সিনহার দেশে ফিরে আসা সুদূর পরাহত: অ্যাটর্নি

প্রকাশ | ০৫ নভেম্বর ২০১৭, ১৩:৫৬ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০১৭, ১৫:৩৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দেশে ফিরে আসা এবং দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনা দেখছেন না অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেছেন, গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠার প্রেক্ষিতে সহকর্মীরা তার সঙ্গে বসে বিচার করতে চান না। এই পরিস্থিতিতে তিনি ছুটিতে গেছেন। আর এই পরিস্থিতির কারণেই তার দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনা দেখছেন না রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা। 

রবিবার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল এ মন্তব্য করেন।

মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার দেশে ফিরে আসা এবং দায়িত্ব গ্রহণ সুদূর পরাহত। এখনো তাই বলছি।’

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর অ্যাটর্নি বলেছিলেন, ‘বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদেশ সফর শেষে ফিরে এসে দায়িত্ব গ্রহণ সুদূর পরাহত ব্যাপার।’

মাহবুবে আলম বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে বেঞ্চে বসার ব্যাপারে সরকার বিরত করেনি, বরং তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠায় তার সহকর্মীরা তার সঙ্গে বসতে রাজি হননি বলে তিনি ছুটি নিতে বাধ্য হয়েছেন। এটা  দেশবাসীর  জানা উচিত।’

গত ১৩ অক্টোবর এক মাসের ছুটিতে তিন দেশ সফরে ঢাকা ছাড়েন সুরেন্দ্র কুমার সিহনা। এ সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি অবশ্যই দেশে ফিরবেন এবং আবার দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু তিনি কবে ফিরবেন, এই বিষয়টি এখন পর্যন্ত জানান হয়নি। এর মধ্যে কানাডাভিত্তিক একটি বাংলা গণমাধ্যম নির্ভরযোগ্য সূত্র উল্লেখ করে লিখেছে, সিনহা পদত্যাগ করতে পারেন। প্রধান বিচারপতি হিসেবে সিনহার মেয়াদ আছে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এর আগে ২ অক্টোবর শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটি চান। আর ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর তার ছুটি অনুমোদন হয়। পরে তা ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ান হয়। 

তবে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া এক লিখিত বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, তিনি সুস্থ আছেন। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করা দেয়া রায়ের পর্যবেক্ষণের প্রতিক্রিয়ায় আসা রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়েও উষ্মা জানান তিনি। বলেন, ‘ইদানীং একটা রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী ও বিশেষভাবে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সরকারের একটা মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে পরিবেশন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন, যা অচিরেই দূরীভূত হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

দেশ ছাড়ার আগে দেয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন সুপ্রিম কোর্ট থেকে আরেকটি বিবৃতি দেয়া হয়, যাতে জানান হয়, সিনহার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারসহ ১১টি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এবং এই প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে পরে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার বাসভবনে বৈঠক করেন। এ সময় এসব অভিযোগের বিষয়ে সিনহা কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি এবং জানান, প্রয়োজনে তিনি পদত্যাগ করবেন। কিন্তু যেদিন এই সিদ্ধান্ত জানানোর কথা, সেদিন তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে অসুস্থতার কথা বলে ছুটি চেয়ে চিঠি লেখেন।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধি প্রসঙ্গে

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অধঃস্তন আদালতের বিচাকরদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধি না দেয়ায় বারবার অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সিনহা।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, এই মামলায় তারা আবার চার সপ্তাহ সময় নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আদালতকে জানিয়েছি, আদালতের সাথে মাননীয় আইনমন্ত্রী বসতে চান। জিনিসটা কিভাবে সলভ করা যায়। টেনটেলিভলি আগামী বৃহস্পতিবার হয়তো বসতে পারেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, ‘আগের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যেভাবে চাইতেন, রুলসটা যেভাবে হোক, তাতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় নানা রকম কার্টেল হওয়ার একটা বিষয় দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। সে জন্য সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আইনমন্ত্রণালয়ের আলাপ আলোচনার মাধ্যমে জিনিসটা কীভাবে সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি হতে পারে সে ব্যাপারে সরকার চেষ্টা করছে। গতকাল আইনমন্ত্রীর সাথে আমার এ ধরণের কথা হয়েছে।’

ঢাকাটাইমস/০৫নভেম্বর/এমবি/ডব্লিউবি