১০ টাকার চালে অনিয়ম: ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

নীলফামারী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৬, ২০:২৫ | প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর ২০১৬, ১৯:৪২

হতদরিদ্রদের বদলে সচ্ছলদেরকে ১০ টাকা কেজি দরের চাল দেয়ার অভিযোগে নীলফামারীতে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিরা হলেন ডোমার উপজেলার হরিনচড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য আহসান হাবিব এবং দুই কার্ডধারী রশিদুল ইসলাম ও আহসান হাবিব।

বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মৃত্যুঞ্জয় রায় ডোমার থানায় ৪২০ ও ৪০৯ ধারায় একটি মামলা করে।

মামলায় যে দুই কার্ডধারীকে আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে রশিদুলের চালকল, পাকা বাড়ি এবং প্রায় ১৫ বিঘা জমি রয়েছে। আহসান হাবিবেরও ১০ থেকে ১২ বিঘা জমির পাশাপাশি পাকা বাড়ি রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এই দুই জন ছাড়াও এই এলাকায় চাল বিতরণের জন্য দেয়া খাদ্যবান্ধব কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। হরিনচড়া ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সত্যেন্দ্র নাথ রায়, স্ত্রী পুস্প রানী তার বাবা সুরেন্দ্রনাথ রায়ের নামেও কার্ড রয়েছে। কিন্তু তাদের কারও এই কার্ড পাওয়ার কথা না।  

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, অতিদরিদ্রদের জন্য সরকার এই বিশেষ খাদ্য কর্মসূচি চালু করেছে। এ নিয়ে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। এমন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে কারও পরিচয় বিবেচনা না করেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমেদ রাজিউর রহমান বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়া হবে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ১০ টাকা কেজিদরের চাল বিতরণ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীগত সাত সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অতিদরিদ্রদের জন্য এই বিশেষ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে দেশের অন্য এলাকাতেও চালু হয় তা। এই কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারীদেরকে বছরের পাঁচ মাস চাল দেয়া হবে। প্রতি কেজি ১০ টাকা দরে মাসে একেকজন ৩০ কেজি করে চাল পাবেন।

এই কর্মসূচি উদ্বোধনের সময়ই এ নিয়ে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। কিন্তু গত দুই মাস ধরেই তালিকা প্রণয়ন ও কার্ড তৈরিতে স্বজনপ্রীতি, গরিবদেরকে বাদ দিয়ে স্বচ্ছল এমনকি সরকারি চাকরিজীবী, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদেরকে কার্ড বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও তালিকায় নাম তুলতে ঘুষ নেয়া এবং ওজনে কারচুপির অভিযোগও উঠেছে।

এসব অভিযোগ আসার পর গত বুধবার জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও একই হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, অনিয়মের প্রমাণ মিললে জনপ্রতিনিধিরাও পার পাবেন না।
ঢাকাটাইমস/০৬অক্টোবর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত