চীনের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের শুরু: শেখ হাসিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ অক্টোবর ২০১৬, ১৪:২২

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সফরের মধ্য দিয়ে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক একটি নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘জিনপিংয়ের ঢাকায় আগমনে আমরা খুব আনন্দিত এবং সম্মানিত বোধ করছি। আমি বিশ্বাস করি, তার এই সফর দক্ষিণ এশিয়ার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ।’

শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জিনহুয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

দুই দিনের সফরে আজ শুক্রবার ঢাকায় এসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। এই সফর নিয়ে গত মঙ্গলবার জিনহুয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক পাঁচটি নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এগুলো হলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সুপ্রতিবেশীসুলভ চেতনা, পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।’

শেখ হাসিনা ‘এক-চীন’নীতির প্রতি বাংলাদেশের জোর সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি চীনের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বেইজিংয়ের প্রচেষ্টা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশের সমর্থনের কথাও জানান।

বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, প্রতিবেশগত সুরক্ষা এবং সবার জন্য সমৃদ্ধির এক নতুন দিগন্তে বাংলাদেশের পৌঁছার প্রচেষ্টার ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট চিন পিংয়ের এ সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘চীন আমাদের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা চীনকে আস্থাভাজন অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করি। আমাদের অনেক বড় বড় প্রকল্পের অর্থায়ন, মূলধন বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত দিক বিবেচনায়ও চীন নেতৃস্থানীয় উদ্যোক্তা।’

বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক এখন এক সমন্বিত অংশীদারত্বমূলক সহযোগিতার কাঠামোয় প্রতিষ্ঠিত; যা সম্ভাব্য সব খাতেই বিরাজমান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট চিন পিংয়ের বহুল প্রতীক্ষিত সফরের মধ্য দিয়ে এই সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি আমরা।’

শেখ হাসিনা বলেন, অতীতের দশকগুলোতে এ দুই দেশের সম্পর্ক পরিপক্বতা লাভ করেছে। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়ন এবং এর জন্য আইসিটি, অ্যাগ্রো-প্রসেসিং ও ইলেকট্রনিকসের মতো উদীয়মান খাতে বিনিয়োগের ন্যায় দুই দেশের সহযোগিতা ভবিষ্যতে বাড়ানোর বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে।

চীনের প্রস্তাবিত ‘এক অঞ্চল, এক পথ’উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে এ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থানগুলোকে এখন যুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে; যাতে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি একক অর্থনৈতিক নৈকট্য প্রতিষ্ঠা করা যায়।

টেকসই উন্নয়ন অর্জনে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় চীনের সমর্থনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি এ দেশের বস্ত্র, চামড়া, জ্বালানি তেল ও তেলজাত পণ্য, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণ ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণের মতো উদীয়মান খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগকে স্বাগত জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামে বিশেষ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল চালুর দ্বারপ্রান্তে রয়েছি। এটা আমাদের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা সৃষ্টিকারী ঘটনা হয়ে থাকবে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য আমরা চীনা বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে চাই।’

(ঢাকাটাইমস/১৪অক্টোবর/জেডএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত