পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়াতে মজুরি বোর্ড গঠন

প্রকাশ | ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১৫:১৫ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৪১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো তৈরির জন্য স্থায়ী জন্য মজুরি বোর্ড মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের আগেই নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার বিষয়ে আশাবাদী সরকার।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ‘আমাদের স্থায়ী নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা আছে। একজন জেলা জজের নেতৃত্বে চারজন স্থায়ী সদস্য আছেন। আর দুইজনকে নতুন করেন যুক্ত করা হল।’

স্থায়ী নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন সিনিয়র জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। আর তিনজন সদস্য হলেন- মালিকপক্ষের প্রতিনিধি কাজী সাইফুদ্দীন আহমদ, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি ফজলুল হক মন্টু, নিরপেক্ষ প্রতিনিধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কামাল উদ্দিন ।

এদের বাইরে পোশাক শিল্প মালিকদের প্রতিনিধি হিসেবে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং জাতীয় শ্রমিক লীগের নারী বিষয়ক সম্পাদিকা শামসুন্নাহার ভুঁইয়াকে শ্রমিকদের প্রতিনিধি করা হযেছে।

শ্রমিক প্রতিনিধি বাছাই করা সব সময় ঝামেলার উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, এবার সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেই শামসুন্নাহারকে বাছাই করা হয়েছে। তিনি ২০১৩ সালে গঠন করা মজুরি বোর্ডেও ছিলেন।

রবিবার সচিবালয়ে এই বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানান, বোর্ডকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণ করে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশের আলোকে মন্ত্রণালয় আগামী ডিসেম্বরের আগেই নিম্নমত মজুরি ঘোষণা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্থায়ী মজুরি বোর্ড রয়েছে। তবে যখন যেই খাতের মজুরি বোর্ড গঠন করা হয় সেই খাতের দুইজন প্রতিনিধি যুক্ত করা হয়। একটি হচ্ছে মালিক পক্ষ থেকে আরেকটি হচ্ছে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে।’

এর দুই বছর আগে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হয়। আর ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে নতুন মজুরি কাঠামোয় প্রথম বেতন পেয়েছিলেন শ্রমিকরা। তখন চারটি গ্রেডে বাস্তবায়ন করা এই মজুরি কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন ধরা হয় ৫৩০০ টাকা।

ওই মজুরি কাঠামোতে প্রতি বছর পাঁচ শতাংশ হারে বেতন বাড়ার পাশাপাশি পাঁচ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো করার কথা বলা ছিল।

এই হিসাবে নতুন মজুরি কাঠামো চালু হতে আরও এক বছর সময় বাকি আছে। তবে সরকারের শেষ বছরে এই বিষয়টি নিয়ে যেন কোনো পক্ষ অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য সরকার আগেভাগেই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এবারই প্রথম বিজিএমইএ পোশাক খাতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে।  এটিকে আমি ইতিবাচকভাবে দেখছি। ’

চক্রান্তে পা না দিতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান

নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কেউ যেন অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে,  সে জন্য শ্রমিকদেরকে সতর্ক করে দেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, নতুন বোর্ড বাজার যাচাই করে শ্রমিকদের এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নতুন মজুরি বোর্ড বেতনের সুপারিশ করবে। এটা তারা সব চূড়ান্ত করবেন।  

এই বোর্ড গঠন নিয়ে কোনো পক্ষ শ্রমিকদের নিয়ে চক্রান্ত করতে পারে বলে সতর্ক দরে নিয়ে প্রতিমন্ত্রী তাদেরকে অপেক্ষা করতে বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন,  ‘যতটুকু আমরা শ্রমিকদের দিতে পারব ততটুকুই আমরা তাদেরকে নতুন ওয়েজে দেবো।’

শ্রম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আফরোজা খান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি একে আজাদ, বিজিএমইএ এর সহসভাপতি মো, নাসিম প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/১৪জানুয়ারি/এমএম/ডব্লিউবি)