শেখ হাসিনা না থাকলে কী হবে আওয়ামী লীগের বা বাংলাদেশের?

শেখ আদনান ফাহাদ
| আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৬, ১৩:২৯ | প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর ২০১৬, ১৫:২২

সাম্প্রতিককালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র একটি সংবাদ সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ কয়েকজন সাংবাদিকের অতি আনুগত্য প্রকাশের প্রতিযোগিতা সমালোচিত হলেও রবিবারের সংবাদ সম্মেলনটি বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে এক বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথার ফাঁকে তিনি বলেছেন, দল চাইলে অবসরে যেতে তিনি প্রস্তুত!

জীবনের প্রায় পুরোটাই মানুষ ও দেশের জন্য ব্যয় করে, এ বয়সে এসে এ ধরনের উপলব্ধি অস্বাভাবিক কিছু নয়। দলের এবং দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে কয়েক যুগে তিনি কতদিন ছুটি কাটিয়েছেন, সেটা এক গবেষণার বিষয়। আমরা সাধারণ মানুষ যেমন অফিস থেকে এসে রিমোট হাতে নিয়ে টেলিভিশন দেখে আয়েশ করি, বউ, বাচ্চা নিয়ে এখানে সেখানে ঘুরতে/খেতে যাই, একজন আন্তরিক ও দেশপ্রেমিক প্রধানমন্ত্রী সেটা পারেন না।

আমাদের যেমন সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে, ঈদ/পূজার ছুটি থাকে, শেখ হাসিনার সেটা থাকে না। তাঁর সাথে যারা কাজ করে, এমনকি তাঁকে নিয়ে যারা কাজ করে তাদেরও থাকে না। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল, কিন্তু সমস্যাপূর্ণ দেশে যে কোন দেশপ্রেমিক, স্বাপ্নিক এবং পরিশ্রমী মানুষের জীবন এমনই ব্যস্ততাময় হওয়াটাই স্বাভাবিক। ফলে “অবসর” কামনা করার অধিকার শেখ হাসিনার আছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, উনি অবসর চাইলেই কি যেতে পারবেন? কিংবা অবসরে চলে গেলে, এই দল ও দেশের কী হবে? উনার পর এদেশে আর কে আছে, যে তাঁর মত করে সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশ ও জাতিকে একটা পথে রাখতে পারবেন?

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে আজ ৪৬ বছর। আমাদের মানচিত্র আছে, সংবিধান আছে। কিন্তু আমরা সবাই কি ভালো আছি? সমস্ত রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা, সম্পদ আজো কিছু মানুষের কুক্ষিগত। আজো আমাদের অর্থনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় পুঁজিপতি ও নির্দিষ্ট শ্রেণির আমলাদের আধিপত্য। একটা সশস্ত্র বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র জন্ম নিলেও, শ্রমিক, কৃষক ও অন্যান্য শ্রম ও মেধা-নির্ভর মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আজো সুদূরপরাহত।

“দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ” বলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। আমাদের মানচিত্র ও সংবিধান থেকে পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন দর্শন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নীতি, সব কিছুই ছিল বঙ্গবন্ধুর দিয়ে যাওয়া। বঙ্গবন্ধু বৈষম্যের ‘সিস্টেম’কে বদলাতে চেয়েছিলেন। পরিবর্তনের কাজ তিনি শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করে যেতে পারেননি। বলা উচিত, অপরিণামদর্শীও আত্মঘাতী বাঙ্গালীদের একটা অংশ শেষ করতে দেয়নি। দেশীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট শাহাদাত বরণ করেন। পরিবারের প্রায় সবাইকেই হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায়, সৌভাগ্যবশত বেঁচে গিয়েছিলেন। তাঁদের সেই বেঁচে থাকা যে বাংলাদেশের বেঁচে থাকা তা আমরা বুঝতে পারি বর্তমানকে দিয়ে।

বঙ্গবন্ধুর পরে জাতীয় চারনেতা-মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ চার সংগঠক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকেও হত্যা করা হয়। এর আগে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে, বিশেষ করে পরাজয় বরণের আগে ডিসেম্বর মাসে আমাদের সকল মেধাবী শিক্ষক, ডাক্তার, সাংবাদিক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের হত্যা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশ যেন কখনোই কোমড় সোজা করে দাঁড়াতে না পারে। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা, খুনের নির্দেশ ও পরিকল্পনাদাতারা, সুযোগ সন্ধানী সামরিক শাসকরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে প্রায় শেষ করেই দিয়েছিলেন। একটা সময় গেছে, মানুষ প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর নাম নিলে সরকারি অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হত। সেই উন্নয়ন-বিরোধী সময়টা বাংলাদেশ কাটিয়ে উঠেছে। শুধু কাটিয়েই উঠেনি, বাংলাদেশ এখন দৌঁড়াতে শুরু করেছে।

এই মূল্যায়ন রাজনৈতিক চামচামি নয়। আপনারাই নানা আমল আর সরকারের তুলনামূলক মূল্যায়ন করে দেখুন। দেশ কোন সময় কী অর্জন করেছে? আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র, রাজনীতি, নগরের অব্যবস্থাপনা, উন্নয়নদর্শন নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু নেতিবাচক নানা ঘটনা/প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনও হচ্ছে না, এ কথা যে বলবে সে মহা গুনাহ করবেন।

যারা ৭১ কে ভুলে থাকতে বলেন, তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু আমাদের বিশাল সংখ্যক মানবতাবাদী ও মুক্তিকামী মানুষের বিবেকের মুক্তিও এসেছে শেখ হাসিনার হাত ধরেই। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন, আদালতে তাদের বিচার চলছে, জাতির জনকের হত্যাকারীদের ইহলোকীয় বিচারও হয়েছে। অর্থনৈতিক ওসামাজিক নানা উন্নয়নসূচকে বাংলাদেশ পাকিস্তান তো বটেই ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাকেও পেছনে ফেলেছে। সর্বশেষ স্বীকৃতি এসেছে সরকারের উপর নাখোশ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে।

আওয়ামী লীগ সরকারের ইতিবাচকতায় ‘নীরব দর্শকের’ ভূমিকা পালন করে সমালোচিত, কিন্তু পেশাদারিত্বে দেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো ৪ অক্টোবর, ২০১৬ সালে প্রথম পাতার প্রধান খবরে লিখেছে, “বাংলাদেশের অতি দারিদ্র্য পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হয়েছে। দেশে হত দরিদ্রের সংখ্যা কমেছে। সাত বছরের ব্যবধানে প্রায় ৮০ লাখ হতদরিদ্র লোক অতি দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে, গত অর্থবছর শেষে অতি দারিদ্র্য হার দেশের মোট জনসংখ্যার ১২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে এ হার ছিল সাড়ে ১৮ শতাংশ”।

‘টেকিং অন ইন-ইকোয়ালটি’ শিরোনামে বিশ্ব ব্যাংকের এই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে “সব ভালোর সঙ্গে” থাকা প্রথম আলো প্রতিবেদনের একেবারে শেষ দিকে হলেও লিখেছে, “বাংলাদেশ এদিক থেকে ভারত, পাকিস্তান ও ভুটানের চেয়ে এগিয়ে আছে”। এ অর্জনে দেশের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে, কৃষক সমাজ, কৃষি বিজ্ঞানী, ডাক্তার, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, সাংবাদিক, পুলিশ, আর্মির অনেক অবদান আছে সত্যি। কিন্তু রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আপনি কাকে কৃতিত্ব দেবেন? অবশ্যই এই কৃতিত্বের দাবীদার শেখ হাসিনা।

আমাদের শিক্ষিত সমাজ যেভাবে প্রতিদিন স্টার জলসার নাটক দেখে সময় কাটাই, যেভাবে দেশে-বিদেশে শপিং করে, রেস্টুরেন্টে খেয়ে, মওজ-মাস্তি করে সময় পার করি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাও যদি আমাদের মত হতেন, তাহলে দেশের এই উন্নয়ন পরিস্থিতি এমন হত না।

ব্যাংক রিজার্ভে বাংলাদেশ ভারতের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। পাকিস্তান তো দূর ছাই। আমাদের ক্রিকেট আজ কোথায় চলে গেছে! অনেক সংকট থাকা সত্ত্বেও সবার যাত্রা যেন আজ একই সমৃদ্ধির পথে। আওয়ামী লীগ যে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল, তার সবটাই কি ফাঁকা বুলি? ডিজিটাল প্রযুক্তি, সেবা দিয়ে আজ যে গ্রাম এবং শহরের মধ্যে ব্যবধান কমে আসছে, তার কৃতিত্ব আপনি দেবেন না শেখ হাসিনা বা তাঁর সরকারকে?

সরকারি চাকরির জন্য কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদন করতে আগে কত কষ্ট করতে হত, তা এ জামানার ছেলে-মেয়েরা বুঝবে কেমন করে। ফর্ম সংগ্রহ, পূরণ, জমা দেয়া, কী যে কষ্টের ছিল তা একমাত্র ভুক্তভোগীরায় সাক্ষ্য দিতে পারবেন। আর এখন? নীলক্ষেতে এক কাপ চা শেষ করা যায় না, এর মধ্যেই কাজ শেষ! আমাদের সমস্যা বেশি, সময় কম, কাজের মানুষ কম, শিক্ষিত সমাজে সৎ মানুষ কম। এমন সম্ভাবনাময় কিন্তু সমস্যাপূর্ণ বাংলাদেশের কত পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে! সবাই এর সুফল ভোগ করছে, কেউ দেখছে, কেউ দেখছে না, কেউ দেখেও না দেখার ভান করছে, কেউ পরিবর্তনের ইতিবাচকতাকে ঢেকে দিচ্ছেন নানা অপকর্ম করে, নানা কৌশলে।

নিচের যানজটে বসে আপনি প্রধানমন্ত্রীকে গালি দেন, কিন্তু উপর দিয়ে যে কালকেই ১০ মিনিটে যে বকশীবাজার থেকে যাত্রাবাড়ী গেলেন, সে কথা বলতে ভুলে যান। বেসরকারি চাকরীজীবীদের অনেক কষ্ট আছে সত্যি, কিন্তু সরকারি চাকরিজীবীদের যে বেতন দ্বিগুণ হয়েছে, তার শোকরিয়া আদায় আমরা কতজন করি?

সমস্যা আছে, থাকবে; কিন্তু পরিবর্তন আসছে কিনা, সেটা দেখার বিষয়।  যাইহোক, প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করা আমার উদ্দেশ্য নয়। মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। শেখ হাসিনা অবসরের যাওয়ার বিষয়ে ফিরে আসা যাক।

শেখ হাসিনা কী ভেবে যে এই “অবসরের” কথা তুলেছেন, তিনিই ভালো জানেন! হয়তো কোন সাংবাদিক কিছু জিজ্ঞেস করেছিলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তিনি অবসরে যেতে চাইতে পারেন, যেতে পারেনও। সারাজীবন তো উনি থাকবেন না, প্রাকৃতিক কারণে থাকতে পারবেনও না। কিন্তু উনি কিংবা আওয়ামী লীগের কেউ কি ভেবে দেখেছেন, এই অবসরে চলে যাওয়া কি পরিণতি ডেকে আনতে পারে?

শেখ হাসিনা সৎ, নির্লোভ এবং দূরদর্শী, পরিণত। কিন্তু উনার দলের অন্য নেতারা কি একই রকম সৎ? একইরকম নির্লোভ? অন্য নেতাদের অনেকেই কী রকম নির্লোভ সেটা তো আমরা তাদের এবং তাদের স্ত্রী- সন্তানদের চলাফেরা, কাপড়চোপড় দেখলেই বুঝতে পারি! ইদানিং ফেসবুক খুললেই দেখা যায়, শিবিরের নেতা এখন  ছাত্রলীগের নেতা, জামায়াতের নেতা এখন আওয়ামী লীগের নেতা! পার্টি অফিসে, সংসদে ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য বাড়ছে। সত্যিকারের  রাজনীতিবিদের প্রভাব কমছে।

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কোণঠাসা হলেও সুযোগ পেলে  বা দুর্বল কোন মুহূর্তে কী ভয়াবহ মাত্রার ঘটনা ঘটাতে পারে সেটা আমরা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা বা সাম্প্রতিককালের গুলশানে জঙ্গি হামলা দিয়েও বুঝতে পারি। আবার জামাত জোটের পশ্চিমা অভিভাবকরা “মানবাধিকার” এর মুখোশ পড়ে কতখানি ভয়ানক হতে পারে, সেটা  বঙ্গবন্ধু হত্যার দিকে নজর দিলেই বুঝা যাবে। দিকে বাংলাদেশের মুসলমানরা দিন দিন মুসলমান হচ্ছে, হিন্দুরা দিন দিন হিন্দু হচ্ছে। সমাজে সাম্প্রদায়িকতা বাড়ছে। সম্ভাবনা যেমন বিশাল, ঝুঁকিও কম নয়।

এত চ্যালেঞ্জ, এত লোভ, লালসা, দুর্নীতি থেকে বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কাজ করতে পারার মত সক্ষম মানুষ এই মুহূর্তে আর কে আছে? “ সুশীল” নামের একদল আছেন যারা “শেখ হাসিনাবিহীন” বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু শান্তি পুরস্কার জেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসে, কনফারেন্সে পেপার প্রেজেন্ট করা, বক্তৃতা করা আর রাজনীতি করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের  চেষ্টা করা এক বিষয় না।

তাহলে বড় প্রশ্ন হল, শেখ হাসিনার পরে, আওয়ামী লীগের হাল ধরতে পারে এমন কে আছেন? শেখ হাসিনা অবসরে গেলে কী হতে পারে, তার কিছু নমুনা আমরা দেখেছি গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। তাঁকে অন্যায়ভাবে জেলে বন্দী করা হয়েছিল আর এই সুযোগে দলেরই কিছু শীর্ষ নেতা তাঁকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। ফলে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের বাইরে কেউ দলের দায়িত্ব নিতে পারেন, সেটা ভাবা বেশ কঠিন।

অনেকে “পরিবারতন্ত্রের” কথা বলবেন। কিন্তু এছাড়া উপায় কি? গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জনমত ইত্যাদি বড় বড় কনসেপ্টের চর্চায় বাংলাদেশ কতখানি পরিণত? যে কেউ এসে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়ে নিলে, জনগণের কি দায় পড়বে যে এই দলকে বার বার ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাবে? জনগণের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে “জনদরদী” কত নেতা যে শুধু নিজের এবং ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছেন, ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন, তার তালিকা খুব ছোট হবে না। বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে তার যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন।

১৯৭৫ এর বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার পরবর্তী সময় হতে অদ্যাবধী শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের যোগ্যতম নেতা। কিন্তু যখনই হোক, শেখ হাসিনার পরে কে নিতে পারে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব? আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই, আছে চিন্তা কিংবা দুশ্চিন্তা। আমরা রাস্তায়, টং দোকানে বসে শুধু জল্পনা-কল্পনা করতে পারি। যেই আসুক, তিনি কি পারবেন শেখ হাসিনার মত আত্মত্যাগী হতে কিংবা পরিশ্রম করতে? তিনি কি পারবেন, একইসাথে বারাক ওবামার শ্রদ্ধা আদায় করতে, আবার রমিজা খাতুনের মত ভিখারিনীকে গলায় জড়িয়ে ধরে কাঁদতে?

আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিতে হলে যে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে ঘুরে আসার ক্ষমতা থাকতে হবে। ১৯০৫, ১৯০৬, ১৯১১, ১৯২১, ১৯৪৭, ১৯৫২ ১৯৫৪, ১৯৬২, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৭২, ১৯৭৫সহ ইতিহাসের সমস্ত ঘটনা-দুর্ঘটনার খুঁটিনাটি জানতে হবে, হৃদয় দিয়ে হাজির হতে হবে ইতিহাসের আদালতে। জাতিসংঘে নিজ দেশকে বাংলায় তুলে ধরতে হবে, আবার দেশের গরিব কৃষক-শ্রমিক, পরিশ্রমী নাগরিক চাকুরীজীবীর যাপিত জীবনের কষ্টকে নিজ মনের এবং মগজের শক্তিতে অনুভব করে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিতে হলে একই হৃদয়ে নেতাজী সুভাষ বসু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, কাজী নজরুল কিংবা সুকান্ত-জীবনানন্দকে ধারণ করতে হবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিতে হলে শীর্ষেন্দু কে চিঠি লিখা জানতে হবে। স্টেডিয়ামে হাজির হয়ে জনতার সাথে গলা মিলিয়ে বলতে হবে, “জয়বাংলা বলে আগে বাড়ো”।

আওয়ামী লীগ তো শুধু একটা রাজনৈতিক দল নয়, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ হয়ে উঠার যে গৌরবময় ইতিহাস তার অপর নাম আওয়ামী লীগ। এখন হয়তো আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে পুরো বাংলাদেশ বিজয়ী হয় না, কিন্তু আওয়ামী লীগ হেরে গেলে যে পুরো বাংলদেশ হেরে যাবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত