ইমাম হোসেনের পক্ষে কারবালার যুদ্ধে ছিল হিন্দু সেনারাও!

মিনহাজুল ইসলাম, টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে
| আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৬, ১৬:৩৯ | প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর ২০১৬, ১৬:৩৭

এই ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিমদের দ্বন্দ্বে কতই না প্রাণ গেছে। কত সম্পদ নষ্ট হয়েছে তার কোনো ইয়ত্ত্বা নেই। পারস্পরিক ঘৃণা থেকে ভাগ হয়েছে দেশ, এখনও লেগেই আছে সংঘাত, সংঘর্ষ।

বলা হয় এই বিভেদ কৃত্রিম। উপমহাদেশ শাসন করতে ব্রিটিশদের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতির কারণে এই শত্রুতা দুই ধর্মের মধ্যে।

ইতিহাস বলে, কিছু হিন্দু ধর্মাবলম্বী ৬১ হিজরি সনের ১০ মহররম মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের সঙ্গে কারবালার প্রান্তরে এজিদের বিপক্ষে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। বিভিন্ন বই এবং রেকর্ডের তথ্যসূত্রেও এর উল্লেখ আছে।

সেই যোদ্ধাদের উত্তরপুরুষরা এখনও ভারতে রয়েছেন। তারাও শিয়া সম্প্রাদের মতোই মহররমের বিয়োগান্তক ঘটনার স্মরণ করে একই ভাবে। ২০০৮ সাল থেকে এই স্মরণ শুরু হয়।  

তারা তাদের বংশকে হোসেইনী ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় হিসেবে দাবি করে । ২০০৮ সালে থেকে  তারা তাদের শত শত বছর পুরনো অশ্রু বিসর্জনের ঐতিহ্যটাকে পুনরায় গ্রহণ করে কারবালা'র শহীদদের স্মরণে - যা তাদের পূর্বপুরুষরা করে আসছিল। বিশেষ করে ‘ভূমিহার’রা,  এই গোষ্ঠীটি ব্রহমপুর এলাকার ইমামবাড়া থেকে নিজেদের বুকে আঘাত করতে করতে ইয়া হোসেন ইয়া হোসেন স্লোগান দিয়ে খালি পায়ে মিছিল শুরু করে।

তাদের একটি আলাদা পতাকাও আছে যা ইমাম হোসেন এবং তার শহীদত্বের প্রতি তাদের অনুভূতি প্রচার করে। ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা ইমাম হোসেন এর পক্ষে লড়াই করেছে এবং কারবালাতে প্রাণ দিয়েছে এবং এই ঐতিহাসিক শহীদের যন্ত্রণায় আমরা সমানভাবে ব্যথিত’- বলেন ভূমিহার ব্রাহ্মণ মহাসভার আহব্বায়ক অরুণ কুমার শর্মা।

এই জাতিটি যাদের পরবর্তীতে নাম হয়েছে হোসেইনি ব্রাহ্মণ, তারা  ইউফ্রেটিস নদীর তীরে স্থায়ী হয়েছিল। পরে তারা ভারতে ফিরে আসে এবং দত্ত,  মহিয়াল, তিয়াগিসহ আরও বেশ কিছু নাম ধারণ করেন। তারা ইসলামি এবং হিন্দু রীতিনীতির একটি জটিল মিশ্রণ চর্চাও করে থাকে।

মুসলমান ছাড়া একমাত্র তারাই নিজেদের অধিকার দাবি করে মহররমের ক্রিয়াকাণ্ডে যোগদান করে। প্রয়াত সুনীল দত্ত (অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের পিতা) ছিলেন এই হোসেইনি ব্রাহ্মণদের একজন,  যিনি প্রতিবছর মহররম এর অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন।

উপেন্দ্র প্রসাদ সাহনি নামে একজন বলেন, ‘কারবালার লড়াইটা ছিল মানবতা এবং বিশ্বাস রক্ষার্থে একটা যুদ্ধ। আমরা গর্বিত যে, আমাদের পূর্বপুরুষরাও এখানে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।’

কথিত আছে যে, রাহাব সিধ দত্ত কারবালার যুদ্ধে হযরত ইমাম হোসেন এর পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন, এই যুদ্ধে তার সাত সন্তানকে বলিও দিতে হয়েছিল। ওই সময় বাগদাদের কাছেই একটি ছোট সৈন্য-দল এর নেতা হিসেবে বসবাস করতেন  রাহাব। মুন্সি প্রেম চান্দ তার কারবালা উপন্যাসটিতে হিন্দুরা যে ইমাম হোসেইন এর পক্ষে যুদ্ধ করেছে সে কথা কয়েকবার উল্লেখ করেছেন এবং তাদেরকে দ্রোণাচার্যের সন্তান অশ্বথামার উত্তরপুরুষ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

হোসেইনি ব্রাহ্মণ জাতিটি আজকে একটি দ্রুত বিলীয়মান সম্প্রদায়। বলা হচ্ছে, এই জাতিটির তরুণ প্রজন্মরা তাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যটাকে ত্যাগ করা শুরু করেছে।

শর্মা তার জাতের মানুষদেরকে এই ঐতিহ্যে পুনর্জীবিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বরং উচিত ঐতিহ্যটাকে নিয়ে গর্ব অনুভব করা।’ ‘ইসলাম আবির্ভাবের পূর্বে, আমাদের আরব বিশ্বের মানুষদের সাথে রক্তের সম্পর্ক ছিল’-হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতির কথাই যেন বলে গেলেন শর্মা।

ঢাকাটাইমস/১২অক্টোবর/এমআই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত