ঢাবির রেজিস্ট্রার ভবনে সাংবাদিক পেটালেন কর্মকর্তারা

প্রকাশ | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯:৪৫ | আপডেট: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯:৫৪

ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি কবিরুল ইসলাম কাননের ওপর হামলা করেছে রেজিস্ট্রার ভবনের কয়েকজন কর্মকর্তা।

রবিবার সকালে রেজিস্ট্রার ভবনে এ ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেরি করে অফিসে আসার অভিযোগের তথ্য অনুসন্ধানে রেজিস্ট্রার ভবনে গেলে সেকশন অফিসার  নিজাম উদ্দিন, আহসানুল কবির ও রেজিস্ট্রারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) শেখ গিয়াস উদ্দিন মিলে সাংবাদিক কাননকে মারধর করেন।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই সাংবাদিক রেজিস্ট্রার ভবনের প্রশাসন-৩ শাখার ২০৬ নম্বর কক্ষে যান। সেখানে সেকশন অফিসার নিজাম উদ্দিন ও আহসানুল কবিরের আসন ফাঁকা দেখতে পান। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে এসব কর্মকর্তাদের সকাল ৯টায় অফিসে আসার কথা।

ওই কক্ষ থেকে তথ্য নিয়ে কানন পাশের কক্ষে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে নিজাম উদ্দিন, আহসানুল কবির, শেখ গিয়াস উদ্দিন ‘আমরা ছাত্রলীগ করতাম, আমাদের বিরুদ্ধে নিউজ করার সাহস দিছে কে তোকে’- বলেই অতর্কিতে হামলা করে। তারা কাননের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। হামলার ফলে  কাননের গলায় ও বুকে রক্তাক্ত দাগ বসে যায়। আহত সাংবাদিক কবিরুল ইসলাম কানন এ ঘটনায় জড়িতদের অব্যাহতি চেয়ে উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে আহসানুল কবির ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এরকম কোনো ঘটনা রেজিস্ট্রার ভবনে ঘটেনি। আপনারা ভিত্তিহীন তথ্য নিয়ে কথা বলছেন।’

অপরদিকে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত নই, তবে দেখেছি নিজাম ও তার সহযোগী আহসানুল কবির সাংবাদিককে মারধর করেছেন।’

এদিকে ঘটনার মূলহোতা নিজাম উদ্দিন ঘটনাটি স্বীকার করে ঢাকাটাইমসকে জানান, তিনি (সাংবাদিক) আমাদের অফিসের ভেতরের কয়েকটি ছবি তোলার পাশাপাশি ভিডিও করেন যা দেখে আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কারণ ছবিগুলো উপাচার্য দেখলে আমাদের চাকরির ক্ষতি হতে পারে।’

‘তাই আমরা তাকে অনুরোধ করে বললাম- ভাই আপনি রেজিস্ট্রার স্যারের সাথে দেখা করে যান এবং ছবি ও ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন। কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানালে আমরা তাকে জোরজবরদস্তি করি।’   

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্খিত। এসব ঘটনা শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কলঙ্ক বয়ে আনে।’ 

প্রক্টর বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব তদন্তের করে আমরা এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনব। এই ঘটনায় আমরা কাউকে ছাড় দেব না।’   

এ ঘটনায় ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আসিফ ত্বাসীন ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নয়ন জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, ‘শুধুমাত্র একজন সাংবাদিক নয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপরও এ ধরনের আক্রমণ তাদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের বহি:প্রকাশ। তারা দায়িত্বে অবহেলা ঢাকতেই সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি যাতে পরবর্তীতে কেউ এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটায়।

(ঢাকাটাইমস/১৭ডিসেম্বর/ঢাবি/জেডএ)