কলকাতা-ঢাকায় সবজির দরে বিরাট ফারাক

প্রকাশ | ২১ মে ২০১৮, ১৭:৪৯ | আপডেট: ২১ মে ২০১৮, ২৩:২২

নজরুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া, খাদ্যাভ্যাস চাষাবাদের ধরন, আর শাক সবজির ধরনও মোটামুটি একই রকম। কিন্তু অমিল হচ্ছে দামে। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার চেয়ে অনেক কম দামে সবজি বিক্রি হয়।

সোমবার কলকাতার অনলাইন সংবাদপত্র কলকাতা টোয়েন্টিফোর সেভেনে ছাপা হওয়া সবজির দরের সঙ্গে ঢাকার তিনটি বাজারের দর মিলিয়ে দেখা গেছে, এখানে সবজির দাম দেড়ে থেকে দুই গুণ।

বাংলাদেশি টাকার সঙ্গে ভারতের মুদ্রার মানের পার্থক্য রয়েছে। ভারতীয় চার রুপির সমান দাম বাংলাদেশের পাঁচ টাকা। তবে কলকাতায় সেখানকার অধিবাসীরা তাদের মুদ্রাকে টাকাই বলেন। 

ঢাকার বাজারে ৫০ থেকে ৬০ টাকার নিচে বলতে গেলে কোনো সবজিই পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ কলকাতার বাজারে সেখানকার মুদ্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে বেশিরভাগ সবজি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা দাঁড়ায় ২৫ থেকে ৩৭.৫ টাকা।

নগরীতে রোজার দ্বিতীয় দিনে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম আজ ৩০ টাকার মতো কমে ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ এই বেগুন কলকাতায় স্থানীয় মুদ্রায় ৪০ টাকা। বাংলাদেশের মুদ্রায় যা ৫০ টাকা।

সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান বাজার ও কলাবাগান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চিচিঙা, গাজর, পটল, ধুন্দুল, করলা খুচরা দামে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে।

আর এই সবজিগুলোই কলকাতার বাজারে বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫ থেকে ৩৮ টাকায়।

তবে দুই নগরে আলুর দামে কোনো পার্থক্য নেই। ঢাকার বাজারে ২০ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যায় নানা জাতের আলু। কলকাতার বাজারেও আলুর দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ থেকে ৩২ টাকা।

ঢাকার বাজারে পেঁপে, শসা, বরবটি ও ঢেঁড়স যথাক্রমে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই সবজিগুলোই কলকাতায় রাখা হচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫ থেকে ৩৭.৫০ টাকা।

টমেটো এখন ঢাকার বাজারে ৬০ টাকা, যা কলকাতার বাজারে বাংলাদেশি মুদ্রার মান ৩৭.৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে মরিচের দর ঢাকার চেয়ে কলকাতায় বেশি। ঢাকায় ৬০ টাকায় পণ্যটি পাওয়া গেলেও কলকাতায় এর দাম ৭৫ টাকা।

কেন সবজি চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে কারণ জানতে চাইলে কলাবাগানের সবজি বিক্রেতা মেহেদী হাসান বলেন, ‘রোজার কারণে কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা সব ধরনের সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যার কারণে বেশি দাম দিয়ে কিনে আনতে হয়। তাই আমরা কেনা দামের চেয়ে কেজিতে ৫-১০ টাকা বেশি রাখি।’

সবজির মতো শাকের দামেও রয়েছে বিস্তর ফারাক। কলকাতার বাজারে বিক্রি হওয়া প্রতি আঁটি লাল শাক যথাক্রমে বাংলাদেশি টাকায় ১০ ও ১৮ টাকা। পুঁই শাক ১৮ ও ৩৭.৫, পালং শাক ১২.৫ ও ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকায় লাল শাক ১৫ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা, পালং শাক ২০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না।

কলকাতার বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রা ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। অথচ ঢাকায় এই ভারতীয় পেঁয়াজের দর ৪০ টাকা। দেশিটার দর আরও বেশি, ৫০।

ঢাকায় আমদানি ও দেশি রসুনের দাম যথাক্রমে ৮০ ও ১২০ টাকা। কলকাতার বাজারে বাংলাদেশি টাকায় রশুনের দাম ৮৭.৫ টাকা।

ঢাকায় ভারতীয় আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায় আর ভারতে এই আদা বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশি টাকায় ৭৫ টাকা।

অতিরিক্ত দামে গরুর মাংস

রোজায় দেশি গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা সিটি করপোরেশন।

এর মধ্যে নগরীর তিনটি বাজার ঘুরে প্রতিটিতেই অতিরিক্ত দামে গরুর মাংস বিক্রি করতে দেখা গেছে।

৪৭০ থেকে ৪৮০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছিল কারওয়ান বাজার, কাঁঠাল বাগান বাজার ও কলাবাগান বাজারে।

নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি না করার কারণ জানতে চাইলে কাঁঠাল বাগানের রমজান আলী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ওই দামে বিক্রি করলে পোষায় না। মেয়র একটা দাম ধইরা দিসে। কিন্তু মেয়র তো আর জিনিসটা কিন্না দেয় নাই। না পোষাইলে মেয়রের দামে কেমনে বিক্রি করমু কন?’

(ঢাকাটাইমস/২১মে/এনআই/ডব্লিউবি)