একনেকে তিন সড়ক প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ২০:২৫

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনটি সড়ক প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো হলো ‘সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট সড়ক ‍উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘বীরগঞ্জ-খানসামা-দাড়োয়ানী, খানসামা-রাণীবন্দর এবং ‘চিরিরবন্দর-আমতলী বাজার জেলা মহাসড়ককে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় ‍উন্নীতকরণ প্রকল্প, ‘কুলাউড়া-পৃথিমপাশা-হাজীপুর-শরীফপুর সড়কের ১৪তম কিলোমিটারে পিসি সেতু নির্মাণ ও ৭.৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প। প্রকল্প তিনটিতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৪১০ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ তিনটি প্রকল্পসহ ১১টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ছয় হাজার ৪৪৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্প সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

‘সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট সড়ক ‍উন্নয়ন প্রকল্পের’ মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, নেয়াখালির কেন্দ্রেস্থল সোনাপুর চেয়ারম্যানঘাট হয়ে দ্বীপ এলাকা হাতিয়া, ভাসানচর, স্বর্ণদ্বীপ যাওয়ার জন্য দ্রুত নিরাপদ ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নতকরণ; দুর্ঘটনা হ্রাসকরণ এবং দ্রুত যানবাহন ও মালামাল পরিবহন বৃদ্ধি; একল্প এলাকার আর্থ-সামাজিক কার্যক্রম উন্নয়ন। এজন্য ১৬৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা প্রকল্প  ব্যয় ধরা হয়েছে। যে টাকার পুরোটাই সরকার ব্যয় করবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের আওতায় সোনাপুর থেকে শুরু হয়ে মান্নানগর-চরজব্বার হয়ে হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন হবে; যার দৈর্ঘ্য ৪৩ কিলোমিটার ও প্রস্থ ৫.৫ মিটার। প্রকল্পটির প্রধান কার্যক্রম গুলো হচ্ছে, তিন লাখ ৮৬ হাজার ৬৮৬ ঘন মিটার সড়ক বাঁধ প্রশস্তকরণ, ৪২ হাজার ৯৪৪ কিলোমিটার পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ, ৪২ হাজার ৯৪৪ কিলোমিটার পেভমেন্ট মজবুতিকরণ, ৫৬ মিটার কালর্ভাট নির্মাণ, এক হাজার ৬৮৫ মিটার ব্রিক মেশনারি টো-ওয়াল, দুই হাজার ৮৪২ মিটার আরসিসি প্লেট প্যালাসাইডিং এবং পাঁচ হাজার ৫৮০ মিটার সসার ড্রেন নির্মাণ, ট্রাফিক সাইন, সাইন পোস্ট, কনক্রিট গাইড পোস্ট, ডিরেকশন সাইন বোর্ডসহ অন্যান্য কাজ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির উন্নয়নে পর্যটন খাতে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও যোগাযোগব্যবস্থার নাজুকতার কারণে তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপ, হাতিয়া, ভাসানচর এবং স্বর্ণদ্বীপে পর্যটক টানতে সড়ক উন্নয়ন হচ্ছে। এজন্য ১৬৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

আর ‘বীরগঞ্জ-খানসামা-দাড়োয়ানী, খানসামা-রাণীবন্দর এবং চিরিবন্দর-আমতলী বাজার জেলা মহাসড়ককে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় ‍উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা যা পুরোটাই সরকার দেবে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, দিনারজপুর ও নীলফামারী সড়ক বিভাগাধীন তিনটি জেলা মহাসড়ককে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় ‍উন্নীতকরণের মাধ্যমে টেকসই, নিরাপদ, ব্যয় সাশ্রয়ী সড়ক অবকাঠামো এবং সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর চলতি বছর জুলাই থেকে জুন ২০২১ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ‘কুলাউড়া- পৃথিমপাশা-হাজীপুর-শরীফপুর (জেড-২৮২২) সড়কের ১৪তম কিলোমিটারে পিসি সেতু (রাজাপুর সেতু) নির্মাণ ও ৭.৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। যার পুরোটাই সরকার ব্যয় করবে। প্রকল্প এলাকা মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২১ এর জুন পর্যন্ত। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, কুলাউড়া-পৃথিমপাশা-হাজীপুর-শরীফপুর সড়কের ১৪ কিলোমিটারে ২৩২.৯৪ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু (রাজাপুর সেতু) ও ৭.৫০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে উন্নত ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন।

(ঢাকাটাইমস/০৭আগস্ট/জেআর/জেবি)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :