মাহবুবের নোট অব ডিসেন্ট ‘কথা বলতে না পেরে’

প্রকাশ | ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
সভা বর্জন করে বেরিয়ে আসছেন ইসি মাহবুব

নির্বাচন কমিশন সভায় যোগ না দিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে তা বর্জন করার চারটি কারণ জানিয়েছেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এর মধ্যে আছে, তাকে বক্তব্য রাখতে না দেয়া, তার প্রস্তাব অনুযায়ী কাজ না করা, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে উঠে আসা বিষয়বস্তু নিয়ে কমিশন সভায় আলোচনা না করা প্রভৃতি।

মাহবুব তালুকদার বলেছেন, এসব ঘটনায় তিনি বিস্মিত ও মর্মাহত হয়েছেন। আর অনুন্যাপায় হয়ে আমি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।

সোমবার বেলা ১১ টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশন সভা শুরু হয়। সভা শুরুর ৭ মিনিট পর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করে বের হয়ে আসেন মাহবুব তালুকদার। সে সময় তিনি এই সিদ্ধান্তের কারণ না জানালেও পরে তার ‘নোট অব ডিসেন্ট’টি ঢাকাটাইমসএর হাতে এসেছে।

এই নির্বাচন কমিশনার লেখেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ অংশীদারত্বমূলক ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে কতিপয় প্রস্তাবনা' শিরোনামে গত ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি তার বক্তব্য আজকের নির্বাচন কমিশন সভায় উপস্থাপন করতে সিইসি বরাবরে নোট পাঠান। পরবর্তীতে এর একটি সংশোধনীও পাঠানো হয়। পরে ৮ অক্টোবর কমিশন সচিবালয় থেকে নোটের মাধ্যমে আমাকে জানানো হয়, তারর প্রস্তাবনাগুলি ১৫ অক্টোবর ৩৬তম কমিশন সভায় উত্থাপন করার জন্য সিইসি তাকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

দ্বিতীয় অংশে মাহবুব তালুকদার লিখেন, গত ৩১ জুলাই ২০১৭ থেকে ২৪ অক্টোবর ২০১৭ পর্যন্ত প্রায় তিন মাস নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করে। এতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অংশীজন ছাড়াও ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। পরে তা একত্রিত করে বই আকারে প্রকাশ করা হয়। তবে সংলাপের বিষয়ে আজ পর্যন্ত কমিশন সভায় কোনো আলোচনা করা হয়নি।

‘সংলাপের কোনো কার্যকারিতা পরিলক্ষিত না হওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আমি এটির পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং অংশীজনের সংলাপের আলোকে উপরোক্ত শিরোনামে প্রস্তাবনাসমূহ লিপিবদ্ধ করে কমিশন সভায় পেশ করার নিমিত্তে কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানাই।’  

তৃতীয় অংশে মাহবুব লিখেন, ‘আমার প্রস্তাবনাসমুহ যাতে কমিশন সভায় উপস্থাপনা করতে না দেয়া হয়, এজন্য তিন জন মাননীয় নির্বাচন কমিশনার এক এবং অভিন্ন চিঠি লিখে পৃথক পৃথক নোটরে মাধ্যমে মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদের সঙ্গে একমত হওয়ার আমাকে প্রস্তাবনাসমূহ করতে দেয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন সভায় আমার বক্তব্য উপস্থাপন করতে না দেয়ায় তাদের অভিন্ন অবস্থান আমাকে বিস্মিত ও মর্মাহত করেছে।’

চতুর্থ অংশে মাহবুব লিখেন, ‘বাক প্রকাশের স্বাধীনতা ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান প্রদত্ত আমার মৌলিক অধিকার। নির্বাচন কমিশন কেনোভাবেই আমার এই অধিকার খর্ব করতে পারে না। এমতাবস্থায় অনুন্যাপায় হয়ে আমি নির্বাচন কমিশনের এরূপ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‌নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করছি এবং প্রতিবাদস্বরূপ নির্বাচন কমিশন সভা বর্জন করছি।’

এর আগে গত ৩০ আগস্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিপক্ষে মত দিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধন নিয়ে কমিশন সভা চলাকালে বৈঠক বর্জন করেছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা ঠিক হবে না। কারণ, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএম চায় না।’

সে সময়ই মাহবুব তালুকদারের নোট অব ডিসেন্ট দেয়ার বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। আর তখন জানা যায়, রাষ্ট্রপতি যখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন, তখন মাহবুব তালুকদারের নাম দিয়েছিল বিএনপি।

ঢাকাটাইমস/১৫আক্টোবর/জেআর/ডব্লিউবি/ডব্লিউবি