সরকারি পুকুর ভরাটে ছাত্রলীগ-যুবলীগ, নীরব প্রশাসন

সাগর হোসেন তামিম, মাদারীপুর থেকে
 | প্রকাশিত : ০৬ অক্টোবর ২০১৬, ১২:২৩

মাদারীপুর শহরের লঞ্চঘাট এলাকার পুলিশ ফাঁড়ি পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা এই কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভা থেকে পুকুরটি ভরাট বন্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

মঙ্গলবার সকাল থেকে খননযন্ত্রের একটি পাইপ দিয়ে পুকুরে বালু ফেলা হচ্ছে। কিন্তু চিঠি পেয়েও জেলা প্রশাসক কামালউদ্দিন বিশ্বাস কোন পদক্ষেপ নেয়নি। জেলা প্রশাসক বলছেন, পুকুর ভরাট বন্ধের বিষয়টি নৌমন্ত্রীর সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শহরের পুরান বাজারের লঞ্চঘাট এলাকায় পুকুরটি অবস্থিত। ব্রিটিশ আমলে খনন করা দুই একর তিন শতাংশের এই পুকুরের মালিক জেলা প্রশাসন। পুকুরটি ভরাটের পাঁয়তারার বিষয়টি টের পেয়ে এটি রক্ষার অনুরোধ জানিয়ে মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ গত এক বছরে জেলা প্রশাসককে তিন দফা চিঠি দিয়েছেন।

পুকুরটি ভরাট বন্ধের দাবি জানিয়ে স্থানীয় জনতা ও ফ্রেন্ডস অব নেচার নামের একটি পরিবেশবাদী সংগঠন মঙ্গলবার শহরে মানববন্ধন করে। স্থানীয় বাসিন্দা মুরাদুল ইসলাম, ভাস্কর, খোকা জানান, পুকুরটিতে তারা নিয়মিত গোসল করাসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করেন।

মাদারীপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন ভুইয়া বলেন, ‘গত কয়েক বছরে শহরের বেশিরভাগ পুকুরই ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে পুরান বাজার এলাকায় আগুন লাগলে তা নেভাতে পানি পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। এই পুকুরটি ভরাট হয়ে গেলে সঙ্কট আরও বাড়বে।’

নেপথ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতারা
পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ ইতিমধ্যে খনন যন্ত্রের মালিক শাহীন মুন্সি ও সৈয়দ রাজিবকে চিঠি দিয়ে পুকুর ভরাট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে পুকুর ভরাট থামানো যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানান, জেলা যুবলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রুবেল খান, জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ও জেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর মাহমুদ এই ভরাটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন নেতা সেখানে অবস্থান করছেন। পুকুরে একটি পাইপ দিয়ে বালু ফেলা হচ্ছে। জাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, ‘মাদারীপুর শহর রক্ষা বাঁধের কাছাকাছি যত পুকুর আছে, সব ভরাট করার নির্দেশ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসকও অবহিত আছেন। তাঁদের অনুমতি নিয়েই আমরা ভরাটকাজ শুরু করেছি।’

সাইফুর রহমান রুবেল খানের দাবি, ‘পুকুর ভরাট করে সরকারের উন্নয়নকাজ করা হবে। নৌপরিবহনমন্ত্রী মাদারীপুরের উন্নয়ন করার জন্য পুকুর ভরাট করার নির্দেশ দিয়েছেন।’

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র বলেন, শহরে পানি সংরক্ষণের জন্য পুকুরটি বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এ ছাড়া জলাধার ও পরিবেশ আইনে পুকুর ভরাট করা নিষেধ। দুঃখের বিষয়, জেলা প্রশাসন পুকুরটি রক্ষায় এগিয়ে আসছে না।

জেলা প্রশাসক কামাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘পুকুরটির মালিক জেলা প্রশাসন। সেটি ভরাট করার অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। সেখানে কোনো উন্নয়নকাজ করারও কোনো নির্দেশনা নেই। পুকুর ভরাটের অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে নৌমন্ত্রীর সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

ঢাকাটাইমস/০৬অক্টোবর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত