দু’চোখ কেবল জলে ভরে যায়...

হাবিবুল্লাহ ফাহাদ
| আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৬, ১১:০৯ | প্রকাশিত : ১৩ অক্টোবর ২০১৬, ১১:০৫

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলা দেখলে আমার চোখ ভিজে ওঠে। কখনও আনন্দে, কখনও কষ্টে। কেনো জানি এখানে এসে আবেগ ধরে রাখতে পারি না। বুধবার রাতে যখন স্কোরকার্ডে ইংলিশদের জয় পেতে ৬ রান দরকার তখন বল হাতে শফিউল। কিন্তু বারবারই ক্যামেরা ধরা হচ্ছিল মাশরাফির দিকে। দাঁড়ি- গোঁফে মোড়ানো মলিন মুখটা দেখতে ভেতরটায় খুব খারাপ লাগছিল। একবার মাশরাফিও ক্যামেরার দিকে তাকালেন। তার চোখ দুটোও টলমল। ক্লান্তির ছাপ চেহারায়। যেন বলতে চাচ্ছেন, ‘চেষ্টা তো কম করিনি। কিন্তু পারলাম না।’ না, তিনি হয়তো দ্বিতীয় বাক্যটি বলতে চাননি। বললেও আমি মেনে নেবো না। কারণ চেষ্টা তিনি করেছেন। সফলও হয়েছেন। ২৭৮ রান তুলতে ইংলিশদের প্রায় শেষ পর্যন্ত মাঠে রাখা, ছয়জনকে বিদায় করে দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি এবং তার দলের বাকিরা সফল।

খেলার শুরু থেকেই এটা নিশ্চিত ছিল কাউকে না কাউকে হারতে হবে। কে জয় পাবে তা নিশ্চিত ছিল না। ব্যাটহাতে জ্বলে ওঠা, তামিম, কায়েস, সাব্বির (যদিও অল্পের জন্য অর্ধশতের স্বাদ পাননি তারা) আর মুশফিকের অনবদ্য ইনিংস, সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষকে একটা ফাইটিং স্কোর যখন ছুড়ে দেয়া গেছে, তখন জয়টা আমাদের হলে ভাল হতো। তাই বলে মাশরাফিদের অক্লান্ত পরিশ্রমকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। জানি, আজকের পরাজয়ে আমার মতো অনেকেই মর্মাহত। বিশেষ করে চট্টগ্রামের দর্শকরা হয়তো খুব করে চেয়েছিলেন, শেষের ভালোটায় সাক্ষী হয়ে থাকুক চাটগাঁ। তা হয়তো হলো না। কিন্তু ক্রিকেটে তিন মোড়লের একটি ইংল্যান্ডকেও তো ঘাম ঝরিয়েই মাঠ থেকে জয় তুলতে হয়েছে, তাই না?

ক্রিকেট নিয়ে তিন মোড়লের বড়াই আর বাংলাদেশকে খাটো করে দেখার যে মানসিকতা বিশ্ব ক্রিকেটে দানা বাঁধতে শুরু করেছিল, তা তো ভেঙেছে। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে আমাদের ক্রিকেটাররা। সিরিজে বাটলারদের একক আধিপত্যের পতন তো হয়েছে। তামিম, কায়েস, সাব্বির, মুশফিকদের ভাল ইনিংস তো বেরিয়ে এসেছে। ওয়ানডেতে পাঁচ হাজারি ক্লাবে তামিম আজ পৌঁছুলেন, মন্দ কী? যদিও তিনি ফর্মে থাকলে আরও আগেই এটা সম্ভব হতো। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তাসকিন তিনটি উইকেট শিকার করেছিল। ওই ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আজ অবশ্য তার পারফরমেন্স নিয়ে আপত্তি আছে। নায়ক মাশরাফির একক অর্জনও কি কম? গোটা সিরিজ মূল্যায়ন করলে বোঝা যাবে, এই সিরিজে নায়ক আর কেউ নন, মাশরাফি বিন মর্তুজা-ই।

দুদিন আগে ফেসবুকে একজনের স্ট্যাটাস পড়ে কেঁদেছি। তিনি লিখেছেন, মাশরাফির বন্ধুদের কারো কাছে তিনি শুনেছেন, এখনও নাকি প্রতিরাতে মাশরাফি পায়ের ব্যথায় কষ্ট পান। অবস্থা এতোটাই খারাপ যে, ডাক্তার নাকি বলেছেন একটু এদিক সেদিক হলে পা কেটে ফেলতে হতে পারে!!! খেলা শেষে লং শর্টে যখন টাইগার দলপতিকে রাখা হল তখন তিনি হেঁটে হেঁটে সাজঘরের দিকে ফিরছিলেন। খেয়াল করলাম তিনি হাটছেনও সামান্য খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। খাবার টেবিলে ছিলাম। অর্ধেক খাবার তখনও প্লেটে। ভেতরে আর নিতে পারলাম না। উঠে গেলাম। মা জানতে চাইলো, ‘সমস্যা কী?’

বললাম, ‘ভাল লাগছে না।’ মা বোধ হয়  বুঝতে পারলেন। বললেন, ‘থাক, মন খারাপ করার কী আছে। খেলায় তো হারজিত আছে। তুই না সেদিন বললি।’

মাকে কিছু বললাম না। কষ্ট তো আমি হারে পাইনি। পেয়েছি...। আচ্ছা, লং শর্ট না ধরেও তো ক্যামেরা তাক করা যায়, যায় না?
কবি মুহাম্মদ সামাদ স্যার একবার আমায় একটা বই দিয়েছিলেন। অটোগ্রাফ আছে তাতে। শুরুর কবিতাটা আবৃত্তি করেছিলেন তিনি নিজে। মনে পড়ছে শেষ তিন লাইন, ‘আমি মুখ তুলে তাকাতে পারি না’ আমার দু’চোখ জলে ভরে যায়’ দু’চোখ কেবল জলে ভরে যায়...।  

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত