পাঁচ বছর ধরে খাদিজাকে উত্ত্যক্ত করছিলেন বদরুল

খালেদ আহমদ, সিলেট ব্যুরো প্রধান
| আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৬, ১৬:১২ | প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর ২০১৬, ১৫:১৯

সিলেটে ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত তরুণী খাদিজা আক্তার নার্গিসের সঙ্গে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল না বলে জানিয়েছেন দুই জনের সহপাঠীরা। এই ঘটনার পর পুলিশ দুই জনের প্রেমের কথা বললেও এখন জানা গেছে, খাদিজার প্রেম চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন বদরুল।

গত সোমবার সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বদরুলের কোপানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। ওই তরুণী আশঙ্কাজনক অবস্থায় এখন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধারালো অস্ত্র তার খুলি ভেদ করে মগজে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

ওই ঘটনার পর বদরুলকে ধরে পিটুনি দিয়ে ‍পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বদরুলের বিচারের দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ চলছে দুই দিন ধরে। বিচারের নিশ্চয়তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও।

এই ঘটনার পর সিলেটের শাহ পরান থানার ভারপ্রা্ত কর্মকর্তা শাহজালাল মুন্সি জানিয়েছিলেন, ‘বদরুলের সঙ্গে খাদিজার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কয়েক দিন ধরে তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বদরুল এ কাণ্ড ঘটিয়েছে।’

তবে স্থানীয়রা জানান, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। খাদিজার প্রেম প্রত্যাশী ছিলেন বদরুল। এই তরুণীর বাড়িতে লজিং মাস্টার হিসেবে থাকতেন তিনি। গত পাঁচ বছর ধরেই এই প্রেম চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে আসছিলেন তিনি। চার বছর আগে খাদিজা যখন স্কুলে পড়ত তখন তাকে উত্ত্যক্ত করায় গণপিটুনিও খেয়েছিলেন বদরুল।

স্থানীয়রা জানান ২০১২ ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি  জাঙ্গাইল সফির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে খাদিজাকে উত্ত্যক্ত করেন বদরুল। তখন খাদিজার স্বজনরা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়েছিল। তখন বদরুল প্রচার করার চেষ্টা করে যে ছাত্রশিবির তার উপর হামলা করেছে।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বদরুল বলেন, ‘খাদিজা দীর্ঘদিন থেকে আমাকে পাত্তা না দেয়ার কারণেই তার ওপর আমি চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠি। নগরীর আম্বরখানার এক দোকান থেকে আড়াইশ টাকা দিয়ে চাপাতি কিনি। ইচ্ছা ছিল ওখানেই তাকে শেষ করে দেয়ার।’

বদরুলের সহপাঠীরা জানান, ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তার সহপাঠীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকালেও তিনি এখনও কোর্স শেষ করতে পারেনি। বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের ৮ মে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদকের পদ পান তিনি। এই পদ পাওয়ার পর থেকে আবারও খাদিজাকে তার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর জন্য তাগাদা ও চাপ দিয়ে আসছিলেন বদরুল।

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার আলহাজ আয়াজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে তিন বছর থেকেই শিক্ষকতা করে আসছেন বদরুল। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার কোনো কমিটিতে পদ পাওয়ার কথা ছিল না। তারপরও পাঁচ মাস আগে অনুমোদন করা কমিটিতে স্থান পান বদরুল।

ঢাকাটাইমস/০৫অক্টোবর/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত