ওয়ান ম্যান আর্মি

প্রকাশ | ২১ জুন ২০১৮, ১০:৩৭ | আপডেট: ২১ জুন ২০১৮, ১২:০৪

মনদীপ ঘরাই

অফিসে ফেরার পথে তড়িঘড়ি করছিলাম পর্তুগালের বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার বাসনায়। ততক্ষণে একটা গোল করে ফেলেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, পর্তুগীজদের "ওয়ান ম্যান আর্মি"। চলছি আর ভাবছি। বাস্তব জীবনেও আছে নাকি এমন ওয়ান ম্যান আর্মি?

কাকতালীয় বটে। হঠাৎ এক দৃশ্যে থামলাম। একজন বয়স্ক মানুষ তার মোটর বাইকটি যত্ন করে পরিষ্কার করছেন। নিশ্চয়ই প্রশ্ন ছুঁড়েছেন আমার দিকে, এ তে আবার থামার কি হলো? থেমেছি মূলত বাইকটা দেখে। বাইকের পেছনে একটা টব সেট করা। সেখানে একটা গাছ। সবুজ গাছ। তার পেছনে একটা বোর্ড আর উপরে লেখা পথসভা। সাথে একটা মাইকও সেট করা আছে। বাইকের সামনের অংশে একটা লাল পতাকা।বোর্ডের লেখাতে কিছুটা মেঘ কাটে:

দারিদ্র বিমোচনের হাতিয়ার

ফল আর ঔষধী গাছ।

কাছে গেলাম। মিনিট তিনেকের আলাপ জানলাম সবটুকু। সাদেক সাহেব। বয়স সত্তর পেরিয়েছে।বীর মুক্তিযোদ্ধা।পেশায় হোটেল ম্যানেজার। মহান মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর -৩ এ লড়েছেন। স্বাধীন করেছেন মাতৃভূমিকে। এখনও তার যুদ্ধ নাকি চলছে। অবাক হলাম। জানতে চাইলাম কি সে যুদ্ধ? বললেন, দেশকে সমৃদ্ধ করার যুদ্ধ। ফল আর ঔষধী গাছ রোপণের জন্য পথে পথে ঘুরে উদ্বুদ্ধ করছেন মানুষকে। নিজেও রোপণ করে চলেছেন অগনিত গাছ।

লড়াইটা করছেন একাই। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শুনে কি যে এক অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন তা লেখায় প্রকাশ করার ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা আমাকে দেন নি। তিনি যেন খুঁজে পেয়েছেন আপন কাউকে। বছর-বছর ধরে তাঁর একাকী এই লড়াইয়ে একাত্মতা জানালাম। মন দিয়ে শুনলেন আমার একদিনে ৪ লাখ তালবীজ রোপনের উদ্যোগের কথা।

সঙ্গী পেয়ে আপ্লুত হলেন সাদেক সাহেব। বললেন, "আপনার সাথে যেন আমার হাজারো বার দেখা হয়, বাবা।"

আর অপেক্ষা করি নি। তিন বছরের সমান তিন মিনিট কাটিয়ে রওনা দিলাম নীড়ের পানে। এমনি করেই সাধ্যের বাধা কাটিয়ে সাধের সংগ্রাম করে চলছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক। আমার বাস্তবে দেখা: ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’।

মনদীপ ঘরাই: সিনিয়র সহকারী সচিব, বাংলাদেশ সরকার