মানিকগঞ্জ পাসর্পোট অফিসে দুর্নীতি-২

এক সুমনে অতীষ্ঠ সবাই

মঞ্জুর রহমান, মানিকগঞ্জ থেকে
| আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৬, ১২:৫২ | প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর ২০১৬, ০৯:৫৬

মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী হিসাবরক্ষক সুমন তালুকদারকে বদলি করাই যাচ্ছে না। গত তিন বছরে তার বদলির আদেশ হয়েছে চার বার। প্রতিবারই নানা কৌশলে সে আদেশ ঠেকিয়েছেন তিনি।

সরকারি কর্মকর্তার একেকটি এলাকায় দুই বছর থাকার কথা। কিন্তু সুমন মানিকগঞ্জ থেকে যেতেই চাইছেন না। কেন তার এই চাওয়া, তার অনুসন্ধান করতে গিয়ে বের হলো পাসপোর্ট অফিসের অজানা বহু কাহিনি।

এক সুমনের দাপটে অসহায় সবাই

এই কার্যালয়ের সহকারী হিসেবরক্ষক হলেও সুমনের দাপট অনেক বেশি। কর্মকর্তাদের মধ্যে বলাবলি আছে, তার ইচ্ছার বাইরে এখানে কিছু করা সম্ভব নয়। গোটা অফিসের দুর্নীতি আর অনিয়মের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুই তিনি। আর এ কারণে ভুগতে হচ্ছে গ্রাহক এমনকি অফিসের কর্মকর্তাদেরও। অফিসের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলামকেও সুমনের কথাতেই চলতে হয়, এমন কথাও প্রচলিত আছে অফিসে।

গত চার বছর ধরেই মানিকগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্মে গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। এদের সঙ্গেও সুমনের যোগসাজসের অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

আঞ্চলিকতার প্রভাব খাটিয়ে এখান থেকে নাশকতার মামলার আসামি জামায়াত-শিবিরের বেশ কিছু কর্মীও পাসপোর্ট পেয়েছে এই অফিস থেকে। এর পেছনেও সুমনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে।

পাসপোর্ট বানাতে গিয়ে অফিস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন জেলা জামায়াতের আমির দেলোয়ার হোসেন। ছাত্রশিবির নেতা আলিনুর শেখ রাশার সহযোগিতা এবং সুমন তালুকদারে আশ্বাসেই তিনি পাসপোর্ট করতে বেউথা পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারি থাকায় ধরা পড়েন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে বলেন, সুমন তালুকদারের মূল কাজ অফিসের হিসাব সংরক্ষণ করা। অথচ তিনি অফিসের সব কাজেই নাক গলান। দায়িত্ব না থাকলেও ডাবল ফিঙ্গার প্রিন্ট জনিত সমস্যা ও ডেমোর (পাসপোর্টের একাধিক সমস্যা) কাজ দেখভাল করেন সুমন তালুকদার। এক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা থেকে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায়ের নজির রয়েছে।
সুমন তালুকদার নানা সময় নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয় বলেও পরিচয় দেন।

সুমন যা বললেন

তবে নিজের বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন তালুকদার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমার কাজ পাসপোর্ট অফিসের হিসেব রাখা। আমি সেটা করি।’

মানিকগঞ্জ থেকে বদলি হতে অনীহার কারণ জানতে চাইলে সুমন দাবি করেন, এখন পর্যন্ত তার কোনো বদলির নির্দেশ আসেনি।

এক প্রশ্নের জবাবে সুমন স্বীকার করেন, জেলা জামায়াতের আমির দেলোয়ার হোসেনের ভাতিজা আলীনুর শেখ রাশার সাথে আমার পরিচয় রয়েছে। তবে সে কারণে জামায়াত শিবিরের কর্মীদেও পাসপোর্ট করতে সহযোগিতা করার কোনো কারণ নেই।
প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি তিন মাস আগে এখানে এসেছি। সহকারী হিসেব রক্ষক সুমন তালুকদারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ লোকমুখে আমিও শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হবে, ঘটনা সত্য হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস বলেন, ‘মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের অনিয়মের বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার আমি পাসপোর্ট অফিসে যাব। অভিযোগের সত্যতা পেলে সুমনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবো।

ঢাকাটাইমস/১২অক্টোবর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত