রামপালে রোপন হবে পাঁচ লাখ গাছ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৬, ১৩:৩০ | প্রকাশিত : ১৩ অক্টোবর ২০১৬, ১৩:০৭

পরিবেশ রক্ষায় বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশেপাশে পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা্। তার মতে বৃক্ষরোপন হবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার প্রধান হাতিয়ার। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই বললেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ হবেই, এটা মোকাবেলা করতে হবে। এ জন্য নিজেদেরকে সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপন ও সবুজ বেষ্টনী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ এই পর্যায়ে তিনি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশেপাশে ব্যাপক বৃক্ষরোপনের পরিকল্পনার কথা বলেন।

রামপালে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিলে বামপন্থি ও পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনে এখন যোগ দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোটও। তাদের দাবি, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি করবে।

প্রধানমন্ত্রী নানা সময় এসব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করায় রামপাল কোনোভাবেই সুন্দরবনের ক্ষতি করবে না। দুর্যোগ প্রশমন দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি কেবল বলেন, ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে ইদানীং অনেক কথা হয়, কিন্তু সেখানে পাঁচ লক্ষ গাছ লাগানো হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল রামপাল নয়, যেখানেই খালি জায়গা এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকা রয়েছে, সেখানেই ব্যাপকভাবে গাছ লাগাতে হবে। তিনি বলেন, ‘নৌ বাহিনীকে আমি বলি, যেখানেই যাবেন আগে সবুজ বেষ্টনী করবেন। বরিশালে সেনানিবাস হচ্ছে। সেনা বাহিনীর প্রধানকে আমি বলেছি, আগে গাছ লাগাতে হবে।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশে ৪৩৪টি প্রকল্পের কাজ চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকায় দুই হাজার ১৫৮টি সাইক্লোন সেল্টার এবং বন্যা প্রবণ এলাকায় ৫৮টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, আরও দেড় শতাধিক বন্যা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র করা হয়েছে। এগুলো নির্মাণ শেষ হলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা করা আরও সহজ হবে।

উত্তরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ঘরবাড়িগুলো উঁচু ঢিবিতে তৈরির পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘বন্যার পানি আসবে, যাবে, মানুষের যেন ক্ষতি না হয়। বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য টিন দেয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখন টিনের বাড়ি করছি, ভবিষ্যতে পাকা বাড়ি করবো।’

১৯৯৭ সালের প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড় এবং পরের বছর বন্যা মোকাবেলার অভিজ্ঞতা থেকে দুর্যোগ মোকাবেলায় নীতিমালা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বই এখন বাংলাদেশকে অনুসরণ করে।

দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সাফল্য বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার এক বছর ১৯৯১ এর একই মাত্রায় ঘূর্ণিঝড় হলো। আমরা সেনাবাহিনীর ট্রাক দিয়ে লোকজনকে নিয়ে আসলাম। ৯৮ সালের বন্যা স্থায়ী হলো ৭৯ দিন। বিবিসি বললো দুই কোটি মানুষ মারা যাবে। কিন্তু আমরা সেটা হতে দেইনি। একটি মানুষও তখন মারা যায়নি। আমরা সেটা করতে পেরেছিলাম।’

১৯৯১ সালে চট্টগ্রামে ঘূর্ণিঝড়েরর পর বিএনপি সরকারের ব্যর্থতারও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমি সংসদে যখন এ নিয়ে কথা বললাম, তখন খালেদা জিয়া রেগে গিয়ে বললেন যত মানুষ মারা যাওয়ার কথা ছিল তত মানুষ মারা যায়নি। আমি তখন বললাম, কত মানুষ মারা গেলে আপনি খুশি হবেন।’

ঢাকাটাইমস/১৩অক্টোবর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত