বিমর্ষ লৌহমানব, কী হবে বাংলাদেশ ফুটবলের?

দেলোয়ার হোসেন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৬, ১৮:১৯ | প্রকাশিত : ১৪ অক্টোবর ২০১৬, ১০:৩৮

শুক্রবার সকালে তার গুলশানের বাসায় যাওয়ার কথা ছিল আমার, একটা কাজে। ডেটটা বেশ কদিন আগের দেওয়া, ভুটান ম্যাচের আগের দিন হবে।কাজটা বেশ সময় সাপেক্ষ। থিম্পু ট্র্যাজেডির পর আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম, এমনিতে অস্থির মানুষ, তারপর আবার নতুন পরিস্থিতি, কাজী সালাউদ্দিন কি আমাকে এদিন সময় দিবেন? তার যে মন খারাপ থাকার কথা। তার তো মেজাজ বিগড়ে যাওয়ার কথা।

মনে সংশয় নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ফোন করলাম।‘ভাই, কাল সকালে তো আমার আসার কথা। আমি কি আসব?’
‘না, দেলোয়ার।ক’দিন পর। মনটা ভীষণ খারাপ।’
তার কথায় জড়তা। অনেক ঝড় ঝঞ্ঝার মধ্যও এই শক্ত মানুষটার কণ্ঠে এমন জড়তা শুনিনি কখনও। মনটা ব্যথায় ভরে গেল। এ কার কণ্ঠ, একি সেই সালাউদ্দিন?

লৌহ মানব আজ ব্যথিত,বিমর্ষ,বিব্রত, স্তম্ভিত।
ফুটবলের মানুষ ফুটবল নিয়ে কোনো কথা বলছেন না। যে ফুটবল তাকে তারকার তারকা করেছে, কিংবদন্তি বানিয়েছে। সেই ফুটবলই তাকে বিব্রত, মর্মাহত করলো!

কাজী সালাউদ্দিন নিশ্চয়ই কথা বলবেন। তিনি ভেঙ্গে পড়ার লোক নন। নিজেকে হয়তো সামলে নিচ্ছেন, প্রস্তুত করে নিচ্ছেন। সময় নিচ্ছেন। 
কথা হচ্ছে কি বললেন? তিনি কি হাল ছেড়ে দিবেন? তাহলে কি হবে ফুটবলের?নাকি ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে তিনি আবার আশার কথা শুনাবেন? 
একজন ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে চাইনা সালাউদ্দিনের মতো মানুষ ব্যর্থ হোন।চাই না অযোগ্য, পেশি শক্তির নোংরা লোকেরা বাফুফেকে আড্ডাখানা বানিয়ে ফেলুক।

মালদ্বীপের বিপক্ষে ৫-১ ব্যবধানে এরপর ভুটানের মতো দলের কাছে ৩-১ গোলে হারার পরও সালাউদ্দিনকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রেখে নতুন করে স্বপ্ন দেখা সম্ভব।

অসামান্য স্টাইল, অনন্য বৈশিষ্ট্য, তুখোড় ব্যক্তিত্বের এ কিংবদন্তিকে খুবই দরকার ফুটবলের জন্য। সালাউদ্দিন যেখানে ব্যর্থ সেখানে অন্য কেউ সফল হবেন, ভাবা যায় না।

এস এ সুলতান টিটোদের সময়ে মাঠে ফুটবল ছিল না, খেলোয়াড়রা লিগের জন্য আন্দোলন করেছে।ফুটবলের কি কঠিন দিনই না তখন দেখেছি!এখন মাঠে ফুটবল। খেলোয়াড়রা লিগ খেলে বছরে ৬০  লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন। সালাউদ্দিন ব্রান্ড ভ্যালুর কারণে ফুটবলে এখন প্রচুর স্পন্সর। বাফুফেতে অনেক কর্মযজ্ঞ। বয়স ভিত্তিক ছেলে মেয়ে দলগুলোর ঈর্ষনীয় সাফল্য।

সিনিয়ররা পারছে না। এই লেভেলে প্রচণ্ড খেলোয়াড় সঙ্কট হয়ে পড়েছে। এটা সত্যি। কিন্তু এর সব দায় দায়িত্ব তো সালাউদ্দিনের নয়। দীর্ঘ দিনের অব্যবস্থা, অযোগ্যতার কারণেই ফুটবলে আজকের সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থার জন্য দায়ী এস এ সুলতান টিটোদের মতো সংগঠকরাই শুধু নন,বেশি দায়ী সরকারগুলো, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ক্রীড়া পরিষদ। ফুটবলের উন্নয়ন প্রশ্নে যারা বরাবরই চরম উদাসীন। অনেক কষ্ট করে সালাউদ্দিন একটা একাডেমী করেছেন, টাকার অভাবে সেটা  প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।

আসল জায়গায়, মানে ফুটবলার তৈরির জন্য বরাদ্দ না থাকলেও থানায় থানায় স্টেডিয়াম করার নামে শত শত কোটি টাকা অপচয় করা হচ্ছে। সরকারের কাছে ৪০০/৫০০ কোটি টাকা একেবারেই ছোট বিষয়। ফুটবলের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ তো রাখাই যায়। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কাছে অসংখ্যবার গিয়েও লাভ হয়নি। বারবার খালি হাতে ফিরতে হয়েছে বাফুফেকে।

শূন্য হাতে স্বপ্ন দেখা যায়, কিন্তু কোনো পরিকল্পনা না হাতে নেওয়া যায় না। ব্যাপারটা বুঝতে হবে। কাজী সালাউদ্দিন কোনো জাদুকর নন। তার কাছে জাদুর কাঠি নেই।

(ঢাকাটাইমস/১৪অক্টোবর/ডিএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত