চাষী নজরুলকে মনে পড়ে

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:১৬

বাংলা চলচ্চিত্রের একজন খ্যাতিমান পরিচালক ও প্রযোজক ছিলেন চাষী নজরুল ইসলাম। তার আরও একটি বড় পরিচয়, তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পাকিস্তানি সেনাদের ওপর। ছিনিয়ে এনেছিলেন লাল-সবুজের পতাকা।

আজ সেই মুক্তিযোদ্ধা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বের চিরবিদায়ের দিন। ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে তিনি মারা যান।

২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম। ওই বছরের মে মাস থেকে তিনি পারিবারিক চিকিৎসক সৈয়দ আকরামের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।

তার মাঝেই বেশ কয়েকবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছয় মাসেরও বেশি সময় সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন নির্মাতা। কিন্তু ফেরানো যায়নি। ৭৪ বছর বয়সে ২০১৫ সালের এই দিনে ভোররাতে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন স্বনামধন্য এই নির্মাতা।

নির্মাতার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসিতে) বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। বিষয়টি ঢাকা টাইমসকে নিশ্চিত করেন সমিতির সভাপতি ও পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার।

চাষী নজরুলের জন্ম হয়েছিল ১৯৪১ সালের ২৩ অক্টোবর মুন্সিগঞ্জে। বাবা-মায়ের জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন তিনি। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক চাষীর নাম রেখেছিলেন। চাষীর মামা চাষী ইমাম উদ্দিন শেরেবাংলার সঙ্গে রাজনীতি করতেন। সেই সূত্রে একদিন তিনি ভাগনের একটি নাম রাখতে বলেন। পরে ফজলুল হক চাষী ইমামের চাষী এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নির্মাতার নাম দেন চাষী নজরুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করায় বিভীষিকাময় সেই নয় মাসের অনেক কিছুই জানতেন চাষী নজরুল ইসলাম। তাই দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ দিয়ে তিনি তার পরিচালনা জীবন শুরু করেন। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭২ সালে।

দীর্ঘ ৫৪ বছরের কর্মজীবনে তিনি বহু ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় ছবি নির্মাণ করেছেন। ‘ওরা ১১ জন’ ছাড়াও সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সংগ্রাম’, ‘ভালো মানুষ’, ‘বাজিমাত’, ‘দেবদাস’, ‘লেডি স্মাগলার’, ‘মিয়া ভাই’, ‘বেহুলা লক্ষীন্দর’, ‘মহাযুদ্ধ’, ‘দাঙ্গা ফ্যাসাদ’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড, ‘হাসন রাজা’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘শাস্তি’, ‘সুভা’ এবং ‘অন্তরঙ্গ’।

চলচ্চিত্র পরিচালনায় অসাধারণ দক্ষতার জন্য জীবতাবস্থায় চাষী নজরুল পেয়েছিলেন ‘একুশে পদক’ ও ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’সহ অসংখ্য সম্মাননা। চারবার নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি। কাজ করেছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য হিসেবেও।

ঢাকা টাইমস/১১/জানুয়ারি/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত