‘ঝর্ণার রাণী’ দেখতে একদিন

রহমান আরিফ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ০৭:৫১

রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকা। তরুণদের কাছে পছন্দের জায়গা। বিশেষ করে শৌখিন বাইকার ও গাড়িওয়ালা তরুণদের কাছে। কেননা, রাজধানীর মধ্যেই এতো ফাঁকা রাস্তা আপনি কোথাও নেই।  

পাশেই বালু ব্রিজ এলাকা। সেখানে মেলে গরম গরম মিষ্টির রস আস্বাদনের সুযোগ। এখানেই গরম মিষ্টি খেতে খেতে আমি আর বন্ধু সিফাত একটা মিষ্টি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম। আমরা ঠিক করলাম, কোথাও ঘুরতে যাবো। তবে হাতে সময় নেই। তাই সিদ্ধান্ত হলো একদিনের ট্যুর দেব।

এদিকে সিফাতের আবদার, নাগরিক জীবনের একঘেঁয়েমি কাটাতে ট্যুর একদিনের হলেও ঘুরতে চাই বেশি। যাতে মন-মানসিকতা ফ্রেশ করে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে পারি।

ফ্রেশ হওয়ার কথা চিন্তা করতেই মাথায় এলো ঝর্ণার শীতল জলে যদি নিজেকে সপে দিতে পারি। প্ল্যান করে ফেললাম চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের খৈইয়াছড়া ঝর্ণা দেখতে যাবো। আর ঝর্ণার ভরা যৌবন দেখা মেলে বর্ষাকালে। 

সিফাতকে বলতেই রাজি হয়ে গেল। আর যখন শুনলো গুলিয়াখালী সি-বিচও দেখতে যাবো, যা স্থানীয়রা মুরাদপুর সি বিচ নামে চিনে, ওর যেন বিশ্বাসই হলো না একদিনে ট্রেকিং করে ঝর্ণা, তারপর আবার সমুদ্র দেখা। আমি ওকে আশ্বস্ত করলাম সবই সম্ভব। বরাবরের মতো খোঁজ-খবর নেয়ার দায়িত্ব পড়লো আমার ওপর। অর্থাৎ কোথায় যাবো, কীভাবে যাবো, কী খাবো, খরচ কত ইত্যাদি।

আমিও খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলাম খৈইয়াছড়া ঝর্ণাকে বাংলাদেশের ‘ঝর্ণার রাণী’ বলা হয়ে থাকে। এ ঝর্ণার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর নয়টি ধাপ আছে। আবার কেউ কেউ ১১টিও বলে। আপনার যদি ইচ্ছা আর আত্মবিশ্বাস থাকে তাহলে আপনি এর সবগুলো ধাপই দেখতে পারবেন। কেন ইচ্ছা আর আত্মবিশ্বাসের কথা বলছি সেটাতে পরে আসছি।

যাই হোক, অবশেষে তারিখ ঠিক হলো আমার ডে-অফের দিন বুধবার। এর মধ্যে আরও কয়েকজন বন্ধুকে জানালাম। কেউ যেতে রাজি হলো কেউ কাজ থাকার কারণে না করলো। অবশেষে আমরা চারজন চূড়ান্ত হলাম। এরমধ্যে আমি, সিফাত আর সাজ্জাদ এই তিনজন যাবো ঢাকা থেকে। আর মুরাদ আসবে চট্টগ্রাম থেকে। এ হচ্ছে প্ল্যান।

অপেক্ষা করতে লাগলাম কবে আসবে বুধবার। কবে ঝর্ণায় গোসল করে শরীরের পাশাপাশি মনটাকেও শীতল করবো। আর কোলাহলের বাহিরে গিয়ে নিজেদের মতো করে একটা দিন কাটাবো।

অবশেষে এলো মঙ্গলবার। সিফাতকে বললাম টিকিট কাটতে। সে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা চট্টগ্রামের সৌদিয়া পরিবহনের সর্বশেষ ট্রিপের (রাত ১১টার) তিনটায় টিকিট কাটলো। ভাড়া নিল ৪৬০ টাকা করে।

টিকেট কনফার্ম হওয়ার পরে ব্যাগ গোছানোর পালা। অর্থাৎ কী নেব আর কী নেয়া থেকে বিরত থাকবো। যেহেতু খৈইয়াছড়া ঝর্ণা যেতে হলে পাহাড়ি পথ দিয়ে হেঁটে যেতে হবে প্রায় দুই কিলোমিটার। তাই ভারী কোনো কিছু না নেয়াই ভালো।

আর যেহেতু আমাদের একদিনের ট্যুর সে হিসেবে বেশি কিছু নেয়ারও ছিল না। তারপরও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য জানাচ্ছি আমার ব্যাগের জিনিস-পত্রের তালিকা।

দুইটা থ্রি-কোয়াটার, তিনটা টি-শার্ট (একটা বেশি নিছি), প্রয়োজনীয় ওষুধ, জোঁকের হাত থেকে বাঁচতে লবণ, রশি, খাবার স্যালাইন, ম্যাংগোবার, ক্যামেরা, পাওয়ার ব্যাংক ইত্যাদি। ম্যাংগো বার নিয়েছিলাম হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে গেলে এটা খেলে শরীরে শক্তি যোগাবে। এতে প্রচুর ক্যালরি আছে।

আমরা তিন বন্ধু টাইমমতো চলে গেলাম বাসস্ট্যান্ডে। বাস আসতে ২০ মিনিট দেরি হলো। তাতে আমার খুব বেশি একটা চিন্তা হলো না। আমিই চাচ্ছিলাম একটু দেরি হোক।

কারণ আমার হিসাব মতে, যদি বাস সঠিক টাইম অনুযায়ী যায় তাহলে আমরা ভোর হওয়ার আগেই বড়তাকিয়ায় নেমে যাবো। যেহেতু আমরা কোনো বাজার বা বাসস্ট্যান্ডে নামবো না আবার ওই এলাকাটাও চিনি না। তাই চাচ্ছিলাম যাতে করে যেতে যেতে সকাল হয়ে যায়।

অবশেষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দীর্ঘ যানজট পার করে মীরসরাইয়ের বড়তাকিয়া স্কুলের পাশে নামলাম। বাস থেকেই আমি দেখেছিলাম খৈইয়াছড়া ঝর্ণার সাইনবোর্ড। এখানে বলে রাখা ভালো বাসের ড্রাইভার এবং সুপারভাইজারকে আমার আগেই বোঝাতে হয়েছে আমি কোথায় নামতে চাই। তাদের বলেছিলাম, মিরসরাইয়ের পরে বড়তাকিয়া বাজারের আগে স্কুলের পাশে নামবো। মিরসরাইয়ের পার হবার পরে আপনি একটু সচেতন হলেই জায়গাটা চিনতে পারবেন।

আমাদেরকে সকাল ৬টার দিকে সঠিক স্থানেই নামিয়ে দিল বাস। এরপর খৈইয়াছড়া যাওয়ার রাস্তার মাথায় পেলাম একটা দোকান। দোকানদারের নাম আজাদ। দেখলাম তিনি অভিনব কায়দায় তাওয়ার মধ্যে (বাসায় যেটাতে রুটি বানায়) তন্দুল রুটি বানাচ্ছেন। এদিকে, আমাদের চট্টগ্রামের বন্ধু মুরাদের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তাই ভাবলাম আজাদের দোকান থেকে গরম গরম তন্দুল রুটি খেয়ে নেই। 

তবে তা খাওয়ার জন্য শুধু ডাল পেলাম ওনার দোকানে। তিন বন্ধু তাই অর্ডার দিলাম। ডালে অনেক ঝাল ছিল। ডালের প্লেট নিল পাঁচ টাকা আর রুটি প্রতি পিচ পাঁচ টাকা।

আমাদের নাস্তা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুরাদ চলে এলো। ওই দোকানের সামনে থেকেই সিএনজি পাওয়া যায়। রিজার্ভ রেলগেট পর্যন্ত ৫০ টাকা, ঝিরি পর্যন্ত ১০০ টাকা। আর লোকাল গেলে রেলগেট পর্যন্ত জনপ্রতি ১০, ঝিরি পর্যন্ত ২০ টাকা করে। আমরা ঠিক করলাম ঝিরি পর্যন্তই যাবো। যেহেতু ওইখান থেকেও প্রায় দুই কিলোমিটার ট্রেকিং করা লাগবে।

প্রায় ১৫ মিনিট পর আমরা পৌঁছলাম ঝিরির কাছে। ওইখানে কয়েকটা দোকান আছে। খুব সকাল হওয়ায় আমরা মাত্র একটা দোকান খোলা পেলাম। সেখানে নেমেই আমরা ছোট টুকরা করা বাঁশ কিনলাম। সেখানে পাঁচ ও ১০ টাকায় বাঁশ পাওয়া যায়। আবার ঘুরে এসে ফেরত দিলে কিছু টাকা ফেরতও দেয়। আমরা দামাদামি করে ১০ টাকার বাঁশ আট টাকা দিয়ে কিনলাম।

ওইসব দোকানে বিভিন্ন ধরনের টুকিটাকি খাবার পাওয়া যায়। আমরা কলা খেলাম। ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় কলাগুলোর স্বাদই অন্যরকম। আমরা একেকজন ৪/৫টা করে খেয়ে ফেললাম। আর আপনি যদি ট্রেকিং শেষ করে দুপুরের খাবার এখানে খেতে চান, তাহলে যাওয়ার আগেই খাবারের অর্ডার দিয়ে যেতে হবে।

আগের তুলনায় এখন খাবারের দাম বাড়লেও আমাদের শহরের মানুষের জন্য খাবার সেখানে বেশ সস্তাই বলতে হবে। সেখানে, আপনি গরুর গোশত, মুরগি (দেশি, ফার্ম), মাছ, ডিম, ভর্তা দিয়ে ভাত খেতে পারবেন। গরুর গোশত ৮০, মুরগি ৬০/৮০, মাছ ৫০, ভর্তা ১০, ডাল ফ্রি এমন দামে খাবারগুলো বিক্রি হয়।

আপনি চাইলে প্যাকেজও নিতে পারবেন। আমরা গরুর গোশত, ভর্তা, ডাল, ভাত খেয়েছিলাম জনপ্রতি ১০০ টাকা করে। যদিও দোকানদার ১১০ টাকা চেয়েছিল। ১০০ টাকা দিয়ে খেয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে দাম ঠিকই আছে। একদমই বেশি রাখেনি। তবে আপনি আরেকটু দামাদামি করে দেখতে পারেন।

খাবারের অর্ডারের পর্ব শেষ করে আমরা অতিরিক্ত জামা-কাপড়ের ব্যাগ ওই দোকানে রাখলাম। প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সঙ্গে নিলাম। যেমন, পানির বোতল, খাবার স্যালাইন, মোবাইল, মানিব্যাগ, ক্যামেরা, একটা টি-শার্ট, থ্রি-কোয়ার্টার, গামছা ইত্যাদি। ট্রেকিং করার সময় জিনিস-পত্র যত কম নেওয়া যায় ততই ভালো। আপনি যে দোকানে খাবারের অর্ডার দিবেন সে দোকানদার আপনার ব্যাগগুলো স্বাচ্ছন্দেই রাখবে। এরজন্য কোনো টাকা দেয়া লাগে না।

যেহেতু আমাদের প্রথমবার ভ্রমণ। আমরা দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম কোন গাইড নিব কী না? বা গাইড ছাড়া আমরা যেতে পারবো কী না? ওনি আমাদের বললেন ঝিরি ধরে হেঁটে গেলেই হবে। গাইড লাগবে না। আমরাও সিদ্ধান্ত নিলাম গাইড নিব না। পাহাড়ে হারিয়ে গেলে সেটা হবে আরও অ্যাডভেঞ্চার।

আমরা ঝিরি ধরে হাঁটা শুরু করলাম। পাহাড়ি আকা-বাঁকা পথ, কখনও ঢাল বেয়ে নামতে হয় কখন উপরে উঠতে হয়। এর মাঝে চোখে পড়লো কিছু আদিবাসি ও স্থানীয় শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে।

ধান ক্ষেত, ছোট ছোট পাহাড় পেরিয়ে আমরা কিছুক্ষণ পর চলে এলাম বসতবাড়ি এলাকার বাহিরে। এরপর শুধু ঝিরি, পাহাড় আর জঙ্গল। আমরা হাঁটতে লাগলাম। কখনও পায়ে কাঁদা মেখে একাকার আবার কখনও ঝিরির পানিতে তা ধুয়ে পরিস্কার। কোথাও ঝিরির পানি কম, কোথাও বেশি। এর মধ্যে এতটুকু বুঝকে পারলাম ভাল ট্র্যাকিং সু না থাকলে খালি পায়ে হাঁটাই ভালো।

হাঁটতে হাঁটতে যখন ক্লান্ত তখন একটা করে কলা আর ম্যাংগো বার খেয়ে নিলাম। সাথে পানি আর খাবার স্যালাইনতো আছেই। এভাবে প্রায় এক ঘণ্টা হাঁটার পর আমরা কাঙ্ক্ষিত ঝর্ণার দেখা পেলাম। ওই দিনের মতো প্রথম খৈইয়াছড়া আমরাই জয় করলাম।

ঝর্ণা দেখে আর লোভ সামলাতে পারলাম না। সবার আগে আমি ঝর্ণার পানিতে গা বিঝিয়ে ক্লান্তি দূর করে নিলাম। কিছুক্ষণ চললো আমাদের লাফালাফি। এরপর আরও দুইটা গ্রুপ এলো। 

এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম উপরে উঠবো। সাজ্জাদের পায়ে ব্যথা থাকার কারণে ও ঠিক করলো যে উপরে সে যাবে না। আমরা তিনজন উপরে উঠা শুরু করলাম। খুব সতর্কতার সাথে উপরে উঠতে হয়। যেকোনো সময় পা ফসকে যেতে পারে। আর তা হলেই বিপদ। কী হবে সেটা আর চিন্তা করতে চাচ্ছি না। 

বৃষ্টির দিন থাকায় মাটি ছিল খুবই পিচ্ছিল। আগে থেকে বেঁধে রাখা রশি, গাছের শিকড় ধরে অনেক কষ্টে উপরে উঠলাম। সে এক অন্যরকম অনুভূতি। যা লিখে বা বলে বুঝানো যাবে না। উপরের ধাপে উঠে ঝিরি ধরে কিছুক্ষণ হাঁটার পর পেয়ে গেলাম আরও তিন ধাপ।

সেই তিন ধাপ দেখে বুঝলাম খৈইয়াছড়াকে কেন ঝর্ণার রাণী বলা হয়। আবার পাহাড় বেয়ে উঠে তিন ধাপের মাঝামাঝি গিয়ে আমিও মেনে নিলাম এটাই ঝর্ণার রাণী। সিফাত আর মুরাদ জিজ্ঞেস করলো আর উপরে উঠবো কী না?

পরের ধাপগুলো উঠা আরও বেশি ভয়ংকর। সেখানে রশিও দেখতে পেলাম না। আমি আত্মসমর্পণ করলাম। বললাম এবারের মতো এতটুকুই থাক।

নামতে গিয়ে বুঝলাম যে আসলে কোথায় উঠেছি। উঠতে যত কষ্ট হয়েছে নামতে আরও বেশি কষ্ট হলো আমার। বারবারই মনে একটা প্রশ্ন জাগলো, পাহাড়ে উঠতে বেশি কষ্ট, না নামতে? 

অবশেষে নিরাপদেই নেমে আসলাম। অবশ্য মুরাদ আর সিফাত সাহায্য না করলে আমি নামতে পারতাম না। নেমেই ঝর্ণার পানিতে শুয়ে পড়লাম। এরপর বিস্কুট আর কলা দিয়ে নাস্তা করলাম। যা আমরা সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলাম।

এবার ফেরার পালা। তখন মনে হলো আরও কিছুক্ষণ থাকি। কিন্তু তা আর হলো না। আসতেই হলো। আবার পাহাড়ি আকা-বাঁকা, উচু-নিচু রাস্তা আর ঝিরি পার করে আসলাম সেই দোকানে। যেখানে আমাদের খাবারে অর্ডার করাই ছিল। এসে দেখি খাবার রেডি। আমরা টিউবওয়েলের পানিতে গোসল করলাম। জামা-কাপড় চেঞ্জ করে খাবার খেতে বসলাম।

খাবার মুখে দিয়ে মনে হলো অমৃত খাচ্ছি। বন্ধুদের বললাম রান্না খুবই ভাল। সিফাত বলল যে পরিমান ক্ষুধা লাগছে এখন যা দিবে তাই ভালো লাগবে। পেট ভরে ভাত খেলাম। তবে রান্নাটা আসলেই ভাল ছিল। শুধু ঝাল একটু বেশি। যারা ঝাল কম খায় তাদের জন্য একটু প্রবলেম হবে।

খাওয়ো শেষ করে দুপুর দুইটার দিকে ঠিক একই ভাবে সিএনজি দিয়ে আমরা আসলাম বড়তাকিয়া মহাসড়কে। গন্তব্য গুলিয়াখালি সি-বিচ। বড়তাকিয়া দাঁড়ালেই লোকাল বাস পাওয়া যায়, যা সীতাকুণ্ড পর্যন্ত যায়। আমরা অপেক্ষা না করে একটা টেম্পুতে উঠলাম। সেটা দিয়ে জনপ্রতি ২০ টাকা করে ভাড়া দিয়ে নামলাম দারোগাহাট। এরপর আরেক টেম্পুতে উঠে জনপ্রতি ৩০ টাকা করে ভাড়া দিয়ে চলে এলাম সীতাকুন্ড বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে একটা সিএনজি রিজার্ভ করে চলে গেলাম গুলিয়াখালী সি বিচ বেরিবাঁধ। অবশ্য সিএনজিচালককে মুরাদপুর বিচ বলতে হয়েছে। 

বেরিবাঁধে নেমে সমুদ্রে যাওয়ার কোন রাস্তাই দেখতে পেলাম না। স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করতেই দেখিয়ে দিলো। আপনাকে বিচে যেতে সবুজ কার্পেটে মোড়ানো ঘাসের মাঠের উপর দিয়ে। দৃশ্যটা শুধু সুন্দরই না! অ্যাডভেঞ্চার ও আছে। সবুজ কার্পেটের (ঘাস) নিচেই কাদা। পা ফেললেই প্রায় হাটু পর্যন্ত ঢুকে যায় মাটির নিচে। আর যেখানে কাদা নেই সেই জায়গাটা খুবই পিচ্ছিল। তাই খুবই সতর্কতার সাথে পা ফেলতে হবে।

পিছনে পাহাড় আর কাদামাখা ও পিচ্ছিল পথ কিছুক্ষণ হাটারা পরেই আমরা পৌছে গেলাম বিচে। দেখলাম সমুদ্রটা যেন একটা বাগানের ভেতরে চলে এসেছে। বিচে ঘাষের উপর বসার লোভ আপনি কোনোভাবেই সামলাতে পারবেন না। মনে হবে সবুজ বিছানা পেতে রাখা হয়েছে আপনার জন্য। তবে ঘাসের উপর বসার আগে ঘাস ভালো করে দেখে বসুন। কেননা, একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন ঘাসের উপর তেল পড়ে আছে। স্থানীয়রা জানালো, পাশেই জাহাজ কাটা হয়। তাই এই এলাকার পানিতে জাহাজের তেল ভাসে। আমরাও সমুদ্রের মধ্যে একটি জাহাজ নোঙর করা দেখেছি। তবে জায়গাটায় সৌন্দর্যের দিক থেকে কোনো কমতি নেই। ছবি তোলার জন্য অসাধারণ স্থান।

অবশেষে সমুদ্র, পাহাড় আর ঝর্ণাকে বিদায় দিয়ে আমাদের ঢাকায় ফিরতে হলো। সীতাকুণ্ড থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার শ্যামলী পরিবহনে করে ঢাকায় ফিরলাম আমরা। কোন রকম কৃপনতা ছাড়াই ঢাকা থেকে যাওয়া-আসাসহ আমাদের তিনজনের খরচ হয়েছে জনপ্রতি ১৫০০ টাকা করে। এ টাকা দিয়ে একদিনের ট্যুরে যা দেখেছি তা ১৫ হাজার টাকার সমান ট্যুর দেয়া হয়েছে বলতেই হবে।

চাইলে আপনিও আজই বেরিয়ে পড়তে পারেন অসাধারণ এক অভিজ্ঞতার জন্য। তবে খৈইয়াছড়া ঝর্ণাসহ প্রায় সব পর্যটন এলাকাতেই যেখানে-সেখানে চিপস-বিস্কুটের প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের ময়লা ফেলে সুন্দর পরিবেশগুলো ময়লা করে ফেলছি আমরা। যা প্রকৃতি ও পরিবেশের পাশাপাশি আমাদের জন্য হুমকির কারণ। তাই আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি পরিবেশ যাতে নোংরা না হয়। সবাই সবার জায়গা থেকে সচেতন হয়ে পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করি।

(ঢাকাটাইমস/০৫আগস্ট/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :