প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৬, ২২:২৩ | প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর ২০১৬, ২১:২৪

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস উৎসবে মেতেছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়। শনিবার সন্ধ্যায়  নানা রঙের ফানুস ও বেলুন উড়িয়ে এই উৎসব উদযাপন করেছেন তারা।

রাজধানীতে বড় ফানুস উৎসব বসে রাজধানীর মেরুল বড্ডায় আন্তর্জাতিক বুদ্ধিষ্ট ফেডারেশন মহাবিহার ও বাসাবোর কমলাপুর বৌদ্ধ মহাবিহারে। এই ফানুস ওড়ানোর উদ্দেশ্য হলো আকাশে ভাসমান গৌতমের পবিত্র  কেশধাতু প্রদীপ দিয়ে বন্দনা করা।

প্রবারণা পূর্ণিমার আরেক নাম আশ্বিণী পূর্ণিমা। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিণী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাব্রত পালন করেন। তখন তারা বিহারে অবস্থান ও জ্ঞানচর্চা করেন। বর্ষাব্রত পালন শেষে তারা আশ্বিণী পূর্ণিমায় প্রবারণা করেন, যার অর্থ হলো আত্মনিবেদন। বর্ষাব্রতের সময় গোচরে-অগোচরে কোনো ভুল করে থাকলে তার জন্য এদিন জ্যেষ্ঠ ভিক্ষুর কাছে সংশোধনের আহ্বান জানান তারা। তেমনিভাবে জ্যেষ্ঠ ভিক্ষুরাও নবীনদের কাছে তাদের ভুলের কথা জানান। এ জন্য এটি ভিক্ষুদের আত্মসমর্পণ ও আত্মনিবেদনের অনুষ্ঠান। একে কেন্দ্র করেই এ পবিত্র  দিনে বৌদ্ধরা উৎসব করে।

প্রবারণার পর ভিক্ষুদের বহুজনের হিতের জন্য দিকে দিকে বের হওয়া এবং ধর্মপ্রচারের নির্দেশ দিয়ে গেছেন গৌতম বুদ্ধ।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ মন্দির ও বিহারগুলোতে পূজা-পার্বণ, প্রদীপ প্রজ্বালন, ফানুস ওড়ানোসহ ধর্মীয় নানা আয়োজন করা হয়েছে। তিন দিনের এ উৎসব উপলক্ষে মহাবিহার ঘিরে বসেছে মেলা। নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।

প্রবারণা পূর্ণিমার প্রধান আয়োজনটি বসে মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বুদ্ধিষ্ট ফেডারেশনে। এখানে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শ্রীমৎ ধর্মমিত্র মহাথেরোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের নেতারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এখানে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। সব উৎসবের ভাগিদার আমরা সবাই।’

(ঢাকাটাইমস/১৫অক্টোবর/এএ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত