আসামি ধরা নিয়ে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, যুবকের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:০৫ | প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৫৪
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের মদনপুর চানপুর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে আহত যুবক আশিকুর রহমান মারা গেছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

শনিবার রাতে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি ধরতে গেলে গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের  সংঘর্ষ বাধে।দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে গুরুত্বর আহত হন আশিকুর রহমান।

নিহত আশিকুর রহমান বন্দরের চানপুর এলাকার শহীদুল ইসলামের ছেলে। তিনি পানডেক্স গার্মেন্টসের শ্রমিক।  নিহতের পরিবারের দাবি কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে মারা যায় আশিকুর রহমান।

সংঘর্ষে পুলিশের সহকারি উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলী, কনস্টেবল  দেবাশীষ, মোহন মিয়াসহ  সাত পুলিশ এবং মহিলাসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন। 

এ বিষয়ে কর্তব্যরত ধামগড় পুলিশ ফাঁড়ি জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ৮ টায় ওয়ারেন্টভূক্ত বিভিন্ন মামলার আসামি বিশেষ করে নাশকতা মামলার আসামিদের  গ্রেপ্তার করতে বন্দর থানা পুলিশ মদনপুরের চাঁনপুরে অভিযান চালায়।

এ সময় বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী টেঁটা, বল্লম ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা আসামি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

ঘটনার সময় এলাকায় ডাকাত আক্রমণ করেছে বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হলে গ্রামবাসী জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময়  পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

এতে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

এ সময় স্থানীয়রা পুলিশের ২টি গাড়ি  ভাঙচুর করে। ঘটনাস্থলে ৭ পুলিশ সদস্য, একজন সাংবাদিক ও স্থানীয় ৫ ব্যক্তি আহত হন।

আহতদের মধ্যে আশিকুর রহমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয়া হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে খবর পেয়ে রাতেই অতিরিক্ত ৩ প্লাটুন পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এক ঘন্টা পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ ব্যাপারে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম গুলি ছোড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে সম্প্রতি ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। শনিবার দুই গ্রুপের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

সেখানে পুলিশ যাওয়ার পর পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে পুলিশসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঢাকা টাইমস/১৩জানুয়ারি/প্রতিবেদক/ওআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :