সরকার সিনেমার পাইরেসি দূর করবে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৬, ১৮:৫৮ | প্রকাশিত : ১৩ অক্টোবর ২০১৬, ১৮:৪৭
হাসানুল হক ইনু

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বর্তমান সরকার পাইরেসি পছন্দ করে না। আগে যারা ক্ষমতায় ছিলো তাদের ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়াটিই ছিলো পাইরেসি করা। তাই তারা পাইরেসিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। তাদের সময় থেকেই এই দেশে পাইরেসি শুরু হয়েছে।

আজ দুপুরে ঢাকার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) র‌্যাপিড আ্যকশন ব্যাটালিয়নের ( র‌্যাব) অশ্লীলতা এবং অডিও- ভিডিও পাইরেসি প্রতিরোধ বিষয়ক টাস্কফোর্সের এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা চলচ্চিত্রের পাইরেসিরোধে ইতিমধ্যে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। সামনের দিনগুলোতে এ ধরণের কার্যক্রম চলতে থাকবে। সরকার যেমন জঙ্গিবাদ নির্মূল করছে, পদ্মাসেতুও করছে। সরকার সিনেমার পাইরেসিও দূর করবে। আপনাদের শুধু আমাদের উপর আস্থা রাখতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ অডিও ও ভিডিওর পাইরেটেড সিডি উপস্থাপন করা হয়। র‌্যাব থেকে জানানো হয়, পাইরেসির সঙ্গে জড়িত দুই হাজার ৩৪২ জনকে চলতি বছর গ্রেপ্তার করেছে তারা। এই সময় এক হাজার ৫২ টি সিপিও ও ২৬ লাখ ৫১ হাজার পাইরেটেড সিডি জব্দ করা হয়েছে। এইচ বাংলা ও নেহা বাংলা নামে অবৈধভাবে চালিত দুটি টেলিভিশনের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়।

এতে আরো ছিলেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার ঘোষ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিরি সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান; চিত্রনায়ক ফারুক, মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, ইলিয়াস কাঞ্চন, অমিত হাসান, ওমর সানি, আমিন খান, জায়েদ খান, চিত্রনায়িকা অঞ্জনা, রোজিনা, মৌসুমী, কেয়া; সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ এবং খল অভিনেতা মিজু আহমেদ।
র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, ‘আমরা এর আগেও চলচ্চিত্রের পাইরেসি প্রতিরোধে কাজ করেছি। বিএফডিসিতে আমরা মিডিয়া সেন্টার ওপেন করেছি। আমাদের ইচ্ছে আছে পাইরেসি বন্ধ করার। কিন্তু আমি শুনেছি পাইরেসি করে চলচ্চিত্রেরই কিছু অসাধু মানুষ। তাই পাইরেসি বন্ধে আপনারা যারা চলচ্চিত্রে আছেন, তাদের সহযোগিতা লাগবে।’

চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা বলেন, ‘আমাদের স্বপ্নের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আজ ধ্বংসের মুখে।  পুরোনো প্রযোজকরা কেউ আর সিনেমায় টাকা লগ্নি করছেন না। লগ্নি করে লাভ নেই। কারণ লগ্নি করলে টাকা ফেরত পান না। এই অবস্থায় লগ্নি করবে কে?’
চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিরি সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প এখন পঁচতে পঁচতে লেজে এসে পৌছেছে। সেই পঁচনশীল অবস্থা থেকে একমাত্র সরকারই পারেন এই শিল্প এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের বাাঁচাতে।’

চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্রকে আমরাই ধ্বংস করছি। বাজে গল্প, অশ্লীল ছবি সবমিলিয়ে এই ইন্ডাস্ট্রিকে আমরা ধ্বংস করে ফেলছি। সরকার অনুদান দিচ্ছে সিনেমা বানানোর জন্য, সেটা যথেষ্ট না। তবু অনুদানের সিনেমাগুলো ভালো হচ্ছে। সরকার সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের এখান থেকেও সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে, তাহলেই কেবল চলচ্চিত্রের উন্নয়ন সম্ভব।’

সংবাদ সম্মেলনে চিত্রনায়িকা মৌসুমী বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্র যাদের হাত ধরে এগিয়েছে, চলচ্চিত্রের দুর্দিনে তারাই এগিয়ে এসেছেন। আজকে র‌্যাব বিপুল পরিমাণ পাইরেটেড সিনেমা এবং  সরঞ্জামসহ বড় একটি চক্রকে ধরতে সমর্থ হয়েছে। এই জন্য তাদেরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমি শুধু চাই ই-টিকেটিং পদ্ধতি এবং বিএফডিসিতে সার্ভার বসানো হোক, যেন আমাদের সিনেমাগুলো পাইরেসি না হয়।’

(ঢাকাটাইমস/১৩অক্টোবর/এসআর/এমএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত