তবু আশায় সাবের চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৬, ১৪:২০ | প্রকাশিত : ০৯ অক্টোবর ২০১৬, ০৮:৩৯

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসাবেই পরিচিত ছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী। কিন্তু ২০০৭ সালে এক এগারোর পটপরিবর্তনের পরের নানা ঘটনাপ্রবাহে সেই আস্থায় সময়িক চিড় ধরেছিল দলের নেত্রীর। আর এর ফলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আসলেও সাবের চৌধুরীর সরকারে কোনো পদ পাননি।

ভদ্র রাজনীতিক হিসেবে একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আছে সাবেরের। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও বেশ জনপ্রিয় তিনি। এক পর্যায়ে কাছাকাছি আসেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্কই ছিল সাবেরের। দলীয় সভাপতিও তাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা সাফল্যেও সঙ্গেই পালন করেছিলেন তিনি। আর নেত্রীর আস্থার ফলস্বরুপ তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও মনোনীত হন সাবের।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন সাবের চৌধুরী। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে ছিল তখন আন্দোলনেও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তার।

তবে এক এগারোর পর তার ওপর রাখা আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি সাবের। ফলশ্রুতিতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের ১৮তম জাতীয় সম্মেলনের পর বাদ পড়েন সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে। ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সম্মেলনেও তাঁকে কোন পদে রাখা হয়নি।

তবে ঢাকাটাইমসকে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, টানা দুই সম্মেলনে দলের পদে না থাকলেও এবারের সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে পারেন সাবের চৌধুরী।

সাবের চৌধুরীর একজন অনুসারী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘দলে পদপদবি  না থাকলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের জন্য কাজ করছেন সাবের ভাই। এক্ষেত্রে তিনি সফলতার পরিচয়ও দিয়েছেন। তাই আমরা আশা করি দল তাকে মূল্যায়ন করবে।’

এর আগে ১৯৯৬ সালে ঢাকা-৬ নির্বাচনী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবের। তৎকালীন মন্ত্রিসভার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন তিনি। ওই সময় তাকে দেয়া হয় নৌ পরিবহন উপমন্ত্রীর। দায়িত্বপালনে সফলতার পরিচয় দেয়ায় পরে তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

শুধু রাজনীতিতে নয়, সাবের অবদান রেখেছিলেন খেলাধুলার উন্নয়নেও। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ছিলেন তিনি। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে ২০০০ সালের জুন মাসে আইসিসির পূর্ণ সদস্য পদ এবং টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট পৌঁছেছিল অনন্য উচ্চতায়।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে এবং বিশ্ব ক্রিকেটে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালের অক্টোবর মাসে লন্ডনে মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব সাবেরকে আজীবন সদস্যপদ প্রদান করে।

২০১৪ সালে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি নির্বাচিত হন সাবের চৌধুরী। তিন বছর তিনি এ ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সাবের চৌধুরী অস্ট্রেলীয় পার্লামেন্টের স্পিকার ব্রডউইন বিশপকে ১৭৫-৬৫ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আইপিইউর সভাপতি নির্বাচিত হলেন। ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের গত ২৭ বছরের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়। সাবের হোসেন চৌধুরী হলেন আইপিইউর ২৮তম সভাপতি।

(ঢাকাটাইমস/৮অক্টোবর/টিএ/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত