মুছাকে নিয়ে নাটক করছে পুলিশ, দাবি স্ত্রীর

চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৬, ১৮:২৪ | প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর ২০১৬, ১৭:২৪

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর খুনের প্রধান সন্দেহভাজন কামরুল ইসলাম ওরফে মুছা সিকদারের বেঁচে থাকা নিয়েই সন্দিহান তার স্ত্রী পান্না আক্তারের। তিনি বলেছেন, গত ২২ জুন পুলিশ আমার স্বামীকে আটক করেছে কিন্তু পুলিশ বলছে মুছা পলাতক।
পুলিশের এই বক্তব্য যদি সত্য হয় তাহলে পুলিশের এক সময়ের সোর্স মুছা কোথায় ? মুছা কি বেঁচে আছেন? চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে পান্না আক্তার বলেন, মুছা পুলিশ হেফাজতেই আছেন। তাঁকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য যে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে সেটি একটি সাজানো নাটক। পুলিশের এ দাবি মিথ্যা।
সম্প্রতি পুলিশ মুছাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য পাঁচ  লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার পর পরই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে স্বামীর বেঁচে থাকা নিয়ে শঙ্কার কথা জানালেন।
এর আগেও পান্না আক্তার সাংবাদিকদের বলেছেন, মুছা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। গত ২২ জুন পুুলিশ আমার স্বামীকে আটক করেছে। পুলিশ বার বারই অস্বীকার করে আসছে। সবশেষ হন চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার ইকবার বাহার মুছাকে ধরিয়ে দিতে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন।
আর এ খবর শুনে মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার আজ শুক্রবার এই সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, মুছাকে কেউ পাবে না। মুছাকে পুলিশই ধরে নিয়ে গেছে। মুছাকে ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে নাটক করছে পুলিশ।
মুছার স্ত্রীর এই দাবি ও মুছাকে ধরিয়ে দিতে পুলিশের পুরস্কার ঘোষণা নিয়ে চট্টগ্রামের সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রামের বিশিষ্ট এক সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার সংবাদ সম্মেলন ও গণমাধ্যমকর্মীদের বার বার বলছেন, নগরীর একটি থানার ওসিসহ সাদা পোশাকে পুলিশ মুছাকে বাসা থকে ধরে নিয়ে গেছে। ঐ ওসিকে তিনি চিনেনও। যদি তাই হয় তাহলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুছার স্ত্রী পান্নাকে এ ব্যাপারে কেনো জিজ্ঞাসাবাদ করেনি?। ‘চেনা ওসি’র সূত্র ধরে এগোলেই তো মূছার সন্ধান পাওয়া যায়। তা না করে মুছাকে ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষণা সত্যি নাটক বলেই মনে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন নগরীর জিইসির মোড়ের নিকটে সন্তানকে স্কুলে দিতে যাওয়ার পথে নির্মমভাবে খুন হন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ নিয়ে বেশ কয়েক জনকে আটক করা হলেও কোন রহস্য উৎঘাটন করতে পরেনি পুলিশ। আটককৃতদের অনেকেই এখন জেলে রয়েছে।
পুলিশ প্রথমে এটা জঙ্গিদের কাজ বলে সন্দেহ করলেও শেষ পর্যন্ত তদন্তের এক পর্যায়ে মিতুর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে ১৫ ঘণ্ট ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর পরই পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড়া নেয়। স্ত্রী হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন হিসাবে বাবুল আক্তাদের নাম গণমাধ্যমে আসতে থাকে।
শেষ পর্যন্ত নানা নাটকীয়তার পর বাবুল আক্তারকে অবসর দেয়া হয়। পুলিশ মিতু হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন হিসাবে উল্লেখ করে মুছাকে। কীভাবে মুছার নেতৃত্বে মিতুকে হত্যার ঘটনা ঘটে তার বিস্তারিত বিবরণ দেন চট্টগ্রাম পুলিশ।
মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার বলেছেন, পুলিশ মুছাকে হয়তো মেরে ফেলেছে। তাই তাকে ধরিয়ে দিতে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, ৫ লাখ কেন ৫ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। কোনদিনই উম্মোচন হবে না মিতু হত্যার রহস্য।
এক প্রশ্নের জবাবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বলেন, হত্যাকান্ডে বাবুল আক্তারের স¤পৃক্ততার বিষয়টি এখনো তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তাদের নির্দেশ পেলেই এ হত্যাকান্ডের আসল রহস্য জনসমুক্ষে উন্মোচন করবে।
পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, মিতু হত্যার মূল নেতৃত্বদানকারী মুছাকে গ্রেপ্তার করতে না পারলে রহস্য বের করা কঠিন। তাই তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করলে বা তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
মামলার অগ্রগতি স¤পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিতু হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত আমরা সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছি। এর মধ্যে দুই জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। মুছার নেতৃত্বে একটি দল এই হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে। আমরা জেনেছি, মুছার নির্দেশে এবং তদারকিতে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। মুছা স্বপ্রণোদিত হয়ে অথবা কারও নির্দেশে অথবা কারও হয়ে খুন করেছে কি না- সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য মুছাকে পাওয়া খুবই জরুরি।
(ঢাকাটাইমস/ ০৭ অক্টোবর/ আইখ/ এআর/ঘ.)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত