শেরপুর-৩: অভিযোগে ভারাক্রান্ত আ.লীগ এমপি, নির্ভার বিএনপি

শেরপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৩ জুন ২০১৮, ০৮:২৮

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। এই আসনে বর্তমান এমপি প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক। তার বিরুদ্ধ দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ দুই উপজেলার নেতাদের। এই আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন অন্তত ১০ জন।  
এ ক্ষেত্রে অনেকটা নির্ভার বিএনপি। সম্ভাব্য প্রার্থিতার আলোচনায় দুজনের নাম এলেও জেলা বিএনপির সভাপতি ও দুবারের সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল মনোনয়ন পেতে পারেন বলে ধারণা।

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আগাম প্রচারণায় দৃশ্যমাণ তৎপরতা বেশি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে। নিজের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ইফতার, সভা-সমাবেশ, পোস্টার-লিফলেট বিতরণসহ সামাজিক অনুষ্ঠানে ছুটছেন মনোনয়ন-প্রত্যাশীরা। সেই সঙ্গে চলছে জোর লবিং। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাড়াচ্ছেন সংযোগ। তবে বর্তমান এমপি ফজলুল হক নেতাকর্মীদের নিয়ে উদাসীন বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাদের।

আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী হতে এবারও মনোনয়ন চাইবেন এমপি ফজলুল হক। তিনি দুই মেয়াদে এ আসনের এমপি। তবে এবার তার মনোনয়ন পাওয়া সহজ হবে না। তার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় অনেক নেতা, যারা আবার মনোনয়ন-প্রত্যাশী।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য অন্য মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও আশির দশকের ছাত্রনেতা ইফতেখার হোসেন কাফি জুবেরী। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে আসছেন।

শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার আবু ছালেহ নুরুল ইসলাম হিরু, খড়িয়া কাজীরচর ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলাম, জেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদিকা নাসরিন বেগম ফাতেমা, প্রয়াত এমপি এমএ বারীর ছেলে মহসীনুল বারী রুমি, মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. ওয়ালীউজ্জামান আশরাফি লতা (দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে মনোনয়ন চেয়ে আসছেন), ঝিনাইগাতী উপজেলা আ.লীগ সভাপতি এস এম এ ওয়ারেজ নাঈম, সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান লেবু ও সমুদ্রসীমা বিজয়ী মামলার প্রসিকিউটর খোরশেদ আলম কালা প্রার্থিতার কথা জানান দিয়েছেন।

এসব মনোনয়ন-প্রত্যাশীর অনেকে বর্তমান এমপি এ কে এম ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে সোচ্চার।

শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটন বলেন, বর্তমান এমপি আসলে আওয়ামী ঘরানার লোক নন। এ বিষয়টা এলাকার সবাই জানে। এ ছাড়া পুলিশে লোক নিয়োগ, শিক্ষক নিয়োগ, কাবিখা, কাবিটা, টিআর, জিআরসহ এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে তিনি দুর্নীতি করেননি।’ এলাকায় কোনো উন্নয়নমূলক কাজ না হওয়ায় এমপি ফজলুল হক জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেন এই নেতা।

একই অভিযোগ ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এস এম এ ওয়ারেজ নাইমের। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেবের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই দুই উপজেলাতেই। আমাদের উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিসে তিনি (ফজলুল হক) কখনো আসেন না। তার সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’ গতবারের নির্বাচন যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতো তাহলে তার পক্ষে এমপি নির্বাচিত হওয়া কঠিন কাজ ছিল বলে দাবি করেন নাইম।

এমপি ফজলুল হক নিয়োগ কেলেংকারির সঙ্গে জড়িত এমনটা জানিয়ে ওয়ারেজ নাঈম আরও বলেন, ‘তার ভাই (বিএনপির সাবেক এমপি) ডা. সেরাজুল হক যখন নির্বাচন করতেন,  তিনি (ফজলুল হক) তাকে সার্বিক সহযোগিতা করতেন। তার ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর ভাতিজা নমিনেশন পেলে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য লবিং করেন এবং ২০০৮ সালে তা পেয়ে যান। এখনো তার সম্পর্ক বিএনপির লোকজনদের সঙ্গে বেশি।’

দুর্নীতির অভিযোগ এনে ঝিনাইগাতীর নলকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী ফর্সা বলেন, ‘শুনেছি কিছুদিন আগে ত্রাণের টিন বিতরণ করেছেন এমপি সাহেব। কিন্তু আমার এলাকার একজনকেও খোঁজে পাইনি যে এ রকম ত্রাণ পেয়েছে।’      

ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন, ‘এমপি ফজলুল হক পুরো উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। তিনি এলাকার যেমন উন্নয়ন করেন না তেমনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন না। আওয়ামী লীগকে মাইনাস করেই চলেন এমপি।’

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি ফজলুল হকের দাবি, এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত ১৬০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। দলীয় হাইকমান্ড মনোনয়ন দিলে তিনি আবার এমপি নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদী।

এমপি ফজলুল হক বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন সমাবেশ করে সরকারের উন্নয়নের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। দুই উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো, রাস্তাঘাট, ব্রিজ নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, বিদ্যুতায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করেছেন।

তবে ভোটাররা এবার মুখ কিংবা মার্কা দেখে ভোট দেবেন না বলে জানান অনেকে। শ্রীবরদী বাজারে বসবাসকারী জোলেখা খানম নামের এক গৃহিণী বলেন, এলাকায় কারও কারও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নৌকা প্রতীক পেলেই এমপি হবেন, এমন ধারণা নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন কাজে আসবে না। এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন এমন প্রার্থীকেই তারা বেছে নেবেন।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে তেমন একটা সংকট নেই। জেলা বিএনপির সভাপতি ও দুবারের সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন পেতে পারেন। তা ছাড়া ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে।

তবে শ্রীবরদী উপজেলা শাখা জামায়াতে ইসলামের সাবেক আমির নূরুজ্জামান বাদল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। জোট থেকে মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ফর্সা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এ কে এম ফজলুল হকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। আগামী নির্বাচনেও তিনি জাপা থেকে প্রার্থিতার কথা বলছেন। কিছুটা তৎপর রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু নাসেরও।

(ঢাকাটাইমস/৩জুন/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :