ভারতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে মুসলিমদের ‘না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৬, ১৩:০৭ | প্রকাশিত : ১৪ অক্টোবর ২০১৬, ১২:০০

ভারতে সব নাগরিকের জন্য একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড বাস্তবায়ন নিয়ে আইন কমিশনের প্রশ্ন বয়কট করছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি) এবং কয়েকটি মুসলিম সংগঠন।

আইন কমিশন দেশের সব নাগরিকের কাছে জানতে চেয়েছে, মুসলিমদের মধ্যে যে 'তিন তালাকে'র প্রথা কিংবা হিন্দু সমাজের কোনো কোনো অংশে 'মৈত্রী-কারার' বা বহুবিবাহের মতো যে সব পদ্ধতি চালু আছে সেগুলোর ব্যাপারে তাদের মতামত কী।

ভারতের মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড বৃহস্পতিবার এই প্রক্রিয়া বয়কটের আহ্বান জানিয়ে অভিযোগ করেছে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আলাদা পরিচয় হারিয়ে যাবে। ইউনিফর্ম সিভিল কোড প্রণয়নের নামে আইন কমিশন আসলে বিজেপি সরকারের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইছে। আর কেন্দ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে।

আইন কমিশনের দাবি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার বিষয়টি দেশে বৈষম্য মেটানোর চেষ্টা। আইন কমিশনের এই দাবিকে ‘ফাঁদ’ বলে বর্ণনা করেন জামাতে ওলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি মৌলানা আরশাদ মাদানি।

মৌলানা আরশাদ মাদানি বলেন, ‘কেন্দ্র নিজেদের ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে। এমন পদক্ষেপ প্রত্যাহার করা হবে বলেই আমাদের আশা। তা না হলে ভবিষ্যতে আমরা আমাদের পরবর্তী কমর্সূচি ঠিক করব।’

মুসলিম সংগঠনগুলির মতে, সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনাসহ দেশ এখন বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে মতামত চাওয়ার বদলে সরকারের উচিত এসব সমস্যার সমাধান করা।

মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদের তিন তালাক প্রথার বিরুদ্ধে মোদি সরকারের অবস্থান নিয়েও সরব হন মাদানিরা।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র জানায়, তিন তালাকের মতো বৈষম্যমূলক রীতি ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে থাকতে পারে না।

আরশাদ মাদানি ও মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি রেহমানির মতো নেতাদের মতে, মুসলিমদের চেয়ে অন্য সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের হার অনেক বেশি। মুসলিম সমাজের সব অংশ ও নারীরা দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ বলেই দাবি তাদের।

কিন্তু তিন তালাককে কোরান বিরোধী দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে আসছে ‘ভারতীয় মুসলিম নারী আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন।

এই ব্যাপারে প্রশ্ন  করা হলে রেহমানি বলেন, ‘গণতন্ত্রে এমন আন্দোলন করারও অধিকার রয়েছে।’

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা ও বিবিসি

(ঢাকাটাইমস/১৪নভেম্বর/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত