ভিকারুননিসায় অধ্যক্ষ নিয়োগ ঠেকাতে ষড়যন্ত্র!

মহিউদ্দিন মাহী
 | প্রকাশিত : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০৮:৫১

সম্প্রতি এক ছাত্রীর আত্মহত্যার কারণে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসা রাজধানীর নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ ঠেকাতে নানা তৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের শেষদিকে অধ্যক্ষ নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পর থেকে একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রভাবশালী ওই মহল অধ্যক্ষ নিয়োগ ঠেকাতে মন্ত্রণালয়সহ নানা জায়গায় তৎপরতা চালাচ্ছে। স্কুলটির শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের আশঙ্কা, এই অপতৎপরতায় বহুল প্রত্যাশিত স্থায়ী অধ্যক্ষ থেকে বঞ্চিত হতে পারে ভিকারুননিসা। যদিও অধ্যক্ষ নিয়োগে  জোরালো অবস্থানে রয়েছে স্কুলটির গভর্নিং বডি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৮ সালে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়। বিগত দশ বছর ধরে ভিকারুননিসায় পূর্ণকালীন কোনো অধ্যক্ষ নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুসারে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় গত ডিসেম্বরে। এরপরই অধ্যক্ষ নিয়োগ বন্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে স্বার্থান্বেসী মহলটি। যদিও প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে সকল বাধা উপেক্ষা করে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ দেবে বলে গভর্নিং বডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্থায়ী অধ্যক্ষ পদে আবেদন করেছেন ১৬ জন নিয়োগ প্রত্যাশী। তাদের মধ্যে ছয়জন ভিকারুননিসায় কর্মরত, বাকি দশ জন বাইরের। দুই মাসের মধ্যে এই নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা হবে বলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সূত্রে জানা গেছে।

ভিকারুননিসায় স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ হলে অনেক অনিয়ম বন্ধ হবে। ফলে ওই কুচক্রী মহল চায় অস্থায়ী অধ্যক্ষই বহাল থাকুক। তাহলে গোষ্ঠীটির ভর্তি বাণিজ্য, কেনাকাটা বাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম করার সুযোগ থাকে। মূলত নিজেদের অপকর্ম জারি রাখতেই অধ্যক্ষ নিয়োগ ঠেকাতে চক্রান্ত চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্কুলটির গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্যের।

এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশ মতে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। কিন্তু স্বার্থানে¦ষী মহলটি নিজেদের বাণিজ্যিক মনোভাব থেকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও মানছে না। তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ওঠে-পড়ে লেগেছেন। এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও চিঠি দিয়েছে। এছাড়া নানাভাবে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

ভিকারুননিসার শিক্ষকরাও চান যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ হোক। এটি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে যেমন, একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার জন্যও জরুরি। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়, মাউশি ও শিক্ষা বোর্ড যথার্থ সহায়তা করবেন বলেও তারা আশাবাদী।

গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

‘বর্তমান দায়িত্বরত অধ্যক্ষ নিজেই একজন আবেদনকারী হওয়ায় নিয়ম অনুসারে তার পরিবর্তে একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে বসানো হয়েছে। কিন্তুস্বার্থান্বেষী মহলটি নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ দিচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অধ্যক্ষ নিয়োগ কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধি চেয়ে আগামী সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশিতে আবেদন করা করা হবে। সেখানে স্কুলের বর্তমান সংকটের বিষয়টি তুলে ধরা হবে।’ সরকারি প্রতিনিধি দেয়া হলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে বলেও তিনি জানান।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের আইন উপদেষ্টা মিজানূর রহমান বলেন, ‘আবেদনকারী কোনো প্রার্থী স্বপদে বহাল থাকতে পারবেন না। এ সংক্রান্ত আদালতের একটি নির্দেশনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে- চাকরিপ্রত্যাশী আবেদনকারী নিয়োগ কমিটিতে থাকতে পারবেন না। সে অনুসারে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক স্বপদে বহাল থেকে আবেদন করলে তাকে অপসারণ করতে হবে। ’

সম্প্রতি ভিকারুননিসার নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের প্ররোচণায় অরিত্রী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে অভিযোগে এর বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :