টাম্পাকো ফয়েলস ট্রাজেডি

এক মাসে প্রতিবেদন দেয়নি চার তদন্ত কমিটি

আশিক আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৬, ১৭:২৩ | প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০১৬, ১৭:০৯

টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস প্যাকেজিং কারখানায় সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকা-ের এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি এখনো। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসসহ চারটি সংস্থার আলাদা চার তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তাদের ৫ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল।
অগ্নিকা-ের এক মাস পর আজ সোমবার টাম্পাকোর উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসক। ধ্বংসস্তূপে আর কোনো মৃতদেহ নেই বলে জানানো হয়েছে সাংবাদিকদের।
গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে গাজীপুরের টঙ্গীর টাম্পাকোতে আগুনে কমপক্ষে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়। নিখোঁজ রয়েছেন আরো নয়জন। এ ছাড়া শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও এখনো জানা যায়নি টাম্পাকোতে আগুন লাগার কারণ। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তদন্ত কমিটির কাজ শেষ হয়নি। আগুন লাগার পরদিন গঠিত ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। পাঁচ সদস্যের এই কমিটির প্রধান হলেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. বদিউজ্জামান।
একই দিন (১১ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রায়হেনুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল।
তৃতীয় তদন্ত কমিটিটি হলো কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের। তিন সদস্যের এই কমিটির প্রধান হলেন সংস্থাটির উপমহাপরিদর্শক মো. শামছুজ্জামান ভূঁইয়া।
এ ছাড়া টঙ্গীর বিসিকের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কিন্তু বরাদ্দ করা সময় পেরিয়ে গেলেও চারটি তদন্ত কমিটির কোনোটিই প্রতিবেদন জমা দেয়নি।  কবে দিতে পারবে সে ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য কেউ দিতে পারছে না তারা।  
এদিকে সোমবার সকালে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম আনুষ্ঠানিকভাবে টাম্পাকোর উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সমাপ্ত করা হলো উদ্ধার অভিযান।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান মো. রায়হেনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন তারা। তবে সুনির্দিষ্ট সময় বলতে পারবেন না। তদন্তে কী পাওয়া গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা বিশেষ করে দেখেছেন কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা বা গাফিলতির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কি না।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে ফায়ার সার্ভিস তদন্তকাজ করছে। তবে এখনো কাজ শেষ করতে পারেননি সংস্থাটি।
জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক প্রশাসন মো. বদিউজ্জামান বলেন, ‘এখনো তদন্তকাজ শেষ হয়নি। তাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারিনি। আর তদন্তকাজে যাদের সহযোগিতা করার কথা ছিল তাদের কেউই প্রতিবেদন দেননি।’
আর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে উপমহাপরিদর্শক মো. শামছুজ্জামান ভূঁইয়ার দপ্তরের টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। মুমিনা আক্তার নামের একজন নারী কর্মী জানান, উপমহাপরিদর্শক  তখন মিটিংয়ে ব্যস্ত।


(ঢাকাটাইমস/১০অক্টোবর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত