দুই টাকার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

তুষার মফিদুল হক
| আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৬, ০৯:৩৫ | প্রকাশিত : ১৩ অক্টোবর ২০১৬, ০৯:২৩

‘২৫৫ আগামিকাল রাজশাহী যাবে তাড়াতাড়ি চলে আয়’ - হঠাৎ তারেক ভাইয়ের ফোন। ব্যাগ গুছিয়ে ২৫৫ তে চেপে বসলাম, পাশে রফিক ড্রাইভার। উদ্দেশ্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফর্ম কেনা। দানবের মত এগিয়ে চলেছে "যশোর ট-২৫৫" ট্রাকখানা। কোনো কিছুকেই যেন তোয়াক্কা করছেনা।  

ইতিমধ্যে ভেড়ামারা ফেরিঘাটে অনেক বড় জ্যামে আটকা পড়লাম। জোৎস্নার আবছা আলোতে যেন দানবের মত দেখাচ্ছিল পার্শের হার্ডিঞ্জ ব্রিজটি।  কাছে যাওয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। ছোটবেলায় বইতে পড়েছি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত বিখ্যাত এই ব্রিজের কথা।  

হাঁটা শুরু করলাম, তারপর দৌড়ানো। কিন্তু পথ যেন আর শেষ হয়না। ডান পাশে নদী আর বা-পাশে ঢোলকোলমি গাছের ভয়ানক জঙ্গল। পেছনে যেন হিংস্র প্রানী তাড়া করছে। কোন এক গতিদানব আমাকে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে! যেন পেছনে ফেরার উপায় নেই।

চারপাশ অন্ধকার আর ঝিঁঝিঁপোকার ডাক। ঐ দূরে টিমটিম করে একটি আলো জলছে। মনে হচ্ছে আলিফ লায়লার হাজার দাস্তান উপন্যাসের রাক্ষসের রাজ্যে চলে এসেছি আমি। আঁকাবাঁকা হয়ে উপরের দিকে উঠে গেছে সিঁড়ি। এই সিঁড়ি বেয়েই আমাকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজে উঠতে হবে। পূরণ করতে হবে আমার চ্যালেঞ্জ। অদ্ভুত এক অনুভূতি কাজ করছে আমার রক্তে! 

বুকে প্রচন্ড সাহস নিয়ে সিঁড়িতে যেইনা পা রাখলাম হঠাৎ পেছন থেকে একটি শব্দ “কে?” জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলাম প্রায় কিন্তু আমাকে জ্ঞান হারালে চলবেনা। প্রচন্ড সাহস নিয়ে ঘুরে দাঁড়ালাম। দেখি রাইফেল হাতে বিশাল দেহের এক মুর্তি মানব দাঁড়িয়ে আছে- “কি চাই এখানে?”  আমি আমার অভিপ্রায়ের কথা অনুনয়ের সুরে বললাম। শুনেই তার উত্তর-  ‘দুই টাকা লাগবে।’ কি আর করা,  ছাত্র বলে তো আর অর্ধেক নিবেনা এত রাতে। অগত্যা দুই টাকার হার্ডিঞ্জ ব্রিজই দেখা হল।

(ঢাকাটাইমস/১৩অক্টোবর/এমজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত