শাহ আমানতের ইমিগ্রেশনে মানবপাচার চক্র

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম ব্যুরো
 | প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর ২০১৬, ০৯:১০

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানব পাচার করছে পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখার একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সম্প্রতি চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭-এর প্রতিবেদনে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মানব পাচার কাজে জড়িত দালাল ও এজেন্টকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি র‌্যাবের।

সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে লিবিয়া পাচারকালে ৩৯ যাত্রীকে আটক করে র‌্যাব। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে দালাল চক্রের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) থেকে জানা যায়, মানব পাচারে শাহ আমানত ইমিগ্রেশন পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পুলিশ সদর দপ্তরে জানানো হয়েছে।

র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) চন্দর দেবনাথ বলেন, মানব পাচারের বিষয়ে শাহ আমানতের পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখার সংঘবদ্ধ চক্রের বিষয়টিও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পাচার কাজে নিয়োজিত দেশের ৩০ জনের মতো দালাল ও দুটি ট্রাভেল এজেন্সিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এদের নজরে রেখেছে র‌্যাব।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শাহ আমানত বিমানবন্দরের পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখায় সংঘবদ্ধ চক্রের মানবপাচারের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন রয়েছে, যা তদন্ত করছে পুলিশ সদর দপ্তর। প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মেলায় এক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সেখান থেকে বদলিও করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, গত বুধবার রাতে শাহ আমানত থেকে লিবিয়ায় মানব পাচারের খবর পেয়ে বিষয়টি র‌্যাবকে জানানো হয়। র‌্যাব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পাচার থেকে রক্ষা পায় ওই ব্যক্তিরা।  

র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, মানব পাচারে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্র দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির থেকে কম খরচে লিবিয়া, কাতার, সৌদি আরব, ইরাক, তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে চট্টগ্রামে এনে হোটেলে জড়ো করে। সেখানে চক্রের কতিপয় সদস্য পাসপোর্ট ও ভিসা দেয়।  এসব ভিসা ও পাসপোর্ট জাল হলেও বিমানবন্দরে পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখার একটি চক্রের সহযোগিতায় পাচার করা হয় তাদের।

সূত্র আরও জানায়, নির্বিঘেœ মানব পাচারের জন্য শাহ আমানতে পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখায় কিছু অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যাদের বেশির ভাগের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার জেলায়।

সূত্র বলছে, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া এসব পুলিশ সদস্য ঘুরেফিরে ইমিগ্রেশন শাখায় কাজ করতে বেশি আগ্রহী। একবার বদলি হলে ফের তদবির করে ফিরে আসেন ইমিগ্রেশন শাখায়।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ইমিগ্রেশন) আরেফিন জুয়েল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইমিগ্রেশন থেকে কিছু পুলিশ সদস্য একবার বদলি হলে ঊর্ধ্বতন মহলে নানা তদবির করে ফের পুরনো জায়গায় ফিরে আসেন, যারা মানব পাচারে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

অতিরিক্ত উপকমিশনার জানান, ইমিগ্রেশন শাখার কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওমরার নামে সৌদি আরবে রোহিঙ্গাসহ মানব পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুলিশ সদর দপ্তর বিষয়টি তদন্ত করছে।

সূত্র জানায়, ইমিগ্রেশন শাখায় ছয় মাসের বেশি দায়িত্ব পালনের কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো নিয়মই মানা হচ্ছে না। একবার বদলি হলে কয়েক মাস পর ঘুরেফিরে সেখানেই পোস্টিং নিয়ে ফিরে আসেন তারা। এতে আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জানান, সিএমপির সাবেক এক কর্মকর্তাসহ ইমিগ্রেশন শাখার কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওমরার নামে সৌদি আরবে রোহিঙ্গাসহ মানব পাচারকাজে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদ্য যোগদানকারী সিএমপির কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, মানব পাচারের বিষয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশে অনিয়মের কথা পুলিশ সদর দপ্তরে জানানো হয়েছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শাহ আমানতের ইমিগ্রেশন শাখায় বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৫৯ জন। এর মধ্যে একজন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার। মঞ্জুরিকৃত তিনজনের বিপরীতে পরিদর্শক আছেন ৭ জন, ১৯ জনের বিপরীতে এসআই আছেন ২৫ জন, তিনজনের বিপরীতে এএসআই আছেন ১২ জন, দুজনের বিপরীতে কনস্টেবল আছেন ১৫ জন।

(ঢাকাটাইমস/১৬অক্টোবর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত