জানুয়ারির আগেই জেলা পরিষদ নির্বাচন চান প্রধানমন্ত্রী

হাবিবুল্লাহ ফাহাদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৬, ১৫:৫৯ | প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর ২০১৬, ১৩:২২

যত দ্রুত সম্ভব জেলা পরিষদ নির্বাচন শেষ করতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী জানুয়ারির মধ্যেই এই নির্বাচন শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন তিনি। এ লক্ষ্যে কাজ করছে স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র ঢাকাটাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছে।

গত সোমবার জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০১৬ আইন করার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।  জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে বর্তমান প্রশাসকদের পদত্যাগের বিধানটি যুক্ত করা হয়েছে অধ্যাদেশে। বাকি সব বিধান আছে আগের মতোই।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে জানান, স্থানীয় সরকার আইনে জেলা পরিষদ অধ্যাদেশ যুক্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো  নির্বাচিত প্রতিনিধি পায়নি পরিষদগুলো। ওই অর্থে পরিষদগুলো কার্যকর হয়নি আজও। প্রধানমন্ত্রী চান যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিকে বসিয়ে জেলা পরিষদকে আরও কার্যকর করতে।

দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগকে  সরকারের ‘সদিচ্ছা’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা। জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচন তো অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। এখন যদি সরকার দ্রুত নির্বাচন করার যে সদিচ্ছা করেছে তা ইতিবাচক।’ তিনি মনে করেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এলে তৃণমূলে স্থানীয় সরকারের ভিত আর মজবুত হবে।

তবে নির্বাচন অনুষ্ঠানই নয়, যোগ্য প্রার্থীকে যোগ্য পদে নির্বাচিত করার ব্যাপারেও জোর দিয়েছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘দায়সাড়া নির্বাচন যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নির্বাচনের উদ্দেশ্য হচ্ছে যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য পদে বসানো। সেটা যেন নিশ্চিত হয় তাও দেখতে হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার  ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন-২০১৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। সংসদীয় কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে বিলটি সংসদে ফিরবে অনুমোদনের জন্য।  

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা বাদে বাকি ৬১টি জেলা পরিষদে ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার। তখন স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা বলেছিলেন, ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে জেলা পরিষদ গঠন করা হবে। কিন্তু পরে তা সম্ভব হয়নি।  ইতোমধ্যে কিছু জায়গায় মৃত্যুজনিত কারণে প্রশাসকের পদ শূন্য হওয়ার পর সেখানে একই ধারায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে অন্যদের।

বর্তমান আইন অনুযায়ী, একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের পাঁচজন নারী সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠন করা হবে। চেয়ারম্যানসহ এই ২০ জন সদস্যকে নির্বাচন করবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সিটি করপোরেশন (থাকলে), উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে অনুমোদন ও কার্যকর হওয়া বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৯(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে। ইতিমধ্যে আইনের দ্বারা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পরিষদকে প্রশাসনিক ইউনিট ঘোষণা করা হয়েছে। পৌরসভা/ সিটি করপোরেশনও এর অন্তর্ভুক্ত।’

পরে নির্বাচনের বিধান রেখে প্রতিটি ইউনিটের জন্য আলাদা আলাদা আইন করা হয়। এই আইন অনুযায়ী ইউনিয়ন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও হয়েছে। কিন্তু জেলা পরিষদ নিয়ে টালবাহানা চলে আসছে।

স্বাধীনতার পর প্রথম ১৯৮৮ সালে জেলা পরিষদগুলোতে  চেয়ারম্যান হিসেবে সরাসরি নিয়োগ দেয়া হয় সংসদ সদস্যদের। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। তখন থেকে একজন সরকারি কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণে চলছিল জেলা পরিষদ। দীর্ঘ ১৮ বছর পর ২০০৯ সালে জেলা পরিষদে প্রশাসক হিসেবে স্থানীয় নেতাদের নিয়োগ দেয় আওয়ামী লীগের সরকার। এবার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। 

(ঢাকাটাইমস/০৫অক্টোবর/এইচএফ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত