পাত্তা না দেয়ায় খাদিজাকে কোপাই: আদালতে বদরুল

সিলেট ব্যুরো প্রধান, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৬, ১৯:০৪ | প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর ২০১৬, ১৭:৪২

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে খাদিজার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এখন পাত্তা না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই কাজ করেছেন ‘

এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের জবানবন্দিতে বদরুল পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন বলে জানিয়েছেন সেখানে উপস্থিত এক কর্মকরাতা। তিনি বলেন, বদরুল এক পর্যায়ে বলেন, ‘সে (খাদিজা) সব বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক রাখে, কিন্তু আমাকে পাত্তা দেয় না।’

বিকালে ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি শেষে তাকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেন সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর মুখ্য হাকিম শারাবান তহুরা। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত জনতা বদরুলের ফাঁসি চেয়ে স্লোগান দেয়।

আদালত পরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম জানান, বদরুল আলম আদালতে খাদিজা বেগমকে কোপানোর কথা স্বীকার করেছেন।

এর আগে পুলিশকে বদরুল জানান, প্রেম প্রত্যাখান করায় খাদিজাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই আক্রমণ চালিয়েছেন তিনি। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ২৬০ টাকা দিয়ে চাপাতি কিনে বিকালে এটা দিয়েই খাদিজাকে হত্যার চেষ্টা করেন।

সকালে বদরুল আলমকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শাহপরান থানায়। সেখানে আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তাকে বিকাল তিনটায় পরে কড়া নিরাপত্তায় পুলিশ ভ্যানে করে আদালতে হাজির করা হয় তাকে।

গত পাঁচ বছর ধরেই খাদিজার প্রেম প্রত্যাশী ছিলেন বদরুল। কিন্তু বারবার তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়ে আসছিলেন। সোমবার বিকেলে সিলেট এমসি কলেজে কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা দিয়ে বেরোনোর সময় কলেজের পুকুর পাড়ে খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কোপান বদরুল। এই কাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

খাদিজার ওপর হামলার পর পর স্থানীয়রা বদরুলকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এরপর তাকে পুলিশে তুলে দেয় তারা। আর পরদিন খাদিজার চাচা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বদরুলের চাপাতির আঘাতে খাদিজার মস্তিস্ক ভেদ করে তার মগজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই তরুণী বর্তমানে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা ভাল নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। গত মঙ্গলবার তার মাথায় অপারেশনের পর চিকিৎসকরা তাকে ৭২ ঘন্টার পর্যবেক্ষণে রাখেন।

বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮-০৯ সেশনের অর্থনীতি বিভাগের অনিয়মিত শিক্ষার্থী। গত ৮ মে ঘোষণা করা ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে তাকে সহ সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়। যদিও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন দাবি করেছেন, বদরুল তার সংগঠনের কেউ না।

ঢাকাটাইমস/০৫অক্টোবর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত