আন্দোলনে বেশি সংকটে পোশাক শিল্প: বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৮, ১৯:২৩ | প্রকাশিত : ০৬ আগস্ট ২০১৮, ১৯:১৯

নিরাপদ সড়কের দাবিতে এক সপ্তাহের আন্দোলনে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড অ্যাক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে গেলেও যানবাহন চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। আমরা গত এক সপ্তাহে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ঠিকমতো পোশাক শিল্পের আমদানি ও রপ্তানি পণ্য আনা-নেয়া করতে পারিনি।’

সোমবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য সিদ্দিকুর রহমান এসব কথা বলেন। ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, ‘আমরা শঙ্কার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, ছাত্ররা ঘরে ফিরে গেলেও যানবাহন পরিস্থিতি এখনও  স্বাভাবিক হতে পারেনি। সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে পর্যাপ্ত যানবাহন নামেনি। ফলে, জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প।’

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এমনিতেই আমরা গত এক সপ্তাহে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ঠিকমতো পোশাক শিল্পের আমদানি ও রপ্তানি পণ্য আনা-নেয়া করতে পারিনি। ফলে বন্দরে কন্টেইনার ভর্তি রপ্তানির পণ্য পড়ে আছে, আর জাহাজীকরণের অপেক্ষায় কারখানায় পড়ে আছে তৈরি পণ্য। এ অবস্থায় যানবাহন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অনেক কারখানা  স্টকলটের শিকার হবে। অনেক কারখানা এয়ার ফ্রেইট করতে বাধ্য হবে। আর এর মাশুল দিতে হবে পোশাক শিল্পকে।’

‘আমরা যখন অ্যাকোর্ড ও অ্যালায়েন্স এর সব শর্ত পূরণ করে নিজেদের মতো করে চলার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আমাদেরকে পিছিয়ে দেয়। আমরা হতোদ্যম হয়ে পড়ি। ক্রেতাদেরও আস্থাহানি ঘটে। শিল্পের ভাবমূর্তি ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, যা মোটেই কাম্য নয়। ’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো কর্মকাণ্ড চাই না, যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত ও স্থবির করে দেয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করে, ব্যবসা-বাণিজ্য পিছিয়ে দেয়।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘এই সাত দিনে আমাদের কত ক্ষতি হয়েছে এর হিসাব আমাদের কাছে নেই।  ক্রেতারা আগস্ট মাসে আমাদের কাছে পরবর্তী সিজনের জন্য তৈরি পোশাকের অর্ডার নেয়। বিদেশি দুই থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান তাদের বাংলাদেশে আসার ট্রিপ আপাতত বাদ দিয়েছে। অনেকে তাদের ট্রিপ (বাংলাদেশে আসা) পরিবর্তন করেছে। তারা না এলে তাদের কাছে আমাদের যেতে হবে। এতে আমাদের ক্ষতি হয়েছে। এটা আমরা পুষিয়ে নিতে পারবো যদি এখন থেকে সবকিছু স্বাভাবিক থাকে। তবে দেশে এমন অস্থিরতা তৈরি হলে আমাদের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়।’

এই সংকটে সামনে ঈদে শ্রমিকদের বেতন দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের ব্যবসা করতে হলে শ্রমিকদের বেতন দিতেই হবে।

‘নৈতিকতা ও কর্তব্যবোধ জাগিয়েছে

লিখিত বক্তব্যে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘গত ২৯ জুলাই দুঃখজনক বাস দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী রাজিব ও মীমের মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণের ঘটনায় আমরা মর্মাহত। তারাসহ সাম্প্রতিক সময়ে আরও যারা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের রুহের মাগফেরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। সেইসাথে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা। আমি আন্দোলনকারী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাই এজন্য যে, তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সড়ক ছেড়ে ঘরে ফিরে গেছে। তবে আমাদের এই সন্তানেরা যে কাজটি করেছে, তা বিশাল। তারা সবাইকে দেখিয়ে ও বুঝিয়ে দিয়েছে যে, সড়কে কত নৈরাজ্য রয়েছে, কত বিশৃঙ্খলা রয়েছে। তাদের এই আন্দোলন সবার টনক নড়িয়ে দিয়েছে- সবার মধ্যে নৈতিকতাবোধ ও কর্তব্যবোধ জাগিয়ে তুলেছে, আইন প্রয়োগে নৈতিক ভিত্তি দিয়েছে। আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই এজন্য যে, সরকার নিরাপদ সড়কের জন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সব যৌক্তিক দাবির প্রতি ইতিবাচকভাবে সমর্থন দিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও আন্তরিক থেকেছেন শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি।’

প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের আশা

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সরকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া পূরণে দৃশ্যমান নানা পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এ বিষয়ে আইন প্রণয়নসহ আরও কঠোরভাবে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। আমরা আশা করবো, এগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। কারণ, নিরাপদ সড়ক আমাদেরও দাবি। আমরা কখনোই কামনা করি না, সড়ক দুর্ঘটনায় একটিও প্রাণ ঝরে পড়ুক।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নিরাপদ সড়কের জন্য অনেক বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। কঠোর আইন যেমন দরকার, এর যথাযথ প্রয়োগও তেমনই নিশ্চিত করতে হবে। চালকদের নিয়মিতভাবে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। যাত্রী, চালকসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক দ্বারা গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে।

দেশের অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরে বিজিএমইএর সভাপতি  বলেন, এ অবস্থায় আমরা একান্তভাবে আশা করি, এমন কোনো কর্মসূচি নেয়া হবে না, যাতে করে আমাদের এই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়, উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। আমরা জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও দেশের ব্যবসা বাণিজ্য অব্যাহত রাখার বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি এস.এম মান্নান (কচি), সহ-সভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাছির, পরিচালক মনির হোসেন, পরিচালক ইনামুল হক খান (বাবলু), পরিচালক আ.ন.ম. সাইফউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/০৬আগস্ট/জেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :