শিক্ষার্থীকে মারধর, মাক্রোঁর শীর্ষ নিরাপত্তারক্ষী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৮, ১২:১৮ | প্রকাশিত : ২১ জুলাই ২০১৮, ১২:০৭

প্যারিসে গত মে দিবসে বিক্ষোভ চলাকালীন এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছিলেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোর শীর্ষ নিরাপত্তারক্ষী আলেকজান্দ্রে বেনাল্লা। এই ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ে তাকে বরখাস্ত করেন ম্যাঁক্রো। এছাড়া ঘটনায় দোষীদের শাস্তি হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এ ঘটনায় ওই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চলতি বছরের পহেলা মে বিক্ষোভ চলাকালে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন বেনাল্লা। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে বরখাস্ত করেন মাক্রোঁ৷ এই ঘটনাকে তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি মনে করা হচ্ছে৷ খবর ডয়চে ভেলের।

এক তদন্ত সূত্র থেকে জানা গেছে, কেবল বেনাল্লা নন, দুই উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাসহ আরও তিনজনকে বরখাস্ত করেছেন মাক্রোঁ৷ বেনাল্লার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সহিংস আচরণ, পুলিশের পোশাকের অবৈধ ব্যবহার এবং অনুমতি ছাড়া নজরদারি ভিডিও ফুটেজের ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে৷

ফরাসি পত্রিকা লে মঁদে চলতি সপ্তাহে তাদের ওয়েবসাইটে স্মার্টফোনে তোলা একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে৷ সেখানে দেখা যায়, বেনাল্লা এক বিক্ষোভকারী যুবককে পেটাচ্ছেন৷ মে দিবসের ওই বিক্ষোভের সময় তার মাথায় ছিল পুলিশের হেলমেট৷ গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ভিডিওটি প্রকাশ করে ওই পত্রিকা, যেখানে তাকে পুলিশের পোশাকে এক নারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে দেখা যায়৷

এসব ফুটেজ প্রকাশ হওয়ার পর মাক্রোঁর অফিস থেকে বলা হয়েছিল, বেনাল্লাকে পুলিশের বিভিন্ন অভিযান পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেয়া আছে৷ তবে এরপর বেনাল্লাকে দুই সপ্তাহের জন্য 'বিনা বেতনে' বরখাস্ত করার খবর জানা যায়৷ পাশাপাশি তাকে মাক্রোঁর বিভিন্ন সফরের নিরাপত্তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক কাজে লাগানো হয়৷ 

তবে বিএফএম টিভি চ্যানেল তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, বরখাস্তের পরই আবার কাজে ফিরেছিলেন বেনাল্লা৷ এমনকি বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি ফুটবল দলকে যে বাসে করে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই বাসে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিনি৷

শুক্রবার ফরাসি আইনজীবীরা জানিয়েছেন, 'পহেলা মে বিক্ষোভের সময় বেনাল্লা একা ছিলেন না, তাকে সহযোগিতা করেছেন আরও একজন নিরাপত্তা সহযোগী ভিনসেন্ট ক্রেজ৷ তাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে৷'

তবে এই কেলেঙ্কারিতে মাক্রোঁর জনপ্রিয়তায় বেশ ভাটা পড়েছে৷ বুধবার ও বৃহস্পতিবার জনমত জরিপে মাক্রোঁর পক্ষে মাত্র ৩৯ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ পহেলা মে'র বিক্ষোভের পরদিনই মাক্রোঁ টুইটারে লিখেছিলেন, 'যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে৷'

শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার পর বিরোধী দল দাবি করেছে, মাক্রোঁকে পার্লামেন্টে এর জবাব দিতে হবে৷ তবে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের এ ধরনের বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার বেনাল্লার নেই৷

https://twitter.com/SkyNews/status/1020023514600964098

ঢাকাটাইমস/২১জুলাই/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :