নন এমপিও শিক্ষকদেরকে বাঁচার অধিকার দিন

মো. দ্বীন ইসলাম হাওলাদার
 | প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর ২০১৬, ২০:১১

আমাদের দেশের ৯০% এরও বেশি শিক্ষার্থী শিক্ষা লাভ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। সম্প্রতি সরকার প্রতি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ (মাদরাসা বাদে) জাতীয়করণ করছেন বা প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৯০% এরও বেশি শিক্ষার্থী শিক্ষিত হয়, সরকারি হিসাব মতে তার প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বৈধ প্রতিষ্ঠান এমপিওহীন। অবশ্য বেসরকারি হিসাব মতে ৮০০০ এর বেশি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারের অনুমোদনপ্রাপ্ত, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এবং সরকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই মনিটরিং করেন। কিন্তু শিক্ষকদের বেতন নেই। নন এমপিও শিক্ষকরা পড়াবেন, সরকার মনিটরিং করেন, শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস করবেন, ভালো ফলাফলও হবে। কিন্তু শিক্ষকরা বেতন পাবেন না। এটা কেমন নীতি? ‘তাহলে নন এমপিও শিক্ষকরা কি দেশের নাগরিক নন? যাদেরকে অভুক্ত রেখে মেরে ফেলা হবে!’

সরকার প্রতিবন্ধীদের জন্য অনেক কাজ করছে, আরো করা দরকার। কারণ, তারা আমাদেরই কারো না কারো আপনজন। অন্যদিকে নন এমপিও শিক্ষকরা অর্ধাহারে-অনাহারে প্রতিবন্ধী হতে চলছে। শুধু তারা নয়, তাদের পুরো সংসার। কত সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে! ধ্বংস হচ্ছে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া। আজ যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন তাহলে কী শিক্ষকদেরকে নন এমপিও থাকতে হতো? অবশ্যই না! তিনি এ জাতীকে স্বাধীন করার জন্য, মানুষের মুখে তিন বেলা খাবার তুলে দেয়ার জন্য আজীবন আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন। অথচ দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থা এখন অনেক ভালো। দেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ।

সরকারের সকল কর্মকাণ্ড পুরোদমে এগিয়ে চলছে-এশিয়ার দীর্ঘতম পদ্মাসেতু, নতুন সমুদ্র বন্দর, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ প্লান্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, নাই শুধু নন এমপিও শিক্ষকদের বেতন। এ সকল শিক্ষকরাই শিক্ষা সেতুর পিলার। যে পিলারগুলো অর্ধাহারে-অনাহারে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। তাহলে শিক্ষা সেতু টিকবে কিভাবে? মাননীয় অর্থমন্ত্রী, রিজার্ভ চুরিকে সাগর চুরি বলেছেন। এছাড়াও হলমার্ক, ডেসটিনি কেলেঙ্কারিসহ অনেক চুরি হয়েছে। তাতে অনেক অর্থ নষ্ট হয়েছে। 

২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ৩,৪০,৬০৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী। অথচ নন এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য কোন বরাদ্দ নাই। শিক্ষাখাতের বরাদ্দ কম নয়, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, ভবন নির্মাণ, আসবাবসহ সার্বিক উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী থাকবে, প্রতিষ্ঠান থাকবে, আসবাবপত্র থাকবে, শিক্ষকও থাকবে, ফলাফল থাকবে, কিন্তু থাকবে না শুধু শিক্ষকদের বেতন। মহান জাতীয় সংসদে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের বাজেট অধিবেশনে অনেক সংসদ সদস্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে অর্থ বরাদ্দের জন্য জোর সুপারিশ করেছেন। কিন্তু মাননীয় অর্থমন্ত্রী এমপিও খাতে কোন বরাদ্দ রাখেননি। তিনি কী নন এমপিও শিক্ষকদেরকে এদেশের নাগরিক মনে করেন না? তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কী সরকারের দায়িত্ব নয়? নাকি তাদের সাথে মাননীয় মন্ত্রীর পূর্বপূরুষের কোন বিরোধ আছে। মাননীয় মন্ত্রী তার প্রতিশোধ নিচ্ছেন? অনেকের ধারণা মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় একই এলাকার লোক। তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত একটা টানাপোড়েন রয়েছে। তাই মাননীয় অর্থমন্ত্রী অর্থ বরাদ্দ দেননি। এমপিও খাতে বরাদ্দ দিলে শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় সুনাম কুড়িয়ে নিতে পারেন। কিন্তু বরাদ্দ না দেয়ার কারণ যাই হোক, নন এমপিও শিক্ষকরা আর্থিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার। ‘বিদেশে অবৈধ অভিবাসীদেরকেও জেলখানায় তিন বেলা খাবার দেয়া হয়, আর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে নন এমপিও শিক্ষকদেরকে ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে এমপিও না দিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে রাখা হয়।’ যা বিশ্বের কোন দেশে নেই। অর্থ বরাদ্দ না পেয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী সংসদে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। এমপিও নীতিমালা হাল নাগাদকরণের নামে চলছে টালবাহানা ও সময়ক্ষেপন।

স্টাফ প্যাটার্ন (জনবল কাঠামো) হালনাগাদকরন ও ১৩.১১.২০১১ এর ‘কালো’ পরিপত্রের মাধ্যমে বন্ধ রাখা হয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইসিটি ও ফিন্যান্সসহ অতিরিক্ত শ্রেণিশাখার শিক্ষকদের এমপিও। সাধারণ একটা খেলার ম্যাচের পেছনে যা খরচ হয় তাতে কয়েক হাজার শিক্ষকের বেতন দেয়া সম্ভব। বেসরকারি শিক্ষকরাই যেন রাষ্ট্রের একমাত্র বোঝা। যদি ওই সকল শিক্ষকরা এমপিও না পায় তাহলে তাদেরকে কেন স্বীকৃতি দেয়া হয় ও অনুমোদন দেয়া হয়?

কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার শিরায়-উপশিরায় বইছে বঙ্গবন্ধুর রক্ত। আপনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতীক। তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা ও তার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্যই আপনার প্রধানমন্ত্রী হওয়া। তাই বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফেরাত ও শান্তির লক্ষ্যে অবিলম্বে নন এমপিও শিক্ষকদের ও ১৩.১১.২০১১ এর পরিপত্র বাতিল করে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার ও ফিন্যান্সসহ সকল শিক্ষকদের এমওি দিন। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করবেন।

লেখক:  কবি, প্রভাষক, দুমকি ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা

দুমকি, পটুয়াখালী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত