পূজার আনন্দ পরিণত হলো বিষাদে

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৬, ১০:২১ | প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর ২০১৬, ১০:০২

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে আগুনে দগ্ধ হয়ে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় জনগাঁও গ্রামে দুর্গাপূজার আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। গ্রামের কেউ এ মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না। তাই বেশিরভাগ  বাড়িতে নেই পূজার আনন্দ। পুলিশ কনস্টেবল খরেশের পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের জনগাঁও গ্রামের সুরেশ চন্দ্রের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল খরেশ। তিনি দিনাজপুর শহরে ট্রাফিক লাইনে চাকরি করেন। সেখানেই থাকতেন স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ভাড়া বাসায়। দিনাজপুর শহরেই তার শ্বশুরবাড়ি। খরেশের ছেলে নির্ণয় ও মেয়ে নাইস দিনাজপুর শহরে থেকে লেখাপড়া করতো।

বৃদ্ধ পিতার সঙ্গে পূজার আনন্দ করার জন্য সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে আসেন পুলিশ কনস্টেবল খরেশ চন্দ্র। সঙ্গে এসেছিলেন তার শ্যালিকা সন্ধা রানী। রাতে খাওয়া দাওয়া সেরে নিজের বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েন খরেশ চন্দ্র ও সন্তানেরা। কিন্তু মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ায় তারা ঘর থেকে বের হতে পারেননি। এমনকি বাড়ির মেইন গেট লোহার হওয়ায় প্রতিবেশীরা তাদের বাঁচানোর জন্য এগিয়ে যেতে পারেনি। এতে আগুনে পুড়ে গিয়ে পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী কেয়া রানী ও শ্যালিকা সন্ধা রানী মারা যান। পরে খরেশের পরিবারের লোকজন বাড়ির দক্ষিণ পাশের ইটের দেওয়াল (ওয়াল) ভেঙে পুলিশ কনস্টেবল খরেশ চন্দ্র, তার মেয়ে নাইস ও ছেলে নির্ণয়কে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মৃত্যু হয়।  

খরেশের বাবা সুরেশ চন্দ্র জানান, আমার ছেলে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে পূজা করতে এসেছিল। কিন্তু নিয়তি আনন্দের পরিবর্তে আমাদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে তাদের নিয়ে গেল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ বিভাগকে  একাধিক বার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে বললেও তারা না আসায় লোকজন ঘরে ঢুকতে পানেনি। অবশেষে ওয়াল ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল, পুলিশ সুপার ফরহাত আহম্মদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাটি নাশকতা কি না তা বের করতে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও নিহতদের সৎকারের জন্য সরকারি তহবিল হতে মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন জেলা প্রশাসক।

মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী ও মহিলা সংসদ সদস্য সেলিনা জাহান লিটা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সেলিনা জাহান লিটা জানান, ঘটনাটি নাশকতা হলে এবং যারাই জড়িত থাক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, যে বাড়িতে পুলিশ কনস্টেবল খরেশ  সপরিবারে নিহত হন সেটি বেশিরভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকতো, সেখানে কেউ থাকতো না। প্রতিদিন  খরেশের পিতা সন্ধ্যায় বাতি জ্বালিয়ে যেতেন এবং সকালে বাতি নিভিয়ে দিতেন।

(ঢাকাটাইমস/১২অক্টোবর/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত