বাংলাদেশের মানুষ অতিথিপরায়ণ

জেমস পি ম্যাক ডোনাল্ড
| আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৬, ১৪:৩৮ | প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর ২০১৬, ১৪:২৯

ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের নবযাত্রার জন্য আর কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। নতুন নতুন পরিকল্পনা, সেবার ধারা নিয়ে আগাম কথা বলেছেন ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার মহাব্যবস্থাপক জেমস পি ম্যাক ডোনাল্ড। বাংলাদেশে পর্যটনশিল্পের এখনকার চিত্র আর সম্ভাবনার দিকটিও তুলে ধরেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আসাদুজ্জামান

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল আন্তর্জাতিকভাবে কবে থেকে যাত্রা শুরু করে?

ধন্যবাদ। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপের আওতাধীন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস এবং রিসোর্ট আন্তর্জাতিকভাবে তাদের যাত্রা শুরু করে ১৯৪৬ সালের ৪ এপ্রিল। বিশ্বব্যাপী এই হোটেলটি ৭০ বছর ধরে সেবা দিয়ে আসছে। শুধু ইন্টারকন ব্র্যান্ডে পৃথিবীব্যাপী হোটেলের সংখ্যা ২০০। অন্যদিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল গ্রুপ নামে হোটেলের সংখ্যা সাড়ে চার হাজারের বেশি।

তিন দশক পর আপনারা আবার ঢাকায় ফিরলেন। এ নিয়ে কী বলবেন?

বাংলাদেশে এই হোটেলটি যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৬৬ সালে। ঢাকার মিন্টো রোডে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের প্রথম পাঁচতারা হোটেল হিসেবে। প্রথম পর্যায়ে ৩০০টি কামরা নিয়ে হোটেলটি শুরু হয়েছিল। ব্যবসায়িক দিক থেকে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। দিন দিন অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়ন হচ্ছে বাংলাদেশের। বিদেশি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, পর্যটকরা বাংলাদেশে আসছেন। থাকছেন। এদের জন্য বিলাসবহুল সেবা দিতে প্রস্তুত হচ্ছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল।

বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের (বিএসএল) সঙ্গে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের কত বছরের চুক্তি হয়েছে?

প্রাথমিকভাবে ৩০  বছরের জন্য চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তি দুই ধাপে আরও পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন করা যাবে।

এদেশে নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

তেমন কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। এখনকার সরকার ও হোটেল মালিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (বিএসএল) যথেষ্ট সহযোগিতা করছে। আধুনিক পাঁচতারা হোটেলের জন্য যেসব অবকাঠামো দরকার তার সবই তৈরি করা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, এই হোটেলে আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে পারব।

নতুন করে দেশে শুরু হচ্ছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। এই নতুন যাত্রার হোটেলটির গ্রাহকদের জন্য কী কী অফার থাকছে। এটি কী ধরনের সেবা দেবে?

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিলাসবহুল সেবা দিয়ে আসছে। এদেশেও তেমনি সেবা পাওয়া যাবে। এখানে পাওয়া যাবে অত্যাধুনিক কক্ষ। যেখানে মিলবে সব রকমের সেবা। পাওয়া যাবে মুখরোচক খাবার। অতিথিরা প্রযুক্তির সব সুবিধাই পাবেন। এছাড়াও পর্যটকদের জন্য থাকছে লিমুজিন গাড়ির মাধ্যমে পরিবহনসেবা। বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান যেসব পর্যটক উপভোগ করতে চান তাদের স্থানীয় পর্যটন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও সহজে হোটেল রিজার্ভেশন করা যাবে। ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলের জন্য রয়েছে আলাদা ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটে সেবাগ্রহীতারা কী ধরনের সেবা পাবেন তা আগে থেকেই জেনে নিতে পারবেন। এছাড়াও এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে হোটেল রিজার্ভেশনের ব্যবস্থাও রয়েছে। স্মার্টফোনের অ্যাপের মাধ্যমেও ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিজার্ভেশন করা যাবে।

বাংলাদেশে পর্যটক আকর্ষণের জন্য আপনারা কী করছেন?

২৭ সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্ব পর্যটন দিবস। এদিন বাংলাদেশ সরকারের পর্যটন করপোরেশন ঢাকায় র‌্যালি বের করে। আমরা এই র‌্যালিতে ইন্টারকন্টিনেন্টালের পক্ষ থেকে একটি দল অংশ নিয়েছি। সরকারের পাশাপাশি আমরা বিদেশি অতিথিদের এই দেশে ভ্রমণে আসতে অনুরোধ জানাই। অনুরোধ জানাই আমাদের আতিথেয়তা নিতে। পর্যটকদের জন্য নানা অবকাঠামো তৈরি করছে সরকার। ব্যক্তিগতভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান পর্যটকদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এই দেশে আছে পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত এবং বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। আমরা এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য বিদেশি দর্শকদের আকৃষ্ট করতে চেষ্টা চালিয়ে যাব।

গুলশান হামলার কারণে বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে অনেক বিদেশি নাগরিক সতর্কতা অবলম্বন করছেন। বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও এদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আপনাদের করণীয় কী?

বাংলাদেশ সরকার বিদেশি নাগরিক ও বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা দেওয়ার সব রকমের আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশে এ অবস্থা এখন স্থিতিশীল হয়ে গেছে। আমরা এই ব্যাপারটাকেই বিদেশি পর্যটকদের সামনে তুলে ধরব। এছাড়াও অতিথিদের নিরাপত্তা দিতে ইন্টারকন্টিনেন্টালের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী নিযুক্ত থাকবে। অতিথিদের বিমানবন্দর থেকে হোটেলে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবহন সেবার পাশাপাশি নিরাপত্তাও দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষ নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

আমি বাংলাদেশে আছি চার বছর ধরে। এই চার বছরে আমার মনে হলো এ দেশের মানুষ অতিথিপরায়ণ। এরা পরিশ্রমী। দেশের নানা উন্নয়ন হচ্ছে। প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের মতো পরিবহনসেবা চালুর জন্য কাজ চলছে। ছোট্ট এই দেশটিতে দেখার মতো অনেক কিছুই আছে।

কবে থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল তাদের সেবা চালু করতে পারবে বলে আপনার ধারণা?

আমরা আশা করছি ২০১৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যেই হোটেলটি চালু হবে।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ।

(ঢাকাটাইমস/০৪অক্টোবর/এজেড/এমএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত