সোনার হদিস নেই, দুই পুলিশকে হস্তান্তর

এম বেলাল হোসাইন, সাতক্ষীরা
 | প্রকাশিত : ০৯ অক্টোবর ২০১৬, ২০:৩১

শুক্রবার রাতে গণপিটুনির শিকার বিপ্লব চ্যাটার্জিকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাতক্ষীরা জেল হাজতে পাঠিয়ে এবং পুলিশের এএসআই আব্দুর রউফ পল্টু ও কনস্টেবল মারুফকে হস্তান্তর করা হয়েছে তাদের কর্মস্থল ঝিনাইদহ জেলা  পুলিশের কাছে। তাদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হতে পারে।

তবে ঘটনার  পরপর পুলিশ দুই পিস সোনা উদ্ধারের কথা বললেও পরে জানায় বিপ্লব ইয়াবা চোরাচালানি। তার কাছে ২১১টি ইয়াবা পাওয়া গেছে।  তবে গুঞ্জন রয়েছে তার কাছে ছিল তিন কেজি সোনা।

বহুল আলোচিত ও রহস্যজনক এ ঘটনার জন্ম শুক্রবার রাত নয়টার দিকে তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের সেনপুর বাজারে। সেখানে তিনজনকেই গণপিটুনি দিয়ে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয় এলাকাবাসী।
জানা গেছে, যশোরের কেশবপুরের ভাটপাড়া গ্রামের সুধীর চ্যাটার্জির ছেলে বিপ্লব একজন স্বর্ণ চোরাচালানি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। শুক্রবার বিপ্লব তিন কেজি স্বর্ণ ভারতে পাচারের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় যেতে  খুলনার  সোনাডাঙ্গা থেকে বাসে চড়েন। তার বাস অনুসরণ করে এসে মাঝপথে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তাকে বাস থেকে নামান হরিনাকুন্ডু থানার উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) আবদুর রউফ পল্টু ও কনস্টেবল মারুফ।
বিপ্লবকে তারা একটি মোটরসাইকেলের বসিয়ে নিয়ে আসেন সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা ইউনিয়নের সেনপুর বাজারে। বিপ্লবের কাছে থাকা স্বর্ণ হাতানোর লক্ষ্যে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যেতে থাকলে বিপ্লব ‘আমাকে বাঁচান, আমাকে বাঁচান’ বলে চিৎকার দেন। বাজারের লোকজন ছিনতাইকারী সন্দেহে গাড়িটি থামিয়ে সাদা পোশাক পরিহিত পুলিশের দুই সদস্যকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে।
এএসআই পল্টু ও কনস্টেবল মারুফ এ সময় নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিলে ক্ষুব্ধ জনতা তাদের ইন্ধনে বিপ্লবকে মারপিট শুরু করেন। গণপিটুনির পর তিনজনকেই  সেনপুরের বাবুর দোকানে আটকে রাখা হয়।
খবর পেয়ে পাটকেলঘাটা থানার এএসআই মুরাদ ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন।
এদিকে রাতে ওসি মহিবুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বিপ্লব স্বীকার করেছে যে তার কাছে দুই পিস স্বর্ণ ছিল। তবে সেই স্বর্ণ কোথায় তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
এদিকে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দিনভর সংবাদকর্মীসহ সবার কৌতূহল ছিল কতটুকু স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে তা জানার জন্য। বিকালে পাটকেলঘাটা থানার ওসি মহিবুল ইসলাম জানান, বিপ্লবের খোয়া যাওয়া স্বর্ণ উদ্ধার হয়নি। এমনকি সোনার পরিমাণও নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
ওসি আরো জানান জানান, বিপ্লব স্বর্ণ চোরাচালানি নন। দেহ তল্লাশি করে তার কাছে পাওয়া গেছে ২১১ পিস ইয়াবা। তাকে ইয়াবা চোরাচালান মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশ সদস্য আবদুর রউফ পল্টু ও মারুফ ছুটিতে থাকাকালে এবং বাইরের কোনো জেলায় কোনো সন্দিগ্ধ ব্যক্তির সন্ধান পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে স্থানীয় থানার সহায়তা না নিয়ে ভুল করেছেন। এ জন্য তারা গণপিটুনি খাওয়ায় পুলিশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণœœ হয়েছে। এসব কারণে তাদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনার লক্ষ্যে তাদের কর্মস্থল ঝিনাইদহ জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওসি।    
আলোচিত এএসআই আবদুর রউফ পল্টু ও কনস্টেবল মারুফ ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু থানায় কর্মরত। হরিনাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহতাবউদ্দিন  জানান, এএসআই পল্টু ঢাকায় সাক্ষী দিতে ও মারুফ তার বাবার অসুস্থতার কারণে ছুটিতে গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা এমন অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হন বলে জানান তিনি।
(ঢাকাটাইমস/৯অক্টোবর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত