অস্ট্রেলিয়ায় আওয়ামী লীগ কি ভেঙে যাচ্ছে?

শাখাওয়াৎ নয়ন
| আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৬, ১১:৫৩ | প্রকাশিত : ০১ অক্টোবর ২০১৬, ১৪:০১

গত কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করা গেছে, সিরাজ-চুন্নু (সি-চু) নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া শাখা কমিটির কারো কারো বিরুদ্ধে অযোগ্য নেতৃত্ব, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ সিডনির রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন-অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ-অস্ট্রেলিয়াসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিডনিস্থ বিভিন্ন সংগঠন ও উপসংগঠনের নেতারা প্রকাশ্য সভায় এমনকি সি-চু আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হকের উপস্থিতিতে ওই কমিটির নেতাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একাধিক সভায় সি-চু কমিটির বিরুদ্ধে বক্তারা সুস্পষ্ট কণ্ঠে অভিযোগ এবং অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। দ্বন্দ্ব-সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে, একপক্ষ আরেক পক্ষকে উকিল নোটিশ পর্যন্ত পাঠিয়েছে।

এ ব্যাপারে অনুসন্ধানে জানা যায়, সি-চু কমিটির মেয়াদ আছে আর দুই আড়াই মাস। কারণ, একটি প্রভাবশালী মহল দু-তিনটি সমীকরণ হাতে নিয়ে মাঠে নেমেছে; তাদের পরিকল্পনার এক শতাংশ বাস্তবায়ন হলেও সি-চু আওয়ামী লীগ ভেঙে যাবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিডনির একজন রাজনীতিক বলেন, ‘সি-চু’ কমিটি ভেঙে ‘সি-মি’ কমিটি হতে পারে। বর্তমান কমিটির সভাপতি নিজের পদ ধরে রাখার জন্য, তার সাধারণ সম্পাদককে উৎসর্গ করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এ রকম একটি নেগোসিয়েশনের কথা বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।

আওয়ামী ঘরানার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী বিষয়টিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, তবে কি ‘সি-চু’র কমিটি ভেঙে যাচ্ছে? কারো কারো মতে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মতো অস্ট্রেলিয়াতেও হাইব্রিড ও বনসাই সমস্যা তৈরি হয়েছে। বহুধাবিভক্ত আওয়ামী লীগের উপদলীয় দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের বেশ কিছু অনুচর ঘুণপোকার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে। পদলেহী, পদলোভী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাত্যাগী, প্লটাকাক্সক্ষী এবং ভ্রাতৃঘাতী কর্মকা-ই সব কিছুর জন্য দায়ী।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে (২৮ সেপ্টেম্বর) সিচু আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিচু আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা গামা আব্দুল কাদির আসেননি। এমনকি ওই কমিটির একজন নেতা, যিনি এসএমএস দিয়ে সবাইকে দাওয়াত দিয়েছেন, সেই ড. রতন কু-ুও আসেননি। তাহলে কি তারা সিচুর সাথে আর নেই? তাহলে কি অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে? ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালককে কখনো রাগান্বি^ত, কখনো স্থিরচিত্র আবার কখনো বেশ অপ্রতিভ মনে হয়েছে।

ঢাকাটাইমস/১অক্টোবর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত