাধিকবারের সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণ মেহেরপুর-১ আসনে ফেরত পাবেন না জামানতের টাকা। মেহেরপুর-২ আসনের জাভেদ মাসুদও তা-ই।

১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের মতো কুষ্টিয়ার চারটি আসনের দখল বিএনপি হারায় ২০০৮ সালে। এবার কুষ্টিয়া-১ আসনে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, কুষ্টিয়া-২ আসনে আহসান হাবিব লিংকন (বিএনপির শরিক জাতীয় পার্টির একাংশের নেতা), কুষ্টিয়া-৩ আসনে জাকির হোসেন সরকার, কুষ্টিয়া-৪ আসনে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমিও ভোট পেয়েছেন নগণ্য পরিমাণ।

চুয়াডাঙ্গার দুটি, ঝিনাইদহের চারটির তিনটি আসন ২০০৮ সালেই প্রথমবারের মতো হাতছাড়া হয় বিএনপির। এবার ছয়টি আসনেই জামানত ফেরত পাওয়ার মতো ভোট পাননি জোটের প্রার্থীরা।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের শরিফুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের মাহমুদ হাসান খান, ঝিনাইদহ-১ আসনের আসাদুজ্জামান, ঝিনাইদহ-৩ আসনের মতিয়ার রহমান (জামায়াত), ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাইফুল ইসলাম ফিরোজও ভোট পেয়েছেন সাড়ে ১২ শতাংশের কম।

যশোর-১ আসনের মফিকুল হাসান তৃপ্তি, যশোর-২ আসনের আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদাৎ হুসাইন (জামায়াত), যশোর-৩ আসনের অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর-৪ আসনের টি এস আইয়ুব, যশোর-৫ আসনের মুহাম্মাদ ওয়াক্কাস (২০ দলের শরিক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম), যশোর-৬ আসনের আবুল হোসেন আজাদও ভোট পেয়েছেন অস্বাভাবিক রকম কম।

এই ছয়টি আসনের মধ্যে যশোর-১ আসনে বিএনপি কেবল ২০০১ সালে জিতেছিল। বাকি আসনগুলোতে সব সময় লড়াই হয়েছে।

মাগুরা-১ আসনের মনোয়ার হোসেন, নড়াইল-১ আসনের বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, নড়াইল-২ আসনের এ জেড এম ফরিদুজ্জামানও (এনপিপি) জামানত ফেরত পাওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভোট পাননি।

বাগেরহাট-১ আসনের শেখ মাসুদ রানা, বাগেরহাট-২ আসনের এম এ সালাম, বাগেরহাট-৩ আসনের আব্দুল ওয়াদুদ শেখ (জামায়াত), বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলীম (জামায়াত), খুলনা-৪ আসনের আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের মিয়া গোলাম পরওয়ার (জামায়াত), খুলনা-৬ আসনের আবুল কালাম আজাদও (জামায়াত) ভোট পেয়েছেন নগণ্য পরিমাণে।

এই আসনগুলোর সিংহভাগে বিএনপি-জামায়াতের শক্তি এমনিতেই কম। তবে বাগেরহাট-২ আসনে ৯১ থেকে দুবার এবং বাগেরহাট-৪, খুলনা-৫ ও ৬ আসনে ২০০১ সালে জিতেছিল এই জোট।

সাতক্ষীরা-১ আসনে হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা-৩ আসনে শহিদুল আলম এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে জি এম নজরুল ইসলামও (জামায়াত) ফেরত পাবেন না জামানতের টাকা। এই তিনটি আসনেই জোটের শক্তি বেশ ভালো।

বরিশাল বিভাগে জামানত রক্ষা কেবল একটিতে

২১টি আসনের মধ্যে কেবল বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। যারা জামানত হারিয়েছেন, তাদের তিনজন জোটের প্রার্থী।

বাকি সবাই ভোট পেয়েছেন একেবারেই নগণ্য পরিমাণ। এর মধ্যে বরিশাল-৫ আসনে ২০০৮ সালেও বিএনপি জয় ধরে রাখতে পেরেছিল।

বরিশাল-১ আসনের জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-২ আসনের সরদার শরফুদ্দিন আহমেদ, বরিশাল-৪ আসনের জে এম নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর, বরিশাল-৬ আসনে আবুল হোসেন খানও ভোট পেয়েছেন নগণ্য।

বরগুনা-১ আসনের মতিয়ার রহমান তালুকদার, বরগুনা-২ আসনের খন্দকার মাহবুব হোসেন; পটুয়াখালী-১ আসনের আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ আসনের সালমা আলম, পটুয়াখালী-৩ আসনের গোলাম মাওলা রনি, পটুয়াখালী-৪ আসনের এ বি এম মোশাররফ হোসেন, ভোলা-১ আসনের গোলাম নবী আলমগীর, ভোলা-২ আসনের হাফিজ ইব্রাহীম, ভোলা-৩ আসনের হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভোলা-৪ আসনের নাজিম উদ্দিন আলম, ঝালকাঠি-১ আসনের শাহজাহান ওমর, ঝালকাঠি-২ আসনের জীবা আমিনা খান, পিরোজপুর-১ আসনের শামীম সাঈদী (জামায়াত) এবং পিরোজপুর-২ আসনের মোস্তাফিজুর রহমানও (২০ দলের শরিক লেবার পার্টি) হারিয়েছেন জামানত।

ময়মনসিংহ বিভাগে জামানত রক্ষা চারটিতে

এই বিভাগের ২৪টি আসনের মধ্যে বিএনপি পায়নি একটিও। জামানত রক্ষা করতে পেরেছে কেবল পাঁচটিতে। এগুলো হলো ময়মনসিংহ-২, ৪, ৭, ৮ ও নেত্রকোনা-৪। বাকি আসনগুলোর দুটিতে বিএনপির বা তার জোটের প্রার্থী ছিল না। আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয় প্রার্থিতা।

ময়মনসিংহ জেলার যে কয়টি আসনে জামানত রক্ষার মতো ভোট পায়নি ধানের শীষ, সেগুলো হলো ময়মনসিংহ-১ (আফজাল এইচ খান), ময়মনসিংহ ৩ (এম ইকবাল হোসাইন), ময়মনসিংহ-৫ (জাকির হোসেন), ময়মনসিংহ-৬ (শামছ উদ্দীন আহমেদ), ময়মনসিংহ-৯ (খুররম খান চৌধুরী), ময়মনসিংহ-১০ (ধানের শীষ নিয়ে এলডিপির সৈয়দ মাহমুদ মোরশেদ), ময়মনসিংহ-১১ (ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু)।

নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের মধ্যে নেত্রকোনা-১ (কায়সার কামাল), নেত্রকোনা-২ (আনোয়ারুল হক), নেত্রকোনা-৩ রফিকুল ইসলাম হিলালী, নেত্রকোনা-৫ (আবু তাহের তালুকদার) ভোট পেয়েছেন সাড়ে ১২ শতাংশের কম।

জামালপুরের যে তিনটি আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন, তাদের তিনজনই হারিয়েছেন জামানত। তারা হলেন জামালপুর-২ আসনের এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু, জামালপুর-৩ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এবং জামালপুর-৫ আসনের ওয়ারেস আলী মামুন।

শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন, শেরপুর-২ আসনের ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর-৩ আসনের মাহমুদুল হক রুবেলও ভোট পেয়েছেন সাড়ে ১২ শতাংশের কম।

ঢাকা বিভাগ

ঢাকা বিভাগের ৭০টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার জোটের শরিকরা জামানত ফেরত পাওয়ার মতো ভোট পাননি ৩৭ আসনে। তাদের দুজন শরিক দলের। এই বিভাগে তিনটি আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিল না।

টাঙ্গাইলের আটটি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন সাড়ে ১২ শতাংশের কম। তারা হলেন টাঙ্গাইল-১ আসনের শহীদুল ইসলাম সরকার, টাঙ্গাইল-২ আসনের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৩ আসনের লুৎফর রহমান খান আজাদ এবং টাঙ্গাইল-৬ আসনের গৌতম চক্রবর্তী।

ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে মহানগরের ১৫টি আসনেই জামানত রক্ষা করতে পেরেছে বিএনপি। ঢাকা-১ ও ঢাকা-২০ আসনে দলটির প্রার্থী ছিল না। বাকি দুই প্রার্থী ঢাকা-২-এর ইরফান ইবনে আমান, ঢাকা-৩ আসনের গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ঢাকা-১৯ আসনে দেওয়ান সালাহউদ্দিন আহমেদ বাবুও টাকা ফেরত পাবেন না। এই তিন আসনেই ৯১ সাল থেকে কেবল ২০০৮ সালে হেরেছিল বিএনপি।

গাজীপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে গাজীপুর-৩-এর ইকবাল সিদ্দিকী (ঐক্যফ্রন্ট), গাজীপুর-৪-এর শাহ রিয়াজুল হান্নান এবং গাজীপুর-৫ আসনের এ কে এম ফজলুল হক মিলন ভোট পেয়েছেন সাড়ে ১২ শতাংশের কম।

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১-এর কাজী মনিরুজ্জামান মনির, নারায়ণগঞ্জ-২-এর নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩-এর আজহারুল ইসলাম মান্নান পাবেন না জামানতের টাকা।

মুন্সিগঞ্জের তিনটি আসনের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ-২-এর মিজানুর রহমান সিনহা এবং মুন্সিগঞ্জ-৩-এর আবদুল হাই ভোট পেয়েছেন সাড়ে ১২ শতাংশের কম।

নরসিংদীর পাঁচটি আসনের মধ্যে একটিতে বিএনপির প্রার্থী ছিল না। বাকি চারটির মধ্যে নরসিংদী-১ আসনে খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-২ আসনে আবদুল মঈন খান, নরসিংদী-৪ আসনে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং নরসিংদী-৫ আসনে আশরাফ উদ্দিন ফেরত পাবেন না জামানতের টাকা।

কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে নগণ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। তারা হলেন কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সাইফুল ইসলাম (জেএসডি), কিশোরগঞ্জ-৪-এর ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৫-এর শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল এবং কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের শরিফুল ইসলাম।

বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলার ১৫ আসনের একটিতেও টেকেনি বিএনপির জামানত। প্রার্থীরা হলেন ফরিদপুর-১ আসনের শাহ মো. আবু জাফর, ফরিদপুর-২ আসনের শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ আসনের চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম; গোপালগঞ্জ-১ আসনের এফ ই শরফুজ্জামান, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এস এম জিলানী; মাদারীপুর-১ আসনের সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী, মাদারীপুর-২ আসনের মিল্টন বৈদ্য, মাদারীপুর-৩ আসনের আনিসুর রহমান খোকন; শরীয়তপুর-১ আসনের সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন, শরীয়তপুর-২ আসনের শফিকুর রহমান কিরণ, শরীয়তপুর-৩ আসনের মিয়া নুরুদ্দীন অপু; রাজবাড়ী-১ আসনের আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের নাসিরুল হক সাবু।

সিলেট বিভাগ

ভোট প্রাপ্তির দিক থেকে বিএনপি ও তার জোটের প্রার্থীরা সবচেয়ে ভালো করেছেন এই বিভাগে। ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই তারা বেশ ভালো সংখ্যায় ভোট পেয়েছেন। ২০০৮ সালে একটি আসনেও না জিতলেও ঐক্যফ্রন্টের সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে প্রার্থী করে জিতে নিয়েছে মৌলভীবাজার-২ আসন।

এই বিভাগে ধানের শীষ নিয়ে জামানত হারিয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমাদ আবদুল কাদের।

চট্টগ্রাম বিভাগ

এই বিভাগের ১১ জেলার ৫৮টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার জোটের ৪০ জন নেতা হারিয়েছেন জামানত। এদের মধ্যে শরিক দলের প্রার্থী সাতজন। বাকিরা বিএনপির নিজের প্রার্থী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনের মধ্যে একটিতে ভোট স্থগিত। সেখানে এগিয়ে বিএনপি। বাকি পাঁচটির মধ্যে চারটিতে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন তিনজন। তাদের সবাই হারিয়েছেন জামানত। তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের খালেদ হোসেন মাহমুদ শ্যামল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের নাজমুল হোসেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের আবদুল খালেক।

চাঁদপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে চাঁদপুর-৪ আসনে জামানত বাঁচাতে পেরেছেন বিএনপির হারুন অর রশীদ। বাকিগুলোতে দাঁড়াতেই পারেননি বিএনপির প্রার্থীরা। তারা হলেন মোশাররফ হোসেন (চাঁদপুর-১), জালালুদ্দিন (চাঁদপুর-২), শেখ ফরিদ আহম্মেদ (চাঁদপুর-৩) এবং মমিনুল হক (চাঁদপুর-৫)।

বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান থাকা কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে দলটির প্রার্থীরা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন কেবল কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-৯ আসনে।

১৯৯১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ প্রথমবারের মতো দখল পেল কুমিল্লা-২ ও ৩ আসনে। কুমিল্লা-১ আসনটি ২০০৮ সালে প্রথম দখলে নেয় দলটি।

কুমিল্লা-২ আসনের মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা-৩ আসনের এ কে এম মুজিবুল হক, কুমিল্লা-৪ আসনের আব্দুল মালেক রতন (জেএসডি), কুমিল্লা-৫ আসনের মো. ইউনুস, কুমিল্লা-৬ আসনের আমিনুর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা-৭ আসনের রেদোয়ান আহমেদ (এলডিপি), কুমিল্লা-৯ আসনের আনোয়ারুল আজিম, কুমিল্লা-১০ আসনের মনিরুল হক চৌধুরী এবং কুমিল্লা-১১ আসনের সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (জামায়াত) খুইয়েছেন জামানত।

বৃহত্তর নোয়াখালীতে বিএনপির জনপ্রিয়তা সব সময় বেশি ছিল। আওয়ামী লীগ নানা সময় কেবল ফেনী-২, নোয়াখালী-৫ ও ৬ আসন পেয়েছিল। ৭৩ সালের পর প্রথমবারের মতো তারা দখল পায় নোয়াখালী-৪ আসন। এবার ১৩টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের বলতে গেলে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে দলটি। এর মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন কেবল লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে (আ স ম আবদুর রব)।

বাকি প্রার্থী নোয়াখালী-১-এর এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২-এর জয়নাল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী-৩-এর বরকত উল্লাহ বুলু, নোয়াখালী-৪ আসনের শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের মওদুদ আহমদ, নোয়াখালী-৬ আসনের ফজলুল আজিম; লক্ষ্মীপুর-১ আসনের শাহাদাত হোসেন সেলিম (এলডিপি), লক্ষ্মীপুর-২ আসনের আবুল খায়ের ভুঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ফেনী-১ আসনের রফিকুল ইসলাম মজনু, ফেনী-২ আসনের জয়নাল আবেদীন, ফেনী-৩ আসনের আকবর হোসেন ভোট পেয়েছেন সাড়ে ১২ শতাংশের কম।

চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি অথবা তার জোটের প্রার্থীরা জামানত বাঁচাতে পেরেছেন চট্টগ্রাম-২, ৫, ৮, ১০, ১১ ও ১২ আসনে। চট্টগ্রাম-১ আসনের নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তাফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ আসনের জসিমুদ্দিন শিকদার, চট্টগ্রাম-৭ আসনের নুরুল আলম (এলডিপি), চট্টগ্রাম-৯ আসনের শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের অলি আহমেদ (এলডিপি) এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনের জাফরুল ইসলাম চৌধুরী তা পারেননি।

এসব আসনের মধ্যে ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম-১৪ ও ১৫ প্রথমবারের মতো পেয়েছে আওয়ামী লীগ।

কক্সবাজারের চারটি আসনের মধ্যে জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়া একটি আসনে জামানত বাঁচাতে পারেননি জামায়াতের এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

তিন পার্বত্য আসনের মধ্যে রাঙামাটি আসনে বিএনপির মনি স্বপন দেওয়ান ৩১ হাজার ১৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত