ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তা দিন: জাফরুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৬, ১৮:২৩ | প্রকাশিত : ১৩ অক্টোবর ২০১৬, ১৫:২৭

ভারতের আসাম, মনিপুর ও মেঘালয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে সহাযেগিতা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সকালে রাজধানীতে এক আলোচনায় তিনি এই দাবি জানান। 

চীনের প্রেসিডেন্ট শিজিনপিং-এর বাংলাদেশে সফর উপলক্ষ্যে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এই আলোচনার আয়োজন করে বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ।

গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘আমাদের দরজা উলফার জন্য খুলে দিতে হবে। আমাদের দরজা মনিপুর ও মেঘালয়বাসীদের জন্য খুলে দিতে হবে।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটি সরকার ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহযোগিতা করেছে দাবি করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আমলেও উলফার ট্রেনিং বাংলাদেশে অব্যাহত ছিল। জিয়াউর রহমান ও এরশাদের আমলেও তা অব্যাহত ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, খালেদা জিয়ার আমল থেকে ভারতীয়রা এটি বন্ধ করে দিয়ে আমাদের কণ্ঠ রোধ করছে।’

কাশ্মিরসহ ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সব আন্দোলনে চীনকেও সহায়তা করার আহ্বান জানান জাফরুল্লাহ। বলেন, ‘চীনকে কাশ্মিরিদের পাশে দাঁড়াতে হবে, ভারতের মাওবাদী আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। একইভাবে উলফা, মনিপুরি, অরুণাচল থেকে মেঘালয় পর্যন্ত যে স্বাধীনতা আন্দোলন চলছে, তাদের পাশেও দাঁড়াতে হবে।’

চীনপন্থি ছাত্র নেতা হিসেবে জাফরুল্লাহর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হলেও এখন তিনি বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী হিসেবেই বেশি পরিচিত। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে নানা বক্তব্য দিয়েছন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পাশে ছিল চীন। এ বিষয়টি উল্লেখ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘চীনকে ১৯৭১ সালের মতো ভুল করলে চলবে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা পৃথিবীর অমঙ্গল বয়ে আনবে। ভারতের আধিপত্যবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে।’

ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানির সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, প্রমুখ।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ভারত মুক্তিযুদ্ধের সময় এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিল, সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু, তাদের অব্যবস্থাপনার কারণে ১০ লাখ লোক মারা গিয়েছিল।’

মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের মধ্যে এই ১০ লাখও রয়েছে দাবি করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘শহীদের তালিকা করা হয় না ভারতের চক্রান্তেই। কারণ ভারত জানে শহীদদের তালিকা করলে শরণার্থী শিবিরে যে ১০ লাখ মারা গিয়েছিল, সেটা সামনে চলে আসবে।’

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি চীনকে পরীক্ষিত বন্ধু মনে করে। তার সফর বাংলাদেশে রাজনীতিতে প্রভাবিত করবে।’

ঢাকাটাইমস/১৩অক্টোবর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত