ফরাস, মশিউর, মুস্তফা না মান্নান

নিজস্ব প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:২৭

নতুন মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন, এই আলোচনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পদটি নিয়ে। এই পদে দায়িত্ব পেতে পারেন এমন বেশ কয়েকজনকে নিয়ে আছে আলোচনা। এত দিন আলোচনায় না থাকলেও বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকেও রাখতে হচ্ছে বিবেচনায়।

দুই মেয়াদ পর অর্থমন্ত্রীর পদে এবার নতুন মুখ আসছে, এটা অনুমিত ছিল ভোটের আগে থেকেই। কারণ আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদ থেকে বিদায় নিয়েছেন, অংশ নেননি নির্বাচনেও। তার আসনে জিতেছেন ছোটভাই এ কে আবদুল মোমেন। ধারণা করা হচ্ছিল, মুহিত আর থাকছেন না মন্ত্রিসভায়। তবে মঙ্গলবার তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে আরও এক বছর দায়িত্ব পালন করতে চান। সে ক্ষেত্রে তার মেয়াদ বাড়তেও পারে।

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে অর্থমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মুহিত। তিনি এখন পর্যন্ত ১২ বার বাজেট দিয়েছেন। বর্তমান সরকারের আমলে ১০টি আর আশির দশকে এরশাদ শাসনামলে দুটি। বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানও সমানসংখ্যক বাজেট দিয়েছেন। আর এক বছর দায়িত্ব পালন করলে তার ১৩টি বাজেট দেয়ার রেকর্ড হবে।

তবে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, মুহিতই থাকছেন, এই বিষয়টি নিশ্চিত নয়। অন্য যে নামগুলো আলোচনায় আছে তারা হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।

ফরাসউদ্দিন

অর্থমন্ত্রী হিসেবে এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনা ফরাসউদ্দিনকে নিয়ে। তিনি এবার হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে ভোটে লড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন পাননি।

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ছিলেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি ১৯৯৮ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিস কমিশনের (আইসিএসসি) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্যও।

আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আস্থাভাজন ফরাসউদ্দিন। তাকে প্রধান করেই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের তদন্ত করা হয়েছে। তাকে মনোনয়ন দিতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী। নিশ্চয় তার জন্য একটা বিকল্প ভেবে রাখা হয়েছে।’

ফরাসউদ্দিনকে মন্ত্রী করলে করতে হবে টেকনোক্র্যাট কোটায়। এই কোটায় আওয়ামী লীগ এর আগেও অর্থমন্ত্রী করেছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা শাহ এ এম এস কিবরিয়া সংসদ সদস্য ছিলেন না। তবে পরবর্তী ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকে জেতেন তিনি।

মোস্তফা কামাল

মুহিত না হলে বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি গত পাঁচ বছর ধরে মন্ত্রিসভায় আছেন। তার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই মন্ত্রণালয়কে আলাদা করা হয়।

কামালের ঘনিষ্ঠ একজন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পরিকল্পনামন্ত্রী নিজেও অর্থমন্ত্রী হতে আগ্রহী। আর তিনি যেহেতু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন, তাই এই পদ সামলানো তার জন্য কঠিন হবে না।’

মুস্তফা কামাল কুমিল্লা-১০ আসন থেকে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য। তিনি আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক পদে আছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও মুস্তফা কামালের সুনাম আছে। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ছিলেন। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সহ-সভাপতি ছিলেন। পরে হন সভাপতি।

মশিউর রহমান

খুলনার সন্তান মশিউরকে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাকালে দলের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নে তার ভূমিকা ছিল। ২০০৮ সালের ইশতেহার দিনবদলের সনদের অনেক কিছুই মশিউরের চিন্তাপ্রসূত।

মশিউর ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা হন। অর্থনীতিবিদ হিসেবে তিনি দেশে-বিদেশে সমাদৃত। তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭২-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব।

পদ্মা সেতু প্রকল্পেও যুক্ত ছিলেন মশিউর রহমান। নিজ অর্থে সেতু নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে তিনিই প্রথম জোরালো অবস্থান নেন। পরে অবশ্য বিশ্বব্যাংকের নানা টানবাহানার মুখে এই সেতু প্রকল্প থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান তিনি।

এম এ মান্নান

সাবেক সরকারি চাকুরে এই নেতা গত পাঁচ বছর ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন মুহিতের ডেপুটি হিসেবে। ফলে এই মন্ত্রণালয়ের কাজের নানা ধরন তার জানা হয়ে গেছে।

পাকিস্তান আমলে মান্নান যোগ দেন সরকারি চাকরিতে। বাংলাদেশ শাসনামলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক এবং এনজিও ব্যুরোতে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মান্নান ইকোনমিক মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেনেভায় অবস্থিত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে। ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যানও।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন। নবম সংসদে তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অর্থ প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :