ইউরোপের যেসব দেশে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ

কমরেড খোন্দকার, ইতালি থেকে
| আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৬, ১৮:৩২ | প্রকাশিত : ১৩ অক্টোবর ২০১৬, ১৭:৩৯

ইউরোপের কিছু দেশে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ। প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা না থাকায় কি এসব অঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা বাড়ছে।

জার্মানে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। জার্মানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরডি ইনফ্রাটেস্ট ডিমাপ জনমত সমীক্ষা সংস্থাকে এই বিষয়ে জরিপের দায়িত্ব দিয়েছিল৷ সংস্থাটি গত ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর ১০০৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক জার্মানের সঙ্গে কথা বলে। দেখা যায়, ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ও স্কুলে বোরকা ধারণ নিষিদ্ধ করার পক্ষে৷ বোরকা নিষিদ্ধ করার পুরোপুরি বিপক্ষে মাত্র ১৫ শতাংশ জার্মান৷

জরিপে উত্তরদাতাদের ২৫ শতাংশ জানান, তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম৷ তবে বোরকা নিষেধ করে যে জার্মানিকে অধিকতর নিরাপদ করে তোলা যাবে, এ কথা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন না৷ তা সত্ত্বেও জার্মানির রক্ষণশীল রাজনীতিকদের মধ্যে ‘বোরকা নিষেধ' দাবি করার একটা ধুয়ো উঠেছে৷ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেলের সিডিইউ দলের একাধিক রাজনীতিক, যারা বিভিন্ন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তারা সম্প্রতি স্কুল, সরকারি অফিস, আদালতকক্ষ ও গাড়ি চালানোর সময় বোরকা ও নিকাব পরিধান নিষিদ্ধ করতে চান।

এ ছাড়া ইউরোপের কয়েকটি দেশ আগেই বোরকা নিষিদ্ধ করেছে। সে দেশগুলো হলো:

ফ্রান্স: ফ্রান্স ইউরোপের প্রথম দেশ যেখানে আইন করে বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়। ফ্রান্সে ৫০ লাখ মুসলমানের বসবাস। ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল এক আইন করা হয়, যেখানে বোরকা বা নেকাব পরার কারণে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বেলজিয়াম: বেলজিয়ামে ২০১১ সালের জুলাই মাসে আইন করে বোরকা বা নেকাব নিষিদ্ধ করা হয়। আইনে বলা হয়, কোনো নারী তার মুখ পুরো কাপড়ে ঢেকে রাখতে পারবে না।

নেদারল্যান্ড: নেদারল্যান্ডে ২০১৫ সালে আইন করে বোরকা বা নেকাব নিষিদ্ধ করা হয়। বিশেষ করে জনসমক্ষে অর্থাৎ স্কুল, হাসপাতাল ইত্যাদি জায়গায় বোরকা ব্যবহারে নিষেধ রয়েছে।

স্পেন: পুরো স্পেনে নয়, শুধু বার্সিলোনা শহর কর্তৃপক্ষ সেখানে বোরকা বা নেকাব নিষিদ্ধ করেছে।

ব্রিটেন: ব্রিটেনে প্রচুর মুসলমানের বসবাস। তাই সেখানে ইসলামি পোশাকের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে স্কুলগুলোতে নির্দিষ্ট পোশাক পরতে হয়। ২০০৭ সালে বেশ কয়েকটি মামলার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ঠিক করে যে স্কুলে কেউ বোরকা বা নেকাব পরে আসতে পারবে না।

সুইজারল্যান্ড: ২০১৩ সালে সুইজারল্যান্ডের ২৬টি শহরে বোরকা নিষিদ্ধকরণের ওপর ভোট হয়। সেখানে বোরকা নিষেধের ওপর ৬৫ শতাংশ ভোট পড়ে। এ ছাড়া চলতি অক্টোবর মাস থেকে লুগানো, লোকরনো, মাগাদিনোসহ বেশ কয়েকটি শহরে বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়। আইনে বলা হয়, জনসম্মুখে কেউ বোরকা পরলে তার ৯ হাজার ২০০ ফ্রান্ক পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

ইতালি: ইতালির বেশ কয়েকটি শহরে বোরকা বা নেকাব নিষিদ্ধ। লোম্বারদিয়ার নোভরা শহরে আইন করে বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সত্তরের দশেকেই মুখ ঢেকে রাখা সব ধরনের ইসলামিক পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইতালি সরকার। বর্তমানে ইতালিতে বিপুলসংখ্যক মুসলিম অধিবাসী রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৩অক্টোবর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত