কোটা আন্দোলনের পাঁচ নেতাকে পেটাল ছাত্রলীগ

ঢাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:৪৯

নিরাপদ বাংলাদেশের দাবিতে মানববন্ধন করতে গিয়ে ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পাঁচ নেতা৷

রবিবার দুপুর আড়াইটার সময় টিএসসিতে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।

বিকাল তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকার রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নিরাপদ বাংলাদেশের দাবিতে মানববন্ধন হওয়ার কথা ছিল। সেখানে অংশ নিতে আসেন কোটা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে টিএসসিতে তাদের মারধর করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা৷

মারধরের শিকার সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন মোবাইলে ঢাকাটাইমসকে জানান, 'নিরাপদ বাংলাদেশ চাই' ব্যানারে বিকাল তিনটায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তাদের একটি কর্মসূচি ছিল ৷ কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে তারা টিএসসিতে অপেক্ষা করছিলেন ৷ দুপুরের খাবার খেতে গেলে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখার ৬০-৭০ জন নেতাকর্মী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান৷

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহানুর রহমান ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শহীদুল শানের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

সোহরাবের অভিযোগ, তাকেসহ তাদের সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা ও জসীম উদ্দিন আকাশকে মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ৷ মারধরের পর জসীমকে তুলে নিয়ে গেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা৷ জসীম কোথায় আছেন, তারা জানেন না৷ রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সোহরাব ও ইয়ামিন চিকিৎসা নিচ্ছেন ৷

সোহরাব হোসেন জানান, হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া সোহানুর রহমান সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক জানান, তাদের সংগঠনের পাঁচজন যুগ্ম আহ্বায়ককে মারধর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক৷ সোহরাব হোসেন, বিন ইয়ামিন মোল্লা ও জসীম উদ্দিনসহ অন্য দুজন হলেন আহমেদ কবির ও মো. তারেক রহমান৷ মারধরের পর জসীম উদ্দিনকে তুলে নিয়ে গেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ৷

মারধরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সংগঠনের এই যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ওই মানববন্ধন হওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, এটি আমাদের ওপর ছাত্রলীগের ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অংশ৷ আগের ঘটনাগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ৷'

এই হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি দেবেন বলেও জানান তিনি৷

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, 'আমার কাছে তথ্য এসেছে যে ক্যাম্পাসে কিছু একটা ঘটানোর উদ্দেশ্য নিয়ে দুই ধরনের ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে৷ তারা কোটা করে, না কী করে, সেটাতে আমরা ইন্টারেস্টেড না৷ তারা আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি৷ শিক্ষার্থীদের কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি আমাদের কাছে জানাতে হবে ৷ কিছু হলে কর্তৃপক্ষকে না জানানো এবং তাদের হয়ে অন্য কারোর বিচার চাওয়া- এটা একটা পলিটিকস৷ তাদের হয়তো উদ্দেশ্য খারাপ৷ আমাদের না জানানোর মাধ্যমে ওদের সহযোগিতা করার রাস্তাটা ওরাই বন্ধ করে দেয়৷'

ছাত্রলীগ মারধরে জড়িত নয় দাবি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, 'এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা শুনিনি৷ এটা ভিত্তিহীন অভিযোগ।  সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ একটা ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন করেছিল৷ আমরা সেই ইস্যুর পরিসমাপ্তি দেখেছি৷ তারপরও তারা কোন স্বার্থের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে চায়, সেটা আমরা জানি না৷ যে কোনো ধরনের ঘটনা ঘটলে ছাত্রলীগের দিকেই বা কেন অভিযোগের আঙুল তাক করে, সেটাও আমাদের জানা নেই৷ তারা যদি ছাত্রসংগঠন হত, তাহলে তাদের কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক মনে হত৷ কিন্তু তাদের কার্যক্রমই আমাদের কাছে অস্বাভাবিক ঠেকছে৷'

ঢাকাটাইমস/২৩ডিসেম্বর/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :