আশার প্রতিদান দেব: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:২৬ | প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:২২
বৃহস্পতিবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জনগণ যে আশা নিয়ে নৌকায় ভোট দিয়েছে, তাদের আশা পূরণ করে প্রতিদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনায় এই কথা বলেন জাতির জনকের কন্যা।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ২৫ দিনের মাথায় পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরেন স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। এই দিনটি বরাবর নানা আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে স্মরণ করে আওয়ামী লীগ। এবারের আয়োজনের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বেশি এসেছে এবারের জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ।

গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন, যে আশা নিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছেন, আমরা তার প্রতিদান দেব, তাদের আশা পূরণ করব।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয় দফা সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। আর ২০০৮ এর পর ২০১৪ এবং এবার জয় এসেছে আরও বড়। সারাদেশের ২৯৯টি আাসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট পেয়েছে ২৮৮টি। বিএনপি ও তার জোট পায় সাতটি। আর একটি আসনে স্থগিত তিনটি কেন্দ্রে ভোটের পর এই সংখ্যাটি বেড়ে হয়েছে আটটি। আর একটি আসনে ভোট হবে ২৭ জানুয়ারি।

বিএনপির অভিযোগ, আগের রাতে সিল মেরে আর ভোটের দিন তাদের সমর্থকদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়ে তাদের জন্য ছিনিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে বিএনপির পরাজয়ের কারণ শেখ হাসিনা ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে: ‘বিএনপির যেসব প্রার্থী উইনেবল ছিল তারা কেউই মনোনয়ন পাননি। টাকা বেশি না দিতে পারায় তারা মনোনয়ন পাননি। সকালে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তার চেয়ে বেশি টাকা দেওয়ার পর দুপুরে আরেকজন মনোনয়ন পান। বিকালে তার চেয়ে বেশি টাকায় পাওয়ায় সকাল ও দুপুরের প্রার্থী মনোনয়ন থেকে আউট হয়ে যান। এভাবে যে দল মনোনয়ন দেয় তাদের জনগণ কেন ভোট দেবে?’

‘তাদের অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের দুঃখের কথা বলেছেন। একজন তো আমাদের দলে জয়েন করলেন।’
এবারে নির্বাচনে বিএনপির ব্যার্থতার কারণ বিএনপিকে ভাবতে হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা যে অপকর্ম করেছিল তার কারণে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। তারা অগ্নি সংযোগ করে মানুষ হত্যা কারণে জনগণ ভোট দেয়নি তাদের।’

নির্বাচন নিয়ে সমালোচনার জবাবে এবারের চেয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আরও বেশি ভোট পড়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশ। আর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভোট পড়েছিল ৮৬ শতাংশ।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ আমাদেরকে ম্যান্ডেট দিয়েছিল, ব্যাপক হারে ভোট পরে। ...জনগণ আওয়ামী লীগকে ব্যাপক ভোট দেয়। ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট দিয়েছিল। কোন কোন কেন্দ্রে ৯০ শতাংশরেও অধিক ভোট দিয়েছিল।’

গত তিনটি নির্বাচনের মতো ২০০১ সালেও আওয়ামী লীগের জেতার কথা ছিল বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলাম আর এ ষড়যন্ত্রের মাধ্যেমে আমাদেরকে হারিয়েছে।’

‘২০০১ সালের পর আমাদের অগুণতি নেতা-কর্মীর উপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে, ছয় বছরের শিশুও তাদের  নির্যাতন নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি।’

‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সন্ত্রাস, চাদাঁবাজ গুম খুন এমনকি গ্রেনেড হমলা করে আমাদের দুই জন সংসদ সদস্যকেও  নিহত করা হয়েছিল। এভাবে সারাদেশে তারা তা-ব চালাতে থাকে। তাদের দুঃশাসনের ফলে আসে ইমার্জেন্সি। তারা এসেও অত্যাচার নির্যাতন করেন।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :