মহররম মাসের আমল

ইসলাম ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ০৮ অক্টোবর ২০১৬, ২০:২০

চন্দ্রবর্ষের প্রথম মাস মহররম। মহররম মাস একটি ফজিলতপূর্ণ মাস। এ মাসকে শাহরুল্লাহ বা আল্লাহর মাস বলা হয়। হাদিস শরিফে এ মাসের রোজাকে রমজানের রোজার পরে সর্বশ্রেষ্ঠ রোজা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ মাসের আশুরার দিন পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কেরাম (আ.) রোজা রাখতেন। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে উম্মতে মুহাম্মদির ওপর আশুরার রোজা ফরজ ছিল। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা নফল রোজায় পরিণত হয়।

আশুরার দিনের রোজা প্রসঙ্গে হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত রাসূলে কারিম (সা.) মদিনায় এসে মদিনার ইহুদিদের আশুরা দিবসে রোজা রাখতে দেখতে পেলেন। তখন তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী? অর্থাৎ তোমরা এদিনে রোজা রাখ কেন? তারা উত্তর দিল, এ দিবসটি একটি ভালো দিন। এদিনে আল্লাহতায়ালা মূসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে তাদের শত্রুদের কবল থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউনকে তাদের লোক-লস্করসহ পানিতে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এজন্য মূসা (আ.) কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এদিনে রোজা রেখেছিলেন। তাই আমরাও মূসাকে (আ.) অনুসরণ করে এদিনে রোজা রাখি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমরা তো তোমাদের অপেক্ষা হজরত মূসার (আ.) অনুসরণের অধিক যোগ্য। এরপর রাসূল (সা.) নিজেও এদিনে রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।

ইহুদি ও খ্রিস্টানরা এ দিবসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে রোজা রাখে। তাই অন্য এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) মহররমের ১০ তারিখের রোজার সঙ্গে ৯ অথবা ১১ তারিখকে মিলিয়ে রোজা রাখতে বলেছেন। শুধু আশুরার একটি রোজা রাখা মাকরুহ।
মহররম মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার পাশাপাশি অধিক পরিমাণে তওবা ও ইস্তেগফার পড়া ভালো। এ মাসকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে নানাবিধ কুপ্রথা, কুসংস্কার ও বিদআতের প্রচলন দেখা যায়। মুসলমানদের এসব কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা উচিত।

(ঢাকাটাইমস/০৮অক্টোবর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ইসলাম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত