অরক্ষিত কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু!

ব্যুরো চিফ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৬, ২০:০৯ | প্রকাশিত : ০১ অক্টোবর ২০১৬, ১৭:২৪

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত শাহ আমানত সেতু এখন পুরো অরক্ষিত। সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ফলে দ্রুত সেতুটি ঝুঁকির  দিকে যাচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেছেন স্থাপত্যবিদরা।

শাহ আমানত সেতু রক্ষণাবেক্ষণে এ মুহূর্তে যেটি বেশি প্রয়োজন, তা হলো ওজন পরিমাপক যন্ত্র। সেটি না বসানোয় এ সেতু দিয়ে অতিরিক্ত মালবোঝাই গাড়ি চলাচল করছে প্রতিনিয়ত, যা সেতুটিকে ক্রমেই ঝুঁকিগ্রস্ত করছে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ নাজমুল লতিফ বলেন, সেতুসহ যেকোনো স্থাপত্যশৈলীর ওজন বা চাপ সহনশীলতার একটি ব্যাপার থাকে। এটি নিয়ন্ত্রণের  ব্যবস্থা রয়েছে দেশের অন্যতম মেঘনা সেতুতে। এ সেতুতে ৩০ টনের বেশি মালবোঝাই গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ, যা ওজন পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।  
মুহাম্মদ নাজমুল লতিফ আরও বলেন, ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় শাহ আমানত সেতুর রক্ষণব্যবস্থা সম্পূর্ণ অরক্ষিত। ফলে এ সেতু দিয়ে সহনীয় ওজনের চেয়ে অনেক বেশি মালবোঝাই গাড়ি চলাচল করে। এসব গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় লোকবল থাকলেও ওজন পরিমাপক যন্ত্রের অভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
সেতুর ইজারাদার প্রতিষ্ঠান সিক্স স্টার করপোরশেনের ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম জানান, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে কাফকো ইউরিয়া সার ও এস আলম গ্রুপের ভারী শিল্প-কারখানা। এর মধ্যে এস আলম গ্রুপের স্টিল মিল, ঢেউটিন কারখানার জন্য ভারী ইস্পাত ও লোহার রোলসহ ভারী কাঁচামাল নিয়ে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চলাচল করে এ সেতু দিয়ে। কিন্তু ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। এতে সেতুর গুরুতর ক্ষতি হচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলা, পার্বত্য জেলা বান্দরবান, পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও টেকনাফে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে এ সেতু দিয়ে। ওই সব এলাকার অর্থনীতিও অনেকটা এ সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত। কোনো কারণে এ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে ওই সব এলাকা যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। পুরো দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের যৌথ অর্থায়নে ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৪০ দশমিক ২৪ মিটার প্রস্থের কংক্রিটের এ সেতুটি নির্মাণ করে চীনের মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন। ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। কিন্তু উদ্বোধনের ছয় বছর পরও সেখানে এক্সেল লোড কন্ট্রোল বা ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন করা হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত মাত্রাতিরিক্ত পণ্য নিয়ে এ সেতু পার হচ্ছে অনেক যানবাহন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, শাহ আমানত সেতুর ওপর দিয়ে অবাধে চলছে ভারী মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। সেতুর কোনো পাশেই নিরাপত্তারক্ষী নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার না হওয়ায় ইতোমধ্যে সেতুর বেশ কিছু মূল্যবান যন্ত্র খোয়া গেছে। ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে পার হচ্ছে যানবাহন।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে এ সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম। তিনি ঢাকাটাইমসকে জানান, বর্তমানে অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্সের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে শাহ আমানত সেতু। আর ক¤িপউটারাইজড পদ্ধতিতে আদায় করা হচ্ছে মাশুল।
রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে জানিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, কিন্তু সেতুর প্রবেশমুখে ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপনের কোনো নির্দেশনা এখনো পাওয়া যায়নি।

(ঢাকাটাইমস/১অক্টোবর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বন্দর নগরী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত