সাড়া ফেলেছে মার্সেলের ‘ফিফটি ফিফটি’ ফ্রিজ

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ০৩ অক্টোবর ২০১৬, ১৬:২৫

বাংলাদেশে কনজ্যুমার বেজড ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে মার্সেল ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের ফিফটি-ফিফটি ফ্রিজ। ফ্রিজের সাধারণ এবং ডিপ অংশ সমান সমান বলে ক্রেতাদের মুখে মুখে এ ধরনের নাম হয়েছে। এর ফলে আলাদা করে ডিপ ফ্রিজ কেনার প্রয়োজন হয় না। দুটি ফ্রিজ কেনার চেয়ে একটি ফ্রিজেই কাজ হয়ে যাচ্ছে বলে ক্রেতাদের কাছে এটি এখন হটকেক। দেশীয় প্রকৌশলীদের এই উদ্ভাবন সময় উপযোগী বলেই মানছেন মার্সেল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, মার্সেল ব্র্যান্ডের ২০৯ লিটার, ২১৩ লিটার ও ২১৮ লিটারের নতুন তিনটি ফ্রস্ট ফ্রিজ এসেছে বাজারে। এই ফ্রিজগুলোর নরমাল ও ডিপ এর জন্য রয়েছে প্রায় সমপরিমাণ জায়গা। দেশীয় প্রযুক্তিবিদদের মাধ্যমে নিজস্ব গবেষণায় বিশেষ ডিজাইনে তৈরি এইসব ফ্রিজকেই বলা হচ্ছে ‘ফিফটি ফিফটি’।

ফেনীর দাগনভূঞাঁ থানার হাসানগণীপুরের বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, তিনি অনেকদিন ধরেই এমন একটি ফ্রিজ খুঁজছিলেন যেটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ, মাংস সংরক্ষণের জন্য বড় ডিপ রয়েছে। গ্রামে যেহেতু সব পরিবারে ফ্রিজ নেই, তাই যার ঘরে ফ্রিজ থাকে তাকে প্রতিবেশীদের মাস, মাংসও রাখতে হয়। সেক্ষেত্রে, ডিপ এর অংশটি বড় না হলে চলে না। কিন্তু, বাজারে সেরকম ফ্রিজ খুঁজে পাইনি। এবারে কোরবানি ঈদের আগে মার্সেলের বড় ডিপযুক্ত একটি ফ্রিজ কিনেছি। নরমাল এবং ডিপ অংশ সমান বলে আমরা একে ফিফটি-ফিফটি বলছি। তিনি জানান, প্রতিবেশীদের মাঝেও মার্সেল ফিফটি ফিফটি নামটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

মার্সেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদুল আজহার আগে গত আগস্টে বাজারে এসেছে নিজস্ব কারখানায় তৈরি অসংখ্য কালারের ফিফটি ফিফটি মডেলের ফ্রিজ। ক্রেতাদের অর্থ ও বিদ্যুত খরচ সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করেই মার্সেল এ ধরনের ফ্রিজ তৈরি করছে। সাধারণত, দেশে আমদানিকৃত ফ্রিজে ডিপ এর অংশটিতে জায়গা থাকে নরমাল অংশের প্রায় অর্ধেক, অথবা তারও কম। যা বেশি মাছ বা মাংস সংরক্ষণের অনুপযোপী। কিন্তু আমাদের দেশে সাধারণত ডিপ অংশে বেশি পরিমাণ মাছ এবং মাংস সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়। 

মার্সেলের বিপণন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশের মানুষের এই প্রয়োজনের দিকটি বিবেচনায় নিয়ে মার্সেল নিজস্ব কারখানায় এই ফিফটি ফিফটি ফ্রিজ তৈরি ও সরবরাহ করছে। এই ফ্রিজ ঘরে থাকলে আলাদা করে ডিপ ফ্রিজ কেনার দরকার হয় না। কারো সামর্থ থাকলে তিনি দুটি ফিফটি ফ্রিজও ক্রয় করতে পারেন। ক্রেতারাও লুফে নিচ্ছেন এ সুযোগ। কর্তৃপক্ষ বলছে, গত বছরের কোরবানির ঈদকে ঘিরে যে পরিমাণ ফ্রিজ বিক্রি হয়েছিল মার্সেলের, এবার বিক্রি হয়েছে তার দ্বিগুণ।

মার্সেলের ফ্রিজ আরএন্ডডি বিভাগের প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা বলেন, বিশেষ ডিজাইনের ফিফটি ফিফটি মডেলের ফ্রিজে ব্যবহার করা হচ্ছে ডিইসিএস আলট্রাব্রিড ফোর ডি প্রযুক্তি। ফ্রিজের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হয়েছে শতভাগ কপার কন্ডেন্সার। আরও রয়েছে প্রযুক্তির বিস্ময় ন্যানো হেলথ টেকনোলজি। যা ফ্রিজের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সংক্রমিত রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজা এবং ফাংগাস ধ্বংস করে। খাবারকে রাখে সতেজ, টাটকা এবং জীবাণুমুক্ত। মারাত্মক ক্ষতিকারক এইচসিএফসি গ্যাসমুক্ত সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে এতে। এনার্জি সেভিং এলইডি লাইট ব্যবহারের ফলে ফ্রিজের বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় হচ্ছে। উৎপাদন পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এক বছরের মধ্যে ফ্রিজে কোনো সমস্যা হলে সম্পূর্ণ রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টির সুবিধা দেয়া হচ্ছে, যা ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে।

মার্সেলের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (উত্তর) মোশারফ হোসেন রাজীব বলেন, মার্সেলের পণ্য উন্নয়ন ও গবেষণা বিভাগের প্রকৌশলীরা নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে নিত্য নতুন বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের পণ্য বাজারে আনছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাজারে এসেছে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী মডেলের ফিফটি ফিফটি ফ্রিজ। যা কিনা সম্প্রতি মার্সেল ব্র্যান্ডের ফ্রিজ বিক্রি বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে।

মার্সেলের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (দক্ষিণ) শামীম আল মামুন জানান, সিংহভাগ বাজার দখলের লক্ষ্যে চলতি বছরটিকে ‘চ্যালেঞ্জিং ইয়ার’ হিসেবে নিয়েছে মার্সেল। আর তাই গ্রাহকদের জন্য বাজারে ছাড়া হয়েছে বেশকিছু নতুন ও বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের পণ্য। এর মধ্যে স্পেশাল হলো ফিফটি ফিফটি মডেলের নতুন ফ্রস্ট ফ্রিজগুলো। যা বাজারে ছাড়ার পর অতি অল্প সময়েই গ্রাহকদের মন জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/০৩অক্টোবর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত