বাবার খুনের সাক্ষী মেয়ের নিরাপত্তার দাবি

মাগুরা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০১ অক্টোবর ২০১৬, ১৬:১২

মায়ের পরকীয়া সম্পর্কের জেরে বাবা খুনের ঘটনায় ন্যায়বিচার ও আসামিদের কাছ থেকে নিজেদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে নিহত আরোজ আলীর দুই মেয়ে।
শনিবার মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই দাবি জানায় বড় মেয়ে তাসলিমা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে তাসলিমা অভিযোগ করে, তার মা রোজিনা খাতুন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার রায়নগর গ্রামের সাইফুল, মন্টু এবং সদর উপজেলার বেঙ্গা বেরইল গ্রামের বেল্লালের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন। এমনকি নাবালিকা দুই মেয়েকে ফেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। মা রোজিনা এর আগে বেল্লালকে বিয়ে করে তার সঙ্গে প্রায় দেড় বছর সংসার করেন। দুই শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ চিন্তা করে বাবা আরোজ আলী অনেক চেষ্টা করে মা রোজিনাকে ফিরিয়ে আনেন।

তাসলিমা জানায়, তারপরও মা রোজিনা খাতুন বেল্লাল, মন্টু ও সাইফুল নামে তিনজনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক চালিয়ে যান। এসব নিয়ে তার সঙ্গে বাবা আরোজ আলীর প্রায়ই ঝগড়া হতো। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মা রোজিনা পরকীয়া প্রেমিকদের নিয়ে ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই গভীর রাতে ঘুমন্ত আরোজ আলীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার করেন। পরে লাশ বাড়ির পাশের গড়াই নদীতে ফেলে দেন।

তাসলিমা খাতুন ঘটনার রাতে বাবার পাশের কক্ষে ছিল বলে খুনের ঘটনা দেখে ফেলে। পরদিন ২৪ জুলাই সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার ও রোজিনাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আসামি সাইফুল ও বেল্লালকেও গ্রেপ্তার করা হয়। রোজিনা, সাইফুল ও বেল্লাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে।
ইতিমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়ে আসামি বেল্লাল, লিটন ও তাদের সহযোগী টিক্কা এ মামলার অন্যতম সাক্ষী তাসলিমা ও আরোজ আলীর বোন মেরিনা খাতুনকে অপহরণ ও খুন-গুমের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি একদিন মোটরসাইকেলে জোর করে তাসলিমাকে তুলে নিতে টানাহেঁচড়া করে। এসব ঘটনায় পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

বাবার খুনিদের বিচার এবং নিজেদের নিরাপত্তার দাবি জানায় তাসলিমা খাতুন।

নিহত আরোজ আলীর মা আশুরা বেগম, বোন মেরিনা খাতুন ও ছোট মেয়ে নূপুর খাতুন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিল।

(ঢাকাটাইমস/১ অক্টোবর/প্রতিনিধি/এলএ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত