আন্দোলনের প্রভাব বৃক্ষমেলায়

রহমান আরিফ, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৪৯ | প্রকাশিত : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ১৮:২৩

বৃক্ষমেলায় সবুজের মাঝে হাঁটাহাঁটি করতেই কানে এলো একতারার সুর। একটু উঁকি দিতেই দেখা মিলল একতারা বাদকের। না, তিনি কোনো প্রফেশনাল একতারা বাদক নন। তিনি এইচএ এগ্রো’র কর্মচারী আব্দুল জলিল।

আপনি খুব সুন্দর একতারা বাজান, এমন প্রশংসা শুনে হেসে বললেন, মেলায় বেচা-বিক্রি নেই। তাই পাশের দোকান থেকে এই একতারাটা এনে বাজাচ্ছি।

বেচা-বিক্রি কেন নেই জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষর্থীরা আন্দোলন করছে। তাদের এই আন্দোলন বিভিন্ন দিকে মোড় নিয়ে দেশে এখন অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। তাই মানুষজন মেলায় আসছে কম।

মাসব্যাপী এই বৃক্ষ মেলা চলছে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাণিজ্য মেলার মাঠে।  

ইয়ামিন নার্সারির মালিক মোহাম্মদ হাসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, মেলার শুরুর দিকে বেচা-বিক্রি ভালো হলেও দেশের বর্তমান অস্থিরতার কারণে বেচা-বিক্রি একদমই নেই।

আপনাদের লক্ষ্য ছিল কেমন, আর এখন বিক্রি হচ্ছে কেমন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মেলার এই মাঝামাঝি সময়ে আমাদের প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও এখন দিনের খরচই উঠে না।

পুরো মেলায় তাদের ২০ লাখ টাকার উপরে বিক্রি হওয়ার টার্গেট থাকলেও এখন চার-পাঁচ লাখ হবে কি না তা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন তিন। তিনি আরও যোগ করেন, অস্থিরতা না থাকলে কারও সঙ্গে কথা বলার সময়ই পেতাম না। আর এখন কথা বলেই সময় কাটাই।

গ্রিন মার্টের সামনে দিয়ে যেতেই দেখা মেলে দু’জন অলস ভঙ্গিতে বসে আছেন। এর মধ্যে একজনতো টেবিলে মাথা রেখে প্রায় ঘুমিয়েই পড়েছেন। বেচা-বিক্রি কেমন হচ্ছে জিজ্ঞেস করতেই হতাশা নিয়ে একজন বললেন, দেখেইতো বুঝতে পারছেন, বেচা-কেনা কেমন হচ্ছে। মানুষ মেলায় আসতেই পারছে না। বেচা-বিক্রি হবে কীভাবে? বিক্রি কি মোটেই হচ্ছে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মোটেই হচ্ছে না ব্যাপারটা এরকম নয়। তবে যা বিক্রি হচ্ছে সেটাকে বিক্রি বলা যায় না। কেননা এই বিক্রিতে তাদের খরচই উঠে না বলেও জানান তিনি।

পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, ‘আমার নাম মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। আমি গ্রিন মার্টের কর্মচারী।’ আপনাদের মালিক কই? উত্তরে তিনি জানান, মালিক থাকেন মুন্সীগঞ্জে। গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় তিন দিন ধরে মালিকও দোকানে আসতে পারছেন না।

এসময় তিনি আরও বলেন, আমরা সারা বছর অপেক্ষা করি এই মেলার জন্য। গত বছরও মেলা হয়েছিল রোজার সময়ে। তাই বিক্রি কম হয়েছে। ভেবেছিলাম এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেব। এবারও তা হলো না। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা করার সুযোগ চান নার্সারি ব্যবসায়ীরা।

(ঢাকাটাইমস/০৭আগস্ট/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :